আজ- রবিবার, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

রাবিতে নিয়োগের নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি ছাত্রলীগের

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি ০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকল ধরণের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে আন্দোলনকারী চাকরিপ্রত্যাশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে নয়টা প্রশাসনিক ভবনের ফটকের সামনে তারা অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে বেলা সোয়া তিনটার দিকে তারা আন্দোলন স্থগিত করে।

 

 

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সকল ধরণের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়) নীলিমা আফরোজ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে প্রশাসনিক কারণে সব ধরনের নিয়োগ কার্য়ক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বলা হয়।

 

 

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১১ জানুয়ারি) অফিস চলাকালে মো. জালাল নামের একজনকে সেকশন অফিসার পদে এডহক নিয়োগ দেয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কমিটির নেতাকর্শীরা সন্ধ্যার পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকে। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সন্ধ্যা ৭টায় চাকরি প্রত্যাশী ও রাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইলিয়াস হোসেন, সাদেকুল ইসলাম স্বপন ও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ৬ জনের একটি প্রতিনিধিদল উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনের ভেতরে যান।

 

 

সেখান থেকে বেরিয়ে এসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় চাকরি প্রত্যাশী রাবি ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। ফলে উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, অধ্যাপক চৌধুরী মোঃ জাকারিয়া ও প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকালে উপাচার্যের বাসভবনের তালা খুলে দিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা অবস্থান নেন।

 

 

চাকরি প্রত্যাশীরা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান হস্তক্ষেপ করতে পারে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরণের নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ ১১টি চিঠি দিয়েছে। উপাচার্য মন্ত্রণালয়ের এসব নির্দেশনা মেনে নিয়ে নিয়োগ স্থগিত রেখেছেন। ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ হবে, আর উপাচার্য তা মেনে নিলেও আমরা মানব না। নিয়োগের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে হবে।

 

 

আন্দোলনকারীদের একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চলবে ৭৩-এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী। প্রায় এক মাস আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় এগুলো মানতে বাধ্য নয়। আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় যাতে মর্যাদা ফিরে পায়। উপাচার্য যদি কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকেন, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু ব্যক্তির অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নষ্ট হতে পারে না।

 

 

এদিকে, সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনে অবরোধ করায় কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রবেশ করতে পারেননি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। প্রশাসনিক কাজে এসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ফিরে যেতে হয়।

 

 

বাংলার কথা/মঈন উদ্দিন/জানুয়ারি ১২, ২০২১

 

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn