হাসপাতালে অভিযান বন্ধ হলে স্বাস্থ্য সেক্টরে নৈরাজ্য থামবে না: ক্যাব

বাংলার কথা ডেস্ক ০

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করতে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি লাগবে এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম।

তাদের আশঙ্কা এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশে স্বাস্থ্য সেক্টরে নৈরাজ্য থামবে না।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাব চট্টগ্রাম নেতারা বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ এর অধীনে পরিচালিত অভিযান পুরো বিশ্বে সহজ একটি আইনি প্রতিকার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মানুষ ভোগান্তিতে পড়লে অতি সহজে এই আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পাচ্ছেন। যার মাধ্যমে ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাদ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, গণপরিবহনসহ অনেকগুলো অত্যাবশ্যকীয় সেবা নিয়ে ভোগান্তির সহজে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি মহল গোড়া থেকেই এই অভিযানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করেছেন।

নেতারা বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক ওয়ানার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবির মুখে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনার আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

‘আজকে বেসরকারি ক্লিনিক মালিকরা এ দাবি করছে, কালকে গণপরিবহন মালিক, পরেরদিন হোটেল রেস্তোরাঁ, তারপরের দিন দোকান মালিক সমিতিসহ সকল ব্যবসায়ীরা এ ধরনের দাবি উত্থাপন করবে। যার চূড়ান্ত বলি হবেন দেশের সাধারণ ভোক্তারা। ভোগান্তি ও প্রতারণার শিকার হলে তখন আর কোনো জায়গায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকবে না,’ বলেন ক্যাব নেতারা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, হাসপাতালে অভিযান দরকার নেই এ ধরনের মন্তব্য করার অর্থ তারা এখন যেভাবে রোগীদের হয়রানি, অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে পকেট কাটছে, ভুয়া ও মনগড়া টেস্ট রেজাল্ট দিয়ে প্রতারণা করছে, ভুয়া ডাক্তার, মেয়াদহীন রিএজেন্ট, ওষুধের ব্যবসা করছে তাকে বৈধতা দেয়া।

তারা বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালে অভিযানের স্বচ্ছতা ও আইনের অপব্যবহার না করার নির্দেশনা হিসেবে চলমান ভেজাল বিরোধী অভিযানের আদলে অভিযান চলাকালে ক্লিনিক মালিক সমিতি ও ক্যাব প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের নির্দেশনা দিতে পারত। তা না করে ক্লিনিক মালিকদের পক্ষে পরোক্ষভাবে অভিযান বন্ধের দাবিকে সমর্থন করলেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

‘ক্লিনিক মালিকরা যদি স্বচ্ছতার সাথে দেশীয় আইন অনুযায়ী হাসপাতাল পরিচালনা, সেবা মূল্য আদায় ও রোগীদের সেবা দিয়ে থাকেন তাহলে তাদের ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই,’ বলেন ক্যাব নেতারা।

সূত্র:ইউএনবি।

বাংলার কথা/ আগষ্ট ১১, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: