রবিবার , ৩০ অক্টোবর ২০২২ | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

সাজেদা চৌধুরীর অবদান ভোলার নয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
অক্টোবর ৩০, ২০২২ ৩:২৬ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক :
সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সিনিয়র সদস্য মরহুম সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর অবদান ভোলার নয়। প্রয়াত নেতাদের আদর্শ মাথায় রেখে দল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ যেহেতু জনগণের সংগঠন, সাজেদা চৌধুরীর মতো অসংখ্য নিবেদিত নেতাকর্মী এ সংগঠনের হাল ধরেছে বলেই চরম দুঃসময়ে এই সংগঠন দিক হারায়নি, নীতি আদর্শ নিয়ে এগিয়ে গেছে। আশা করি আমাদের যারা নেতা আছেন তারা প্রয়াত নেতার আদর্শ মাথায় রেখেই এগিয়ে যাবেন, এটাই আমি চাই।

রোববার (৩০ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশনে চলমান সংসদের এমপি সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সিনিয়র সদস্য মরহুম সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং মহিলা আসন-১৯ এর নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ এ্যানী রহমানের ওপর আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। স্পিকার এ সংক্রান্ত শোক প্রস্তাব উত্থাপন করলে জাতীয় সংসদ তা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে। পরে এক মিনিট নীরবতা ও দোয়া মোনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ রুহুল আমিন মাদানি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের যে অবদান রেখে গেছেন তা ভোলার নয়। চরম দুর্দিনে আওয়ামী লীগের হাল ধরা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছেন। বারবারই আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে, পাকিস্তানের সময়, মুক্তিযুদ্ধের সময়। সাজেদা চৌধুরী নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করেছেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্যাম্পের নেতৃত্বে ছিলেন যেমন তেমন মুক্তিযোদ্ধাদেরও সংগঠিত করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন।

‘স্বাধীনতার সংগ্রামে যেমন তার অবদান রয়েছে, আমাদের জাতীয় জীবনেও অবদান রয়েছে তার। ১৫ আগস্টের পর আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর ওপর অকথ্য নির্যাতন নেমে আসে। সাজেদা চৌধুরীও এর শিকার। জিয়াউর রহমান তাকে গ্রেপ্তার করে। তার অপারেশন হয়েছিল, গায়ে জ্বর ছিল, এই অবস্থায় জিয়াউর রহমান তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। মতিয়া চৌধুরীকেও গ্রেপ্তার করে। তিনিও অসুস্থ ছিলেন। তাদের ডিভিশনও দেয়নি। সাধারণ কয়েদির মতো জেলে ফেলে রাখে। এদেশের প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে সাজেদা চৌধুরী সব সময় সামনে থাকতেন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন আমার সঙ্গে দেখা করতে। আমরা তাকে ফুফু বলে ডাকতাম।’

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান আইন করেছিল পার্টির রেজিস্ট্রেশনে কারও নাম দেওয়া যাবে না। কিন্তু এব্যাপারে সাজেদা চৌধুরী অটল ছিলেন। তিনি বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু ছাড়া পার্টি হয় না। আমাদের দলের মধ্যেও কারো কারো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল। তিনি কিন্তু এ ব্যাপারে অটল ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল জিয়াউর রহমান তাই এই আইন করেছিল। তিনি বলেন, আমি দেশে আসার পর তাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। সব কাজ তিনি সুচারুভাবে করতেন।

প্রায় দুই দশক ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্ত পরিবেশ ছিল। ৭৫ এর পর যে সংঘাত শুরু হয় সেই সংঘাতের হাত থেকে রক্ষার জন্য আমরা ক্ষমতায় এসে শান্তি চুক্তি করি। ১৮০০ অস্ত্রধারী আমার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে। কোথাও এটা দেখা যায় না। আমার প্রত্যেকটি কাজে তিনি সহযোগিতা করতেন। পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। সংবিধান সংশোধনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ছাত্র রাজনীতি যখন করতাম তখন থেকেই তাকে চিনতাম। তিনি বেশি বয়সে লেখাপড়া করেন। তিনি একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা। তাকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিত প্রাণ নেতাকে হারালো। আমি আমার চলার পথে তাকে সব সময়ই পাই। ফুফু বলতাম। তিনি চলে যাওয়াতে শুধু আওয়ামী লীগের নয় দেশেরও ক্ষতি হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, একে একে সবাই ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বয়স হয়ে গেছে, যেতেই হবে। হয়তো আমিও একদিন চলে যাব। তবে যে যেটা করেছে আমাদের তো স্মরণ করতেই হবে। জিয়াউর রহমানের অত্যাচার নির্যাতনের শিকার আমাদের আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী। শুধু আওয়ামী লীগ কেন আমাদের বিরোধী দলের যারা আছে, বিরোধী দলের নেতা যিনি রওশন এরশাদ, জেনারেল এরশাদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু থেকে যারাই আছেন তারা কিন্তু নির্যাতনের শিকার হয়।

সাজেদা চৌধুরী বা মতিয়া চৌধুরীকে গ্রেপ্তারে করে জিয়াউর রহমান ডিভিশন না দিয়ে ফেলে রেখেছে ঠিক খালেদা জিয়া একই কাজ করেছিল। রওশন এরশাদ তিনি তো মাস্টার্স ডিগ্রি পাস। প্যানেল কোডে আছে মাস্টার ডিগ্রি পাস হলে ডিভিশন দিতে হয়। সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে তাকে ফেলে রেখেছিল। একদম সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে। আমরা তো তাও অসুস্থ বলে খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে তার শাস্তি প্রাপ্তি স্থগিত রেখে বাসায় থাকার সুযোগ করে দিয়েছি। একটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটা করা একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। খালেদা জিয়া কিন্তু সেটা করে নাই। বিমান বাহিনীর প্রধান জামাল উদ্দিন। তাকে গ্রেপ্তার করে তার নামে একটা ঘড়ি চুরির মামলা দিয়ে কোনো ডিভিশন না দিয়ে মাত্র ২টি কম্বল দিয়ে তাকে জেল খানায় পাঠিয়েছিল। এইভাবে মানুষকে তারা অত্যাচার করেছে নির্যাতন করেছে।

জাতীয় পার্টি বোধহয় সেই নির্যাতনের কথা ভুলেই গেছে এখন। ভুলে গেছে অনেকে সেটা। আওয়ামী লীগ তো সবার আগে নির্যাতিত। জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, জেনারেল এরশাদ সবাই নির্যাতন করেছে। সাজেদা চৌধুরীর মতো অসংখ্য নিবেদিত নেতাকর্মীরা দলের হাল ধরে ছিল বলেই এই সংগঠন নীতি আদর্শ হারায়নি। নীতি আদর্শ নিয়ে এগিয়ে গেছেন। আশাকরি আমাদের নেতারা প্রয়াত নেতাদের আদর্শ অনুসরণ করেই সংগঠন করবে।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ