হাতীবান্ধায় টাকার জন্য বিধবা ভাতা পেলেন না ছকিরন নেছা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি o
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নিয়ম নীতির তোয়ক্কা না করে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার তালিকা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এতে স্বামী জীবিত থাকার পড়েও বিধবা ভাতা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু সত্যিকারে স্বামী মরা বিধবার এই ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় গত ৪ অক্টোবর হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। আর তাই নড়ে চড়ে বসেছেন অভিযুক্তরা। ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে বিভিন্ন কুটকৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।
অভিযোগে উল্লেখ আছে যে, উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতায় যাদের নাম অন্তর্ভক্ত রয়েছে। তাদের বেশির ভাগ নীতিমালা বর্হিভুত ব্যাক্তি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান তার পছন্দের লোকজন দিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত ইউনিয়ন সমাজকর্মীর সাথে আতাত করে এ অপকর্ম করেছেন। মহিলা ভাতা ভোগীর নামের তালিকায় যে সব নাম রয়েছে তার বেশির ভাগের স্বামী বেঁচে আছেন। অনেকের পারিবারিক স্বচ্ছলতা রয়েছে। এরপরেও তালিকাভুক্তরা টাকা উত্তলোন করে আত্মসাৎ করেছেন। তালিকা ভুক্তদের মধ্যে ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে সব চেয়ে বেশী অনিয়ম করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দা কালাম বলেন, মেম্বার- চেয়ারম্যান টাকা নিয়ে বয়স্ক ও বিধবা ভাতার নাম দিয়েছেন। তার বেশির ভাগই নিয়ম বর্হিভুত। তাই আমরা সমাজকল্যানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ, জেলা প্রশাসক, দূর্নীতি দমন কমিশন, উপ-পরিচালক সমাজ সেবা ও হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।
সরেজমিনে উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের প্রাননাথ পাটিকাপাড়া গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়। ওই এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব ছকিরন নেছা। ১৫ বছর হলো স্বামী মারা যাওয়ার। পাটের শোলা দিয়ে ঘরের বেড়া দেয়া। ভ্যান চালক ছেলের ৬ সদস্যের সংসারে তিনিও একজন। এরপরেও বিধবা ভাতা তো দুরের কথা কোন ভাতাই পাননি তিনি। তার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান কায়েদ ও মেম্বার আলম ২ হাজার টাকা চাইছিলো। দিতে না পারায় তারা আমার নাম কেটে দেয়।
অপর দিকে একই বাসিন্দা মহিলা বেগম। স্বামী থেকে ভাতা খাচ্ছেন তিনি। ছেলে পুলিশে চাকুরি করেন। ইটের তৈরি বাড়ি ঘর। এরপরেও তিনি ভাতা খাচ্ছেন কেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। মেম্বর-চেয়ারম্যানরা আমার নাম দিছে।
এ বিষয়ে ডাউবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আশরাফুল আলম বলেন, এসব নাম আমি দেইনি। চেয়ারম্যান আর মহিলা সদস্যরা দিয়েছে। তারা টাকা পাওয়ার পর আমি বিষয়টি শুনেছি।
এ বিষয়ে ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক কায়েদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, বিধবা ভাতার যোগ্য নয় এমন কিছু নাম ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েছে। বিষয়টি আমরা পরে জানতে পেরেছি। এটি দ্রুত সংশোধন করা হবে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বাংলার কথা/রবিউল ইসলাম রবি/অক্টোবর ০৯, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: