একটু ভাবা দরকার


একটু ভাবা দরকার
-শরিফুল ইসলাম জনি

কিছুদিন আগেও শিশুদের মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখার কথা বলা হতো। কিন্তু লকডাউনের পর চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অনলাইন স্কুলের ৪/৫ ঘন্টা শিশুরাই এখন মোবাইল ব্যবহার করছে। বাড়তি সময়টুকু আবার সেই মোবাইল গেমেই নিমগ্ন থাকা, পড়ার ফাঁকে বন্ধুদের সাথে চ্যাটিং কিংবা ভিডিও কলে গল্প।

করোনা পরিস্থিতির চাপে ছোট-বড় সবাই একপ্রকার ঘরবন্দি। পাঁচ বছরের শিশুরও আবদার মোবাইল চাই। বাবা-মাও অমনি শিশুর হাতে মোবাইল ধরিয়ে অব্যাহতি পেতে চায়। স্বাভাবিক কারণেই শিশুরা চারপাশের জগতের দিকে না তাকিয়েই বড় হয়ে উঠছে। মোবাইল হাতে পেয়ে ছড়া/গল্পের বই বা খেলাধুলার তাগিদ থাকে না। লুডো, দাবা, বাগডুলি খেলাগুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। পরিবর্তে এসেছে ভিডিও গেমে অর্থহীন মারামারি, হিংসা কিংবা পর্নোগ্রাফি দেখার নেশা।

কিছুদিন আগে (খবরের কাগজে প্রকাশিত) একটি নাম করা স্কুলের কয়েকজন ছাত্র মোবাইলের হোয়াটস-আপ গ্রুপে ধর্ষণ নিয়ে অনলাইন গ্রুপ ডিসকাশন করতে গিয়ে ধরা পড়ে। এ ধরণের অধঃপতন বন্ধ করতে গেলে সবার আগে মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে। ভেবে দেখলে ছোটদের মোবাইল আসক্তির কারণ কিন্তু অভিভাবকরাই। কারণ আমরাই তাদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইন পড়াশুনার জন্য ছোটদের হাতে যখন মোবাইল তুলে দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই (যদিও দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে), তখন শিশুদের কথা ভেবেই শিশুবান্ধব মোবাইল তৈরির জন্য অভিভাবকদেরই দাবি তোলা উচিত, যাতে হাজার রকমের ফিচার না থেকে কেলমাত্র পড়াশুনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদানের সুবিধাটুকু থাকলেই চলবে। তাই ছাত্র-ছাত্রির অভিভাবকদের সংঘবদ্ধভাবে এই বিষয়ে জোরালো দাবিতে সামিল হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে, বর্তমান প্রজন্মের সুষ্ঠু এবং সার্বিক সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে বলে যথেষ্ট সন্দেহ থেকেই যায়।

বাংলার কথা/জুলাই ২২, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: