আজ- মঙ্গলবার, ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ানোই চ্যালেঞ্জ

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

এসএম আলমগীর

ভয়ঙ্কর একটি বছর পার হলো। ভাইরাসে ওলট-পালট হয়ে গেছে সবকিছু। করোনাভাইরাস থমকে দিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। যেভাবেই হোক অবশেষে বিদায় নিল বিষেভরা বিশ।

 

আজ থেকে শুরু হলো নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন, নতুন আশায় পথচলা।
কষ্টের বছরটি তো চলেই গেল। নতুন বছরটি কেমন যাবে, সামনে কী চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে এবং সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলই বা কী হবে, সেটিই এখন মুখ্য বিষয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন বছরের প্রথমার্ধ যাবে করোনা মোকাবিলায়, দ্বিতীয়ার্ধ থেকে শুরু হবে ঘুরে দাঁড়ানো। তা ছাড়া থাকবে অনেক চ্যালেঞ্জ, মিকাবিলা করতে হবে নতুন নতুন কৌশলে।

বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, নতুন বছরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনার ভ্যাকসিনেশন চালু করা। সময়মতো ভালো ভ্যাকসিন এনে দেশের মানুষকে দেওয়া সবচেয়ে বড় কাজ। অর্থনীতিকে গতিশীল করা ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনাও বড় চ্যালেঞ্জ। আরেক বড় চ্যালেঞ্জ বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা এবং স্থবির হয়ে পড়া শিক্ষাব্যবস্থাকে গতিশীল করা।

 

করোনা দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পগুলোকে একেবারে নাজুক করে দিয়েছে। এসব খাতের উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের আবারও উৎপাদনের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা একটি চ্যালেঞ্জ। করোনাভাইরাস চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দেশের চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য খাতের কী ভঙ্গুর দশা। নতুন বছরে ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়াও অনেক চ্যালেঞ্জ। তৈরি পোশাক খাতসহ রফতানি বাণিজ্য করোনার কারণে অনেকটাই থমকে গিয়েছিল। নতুন বছরে রফতানি খাতকে গতিশীল করতে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে করোনার প্রকোপ কমে এলে পোশাকের ক্রয়াদেশ বাড়তে পারে ৩০ শতাংশের মতো। এই বাড়তি রফতানি আদেশ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করাও একটি চ্যালেঞ্জ।

 

স্বাস্থ্যের চ্যালেঞ্জ : করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর দশা ফুটে উঠেছে চরমভাবে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ বেশ ভালো। কিন্তু স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো দুর্যোগ মোকাবিলা করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। বছরের পর বছর স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগে যে অবহেলা দেখানো হয়েছে, তা এবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। এ জন্য নতুন বছরে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানোর একটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে করোনা ভ্যাকসিন আমদানি করে দেশের মানুষকে দিতে হবে। তারপর স্বাস্থ্য খাতের কোথায় কী দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে ঠিক করতে হবে।

 

শিক্ষার চ্যালেঞ্জ : ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর শিক্ষা খাত নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে গত ১৮ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর ধাপে ধাপে বাড়ে সেই ছুটির মেয়াদ। সর্বশেষ ১৮ ডিসেম্বরের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনার কারণে স্থগিত করা হয়েছে পিইসি, জেএসসি, এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষাও। জেএসসির ২৫ শতাংশ ও এসএসসির ৭৫ শতাংশ ফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশের কথা ছিল ডিসেম্বরের মধ্যে। সেটি করা যায়নি। নতুন বছরের একেবারে শুরুতেই ফল প্রকাশ করা হতে পারে। অন্যদিকে এইচএসসির ফল প্রকাশ না করায় আটকে আছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা। এ ছাড়া কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

 

অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ : জীবন ও জীবিকার ওপর আঘাতের যে চিত্র বছরজুড়ে মানুষ দেখেছে, গত ১০০ বছরেও তা দেখা যায়নি। অর্থনৈতিক মন্দার আভাস ছিল ঠিকই, কিন্তু বিশ্বব্যাপী ছোট-বড় সব অর্থনীতি একসঙ্গে এভাবে বিপর্যয়ে পড়বে, কেউ ভাবতে পারেনি। করোনা আসার আগেই অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দুর্বল অবস্থায় ছিল। যেমন রফতানি নেতিবাচক ছিল। কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় হয়নি। এর মানে, ভোক্তা ব্যয় দুর্বল ছিল। আর আমদানি বিশেষ করে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি আগের চেয়ে কমে যাচ্ছিল। এটি বিনিয়োগ দুর্বলতা প্রকাশ করে। এমন অবস্থায় করোনা সব তছনছ করে দেয়। অন্য সময় অর্থনীতিতে যত আঘাতই আসে না কেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। পড়লেও তা সাময়িক। কিন্তু করোনা এই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। নতুন বছরে অর্থনীতির এসব দিকগুলোকে সচল করা বড় চ্যালেঞ্জ।

 

আবাসন খাতে চ্যালেঞ্জের মাঝে আশার আলো : আবাসন শিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন নতুন বছরের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সময়ের আলোকে জানান, নতুন বছর আবাসন শিল্পের জন্যও একটি চ্যালেঞ্জের বছর। করোনা শুরুর দিককার সময় আর এখনকার সময় এক রকম না। সে সময়ে মানুষের অবস্থা আর এখনকার অবস্থার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। শুরুতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল, ঘর থেকে বের হতো না। সবকিছুই বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন করোনার পাশাপাশি সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে। এ জন্য ২০২১ সালে আবাসন খাতের উদ্যোক্তাদের অনেক চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। ক্রেতারা তাদের ফ্ল্যাট ও প্লট বুঝে নেওয়ার জন্য চাপ দেবে। এ জন্য আমরা যারা এ খাতের উদ্যোক্তা তাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, নতুন বছরে চ্যালেঞ্জের মাঝেও আশার আলো আছে আবাসন খাতের জন্য। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে কোনোরকম প্রশ্ন ছাড়া। বিদায়ি ২০২০ সালে করোনার মাঝেও আবাসন খাতের সুফল পেয়েছে। বিদায়ি বছরে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ২০২১ সাল, অর্থাৎ নতুন বছরে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ আরও বাড়বে। যার মাধ্যমে আবাসন খাত চাঙ্গা হবে নতুন বছরে। সরকার আবাসন খাতের জন্য বেশ কিছু ছাড় দিয়েছে, বিশেষ করে জমি রেজিস্ট্রেশন কস্ট কমিয়েছে, ব্যাংক থেকে হোম লোন পাওয়া যাচ্ছে এখন, সর্বশেষ করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির জন্য আগামী দুই বছর অর্থাৎ, ২০২২ সাল পর্যন্ত জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত সর্বনিম্ন বাজারমূল্য বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এই নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি নিবন্ধন অধিদফতর থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ আবাসন শিল্পের জন্য স্বস্তির বিষয়। তবে রাজউক যেন নতুন করে এমন কোনো আইন বা নির্দেশনা জারি না করে, যেটি ক্ষতিগ্রস্ত করবে আবাসন শিল্পের।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের চ্যালেঞ্জ : করোনার কারণে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্পের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামে। তারা কোনোভাবে পণ্য বাজারজাত করতে পারেনি। চাহিদাও কম ছিল। ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বেকার হয়ে পড়ে লাখ লাখ শ্রমিক। আবার সরকারি বিভিন্ন সহায়তার ফলে কৃষি খাতের শঙ্কা কাটিয়ে ফসল ঘরে তুলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। কিন্তু কৃষি খাতের অন্য উপশাখা যেমন মৎস্য, পোল্ট্রির মতো ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপর্যয় নামে। নতুন বছরে এসব খাতের দিকে ভালো নজর দিতে হবে।

 

কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ : করোনায় বেকারত্ব ২৪ শতাংশে উন্নীত হয়। রফতানি প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ নেতিবাচক হয়ে যায়। শহরে কাজের সুযোগ কমে যায়। বেকার হয়ে যাওয়ায় মানুষ গ্রামে ফিরে যেতে শুরু করে। গ্রামে ফেরার বাংলাদেশে এমন বিপরীতমুখী প্রবণতা আর কখনও দেখা যায়নি। যেমন গৃহকর্মীরা বাসাবাড়িতে কাজ হারিয়েছে। ঘরভাড়া, খাবারÑ এসব খরচ মেটাতে না পেরে তারা গ্রামে ফিরে গেছে। অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তরা গ্রামে ফিরে গেছে। বেকার ও চাকরিচ্যুতদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা আরেক বড় চ্যালেঞ্জ।

 

পোশাকশিল্প ও রফতানি খাতের চ্যালেঞ্জ : করোনার ঝুঁকি শেষ হলে উন্নত দেশে কেনাকাটা, ভ্রমণ ও ভোগব্যয় বাড়তে পারে। ওইসব অর্থনীতিতে বড় উল্লম্ফন শুরু হবে। রফতানি ও শ্রমশক্তিতে বাংলাদেশ এ সুযোগ নিতে পারে। কিন্তু তখন চাহিদা যত বাড়বে সেই সক্ষমতা আছে কি না, তা দেখতে হবে। যেমন তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ যদি হঠাৎ করে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তা হলে সেই পোশাক তৈরি, বন্দর ও পরিবহন সুবিধা কতটা আছে, তা দেখতে হবে। এ ছাড়া রফতানি আদেশ বাড়লে আমদানিও বাড়বে। সার্বিকভাবে বন্দরের সক্ষমতার কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। ২০২০ সালে যে লোকসান হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে আগামী বছর নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে।

 

ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ : করোনার কারণে অনেক নতুন ও পুরনো ঋণ খারাপ হয়ে পড়বে। এর প্রভাব বোঝা যাবে আগামী বছরে। তাই ২০২১ সাল ব্যাংকগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং বছর হবে। নতুন বছরে নতুন বিনিয়োগও হবে। যখন কোনো সমস্যা হয়, এরপর বিনিয়োগ বেড়ে যায়। নতুন বছরে অনেক দেশ থেকে বিনিয়োগ আমাদের দেশে চলে আসবে। কারণ আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক দেশের থেকে বেশি। ২০২০ সালে যে সুবিধা মিলেছে, তার প্রকৃত অবস্থা কী হয়, তা বোঝা যাবে আগামী বছর। ২০২১ সাল হবে গ্রাহকদের থেকে টাকা আদায়ের বছর। গ্রাহকরা কেমন টাকা ফেরত দিতে পারে, এটার ওপর নির্ভর করবে ব্যাংক খাত কোথায় যাবে।

 

বিশ্লেষকরা যা বললেন : নতুন বছরের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনাকালেও দুর্নীতি তার নিজস্ব গতিতেই চলেছে। মানবতার সঙ্কটকালেও অনেকেই লোভ সামলাতে পারেনি। ঘটেছে রিজেন্ট ও সাহেদ কেলেঙ্কারি, অতি উচ্চমূল্যে সুরক্ষাসামগ্রী কেনার মতো ঘটনা। করোনার কারণে গরিব মানুষের সংখ্যা আরও বেড়েছে। গরিবরা আরও গরিব হয়েছে। তাদের জন্য সরকার বেশ কিছু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিলেও দুর্নীতির কারণে তাদের সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তাই নতুন বছরে দেশের মানুষকে স্বস্তি দিতে হলে দুর্নীতি কমাতে হবে। এর বাইরেও করোনা-পরবর্তী পৃথিবীর জীবনযাপন ও চাহিদায় অনেক পরিবর্তন আসবে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পণ্য ও সেবায় অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন চাহিদা কী হতে পারে, আমরা তা পর্যালোচনা করে এবং নতুন কিছু পণ্য ও সেবা নিয়ে কাজ করতে হবে। নতুন বছর হবে ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। করোনার কারণে যে বাধা সামনে এসেছিল, নতুন বছরে তা পুরোপুরি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।

 

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, নতুন বছরে করোনার ভ্যাকসিনেশন চালু করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন বছরজুড়েই ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালাতে হতে পারে। অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা তাতে প্রবৃদ্ধি অনেক কম হবে। রাজস্ব আয় কমতে পারে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। চাল ও আলুসহ কিছু ভোগ্যপণ্যের মূল্য নতুন বছরেও চড়া থাকতে পারে। রফতানি বাণিজ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নতুন বছরে চাঙ্গা করতে হবে। নতুন বছরের জুন-জুলাইয়ের আগে রফতানি আয় বাড়ার সম্ভাবনা নেই। বিনিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এ জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন বছরেও সরকারকে ধারদেনা করে সংসার চালানোর মতো করে চলতে হবে।

 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন বছরে কয়েক ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন টিকা ছাড়া অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। মানবসম্পদ তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খোলার কৌশল ঠিক করতে হবে। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কারখানার জন্য যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল, তা মাঝারি শিল্প মালিকরা নিয়ে গেছেন। কারণ ছোটরা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নেই। করোনার আগেই আর্থিক খাত সঙ্কটে ছিল। করোনার কারণে ঋণখেলাপি ঘোষণায় শর্ত শিথিল করা হয়। ফলে এখন ব্যাংক খাতের সার্বিক স্বাস্থ্য কেমন, তা বোঝা যাচ্ছে না। এই খাতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, নতুন বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি তার শক্তিমত্তা দেখাবে। অনানুষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোর কর্মসংস্থান উবে যায় করোনায়। তবে সরকার বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে গার্মেন্টস কারখানা চালু রাখে। কৃষির দিকেও সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয়। রফতানি সচল রাখার জন্য সব ধরনের প্রণোদনা দেয়। এসএমই খাতেও প্রণোদনা দেয়। ফলে ২০২০ সালের অর্থনীতি ভালোভাবেই টিকে থাকে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ আরও বাড়ে। এর ইতিবাচক প্রভাব গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়েছে। তা সত্তে¡ও অনেক মানুষের আয়-রোজগার কমেছে। অনেক শ্রমজীবী মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে। দারিদ্র্যের হার অনেকটাই বেড়েছে। তা সত্তে¡ও জিডিপির ৪.৩ শতাংশ পরিমাণ প্রণোদনা দিয়ে সরকার বাজারে অর্থের প্রবাহ অব্যাহত রেখেছে। রেমিট্যান্সের কারণেও বাজারে তারল্য বেড়েছে। অন্য অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ গতিময়ই রয়েছে।

সূত্র: সময়ের আলো

 

বাংলার কথা/জানুয়ারি ০১, ২০২০

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn