সমাপ্ত প্রকল্পের জনবলকে বোঝা নয়, দক্ষ মানবসম্পদ ভাবুন

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

সমাপ্ত প্রকল্পের জনবলকে বোঝা নয়, দক্ষ মানবসম্পদ ভাবুন

-আলী আজগর খোকন

 

 

 

বর্তমানে দেশের উন্নয়ন অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অগ্রগামী এবং সম্ভাবনাময়। বিশ্বের অনেক দেশের উন্নয়নকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের উন্নয়ন। এরইমধ্যে ‘নিম্ন আয়ের’ রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। পেয়েছে ‘মধ্যম আয়ের দেশ’র স্বীকৃতি। অধিক জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করে অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বে শ্রম, আয় আর কার্যকরী পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ‘মধ্যম আয়ের দেশের সূচক’ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

 

দেশে গড়পড়তা ১৫ লক্ষ (প্রায়) স্থায়ী সরকারি কর্মচারি রয়েছেন। রাষ্ট্র ও জনগণের সেবায় তারা নিয়োজিত থাকেন। নিয়োগকালে স্থায়ী কর্মচারীগণ দক্ষ হয়ে কর্মে যোগদান করেন না। কর্মস্থলে কাজের চর্চা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা দক্ষ হয়ে ওঠেন। আবার অস্থায়ী বা বিশেষায়িত লক্ষ্য বাস্তবায়নের নিমিত্ত প্রকল্পভিত্তিক জনবল সরকার নিয়োগ দিয়ে থাকে। নির্দিষ্ট সময় ও উদ্দেশ্যভিত্তিক নিয়োগ দেয়ায় এই জনবল আরও বেশি দক্ষ ও অভিজ্ঞ হয়ে থাকে। দেশের প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ি প্রকল্পের জনবলকে স্থায়ী করা হয় না। স্থায়ী কর্মচারীর মতো সমহারে কাজ করে আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধা পেলেও নির্ধারিত সময়ের পর তাঁরা বেকার ও কর্মহীন হয়ে পড়েন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, প্রকল্পে কর্মহীন জনবল আদালতের দ্বারস্ত হন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা নিজেদের পক্ষে রায় পান এবং স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়োগ লাভ করেন।

 

সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হচ্ছে, বিভিন্ন দপ্তরের প্রকল্পে কাজ করেছেন এমন কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণ তথা স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিযুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। প্রেসব্রিফিং, মানববন্ধন এবং মিটিং-মিছিল করছেন। বাস্তবিকপক্ষে তাঁদের সব দাবি মানার যোগ্য, তা নয়। আবার, দাবি একেবারে অযৌক্তিকও নয়। কিছু কিছু প্রকল্প রয়েছে, যা স্থায়ী প্রকৃতির এবং ২ বা ৩ যুগ ধরে চলমান। এসব প্রকল্পে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করায় জনবল অধিক দক্ষ ও কর্মঠ হয়ে থাকে। ফলে তাঁরা স্থায়ী কর্মচারীর চেয়ে যে কোনও কাজ সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়ে থাকে। প্রকল্পের জনবলকে স্থায়ী না করার কারণে অনেকে ভিন্ন কোনও চাকরি বা পেশায় প্রবেশের বয়স হারিয়ে ফেলে। তারা বেকার হয়ে যায়। কর্মহীনতায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ আত্মহননের পথও বেছে নেন। বিকল্প কোনও কাজের সুযোগ না পাওয়ায় অনেকে প্রতারণামূলক বা অবৈধ উপায়ে আয় করার চেষ্টাও করে থাকেন। এমন নজির ভুরি ভুরি।

 

নানা আইন-কানুনের মারপ্যাচে সমাপ্ত প্রকল্পের জনবলকে বোঝা মনে করা হচ্ছে। বস্তুত, সমাপ্ত প্রকল্পের এসব কর্মহীন এসব জনবলকে বোঝা না ভেবে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনশক্তি বিবেচনা করা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। সরকার প্রতিবছরই বিভিন্ন দপ্তরে নতুন নতুন জনবল নিয়োগ করে থাকে। অদক্ষ স্থায়ী জনবল নিয়োগ করে তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে নানা ধরণের প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়। অথচ সমাপ্ত প্রকল্পের এসব জনবলকে অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ্যতাভিত্তিক বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়া যায়। এতে সরকারের পক্ষে লাভই বেশি। নিয়োগ সংক্রান্ত বাড়তি ব্যয় হবে না। নিয়োগের জন্য বাড়তি সময়ের দরকার হবে না। অনেক ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।

 

সারাদেশে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব চলছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল বেকারত্ব দূরীকরণ। সরকার ইচ্ছা করলে অন্তত বিভিন্ন সমাপ্ত প্রকল্পের কর্মহীন জনবলকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে। এটি এই সময়ের একটি বড় দাবিও বটে।

 

বর্তমানে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন মানতবতাবাদী সাহানুভূতির কারণে ‘মানবতার মা’ উপাধি পেয়েছেন। মায়ের মমতাময়ী স্পর্শ তথা নির্বাহী আদেশ জারি করে স্বল্প সংখ্যক ২০ হাজার (প্রায়) জনবলকে স্থায়ী চাকরির সুব্যবস্থা করে দিতে পারেন। এতে করে সমাপ্ত প্রকল্পের কর্মহীন মানুষগুলোর জীবনের হতাশা দূর হবে। কর্মস্থলে মেধা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হবেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবন-যাপন করতে পারবে।

 

 

লেখক : আলী আজগর খোকন, সাবেক সংবাদকর্মী

 

 

বাংলার কথা/এপ্রিল ০১, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn