সাত মাসেও কৌশিকের ঘাতকদের নাগাল পায়নি সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
তদন্তভার নেয়ার সাত মাসেও রাজশাহীর চাঞ্চল্যকর কৌশিক হত্যা মামলার তিন আসামির নাগাল পায়নি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ সময়ে সিআইডি মামলার অভিযোগপত্রও দিতে পারেনি। ফলে মামলার বিচার শুরু হয়নি। এতে নিহতের স্বজনদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

নিহত কৌশিক প্রামানিক মিঠু বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবুর বড় ভাই। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি নগরীর মতিহার থানার ধরমপুর আমজাদের মোড় এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন তিনি।

এ ঘটনায় দেবাশিষ প্রামানিক দেবু বাদি হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে ঘটনার পরই পুলিশ রায়হান নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তবে প্রধান আসামিসহ অন্যরা এখনও পলাতক।

মামলার প্রধান আসামির নাম সজিবুল হক সজিব। নগরীর ধরমপুর এলাকায় তার বাড়ি। বাবার নাম মৃত আমিন। এজাহারভুক্ত অন্য তিন আসামির বাড়িও মতিহার থানা এলাকায়। তারা সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির দ্রুত তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিনের মধ্যেই সিআইডি স্বপ্রণোদিত হয়ে পুলিশের কাছ থেকে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোন অগ্রগতি নেই।

অথচ স্থানীয় লোকজন বলছেন, গত ঈদুল ফিতরের দিন মামলার প্রধান আসামি সজিবকে এলাকায় দেখা গেছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে সে আবার পালিয়ে গেছে। তবে মাঝে মাঝেই তাকে এলাকায় দেখা যায়। তারপরও সিআইডি এজাহারভুক্ত এই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মামলার বাদি দেবাশিষ প্রামানিক দেবু বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে সিআইডি সবচেয়ে এগিয়ে। তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে। কিন্তু সাত মাসেও তারা একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সিআইডি মামলার অভিযোগপত্রও দাখিল করছে না। অথচ আসামিরা পলাতক থাকলেও অভিযোগপত্র দাখিল হয়।

দেবাশিষ প্রামানিক দেবু অভিযোগ করেন, মামলাটি নিয়ে তদন্ত সংস্থা যথেষ্ট গাফিলতি করছে। তাই তিনি ভাই হত্যার বিচার পাবেন কিনা, তা নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য দুইজনকেও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একইসঙ্গে দ্রুত যেন আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় সেই দাবিও জানান তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি।

বাংলার কথা/আগস্ট ১৩, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: