সবজি বাগান তৈরীতে এসআই রইছ উদ্দিন হাজারীর অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

দুর্গাপুর প্রতিনিধি o
‘এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে’-প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পরপরই রাজশাহী দুর্গাপুর থানার পাশে পতিত জমিকে সবজি বাগানে পরিণত করেছেন এসআই রইস উদ্দিন হাজারী । তিনি করোনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পতিত জমিতে সবজি বাগান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই অনন্য উদ্যোগ  দেখে  অনেক মানুষ সবজি চাষে  উৎসাহিত হচ্ছেন।
থানার সামনে  পরিত্যক্ত প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে সবজির বাগানটি করা হয়েছে। বাগানে রয়েছে বেগুন,  ঝিঙে, ঢেঁড়স, লালশাক, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, পুইশাক, সহ হরেক রকমের সবজি।   পাশাপাশি থানা ভবনের পাশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফলের চারাও রোপণ করা হয়েছে।
এসআই রইস উদ্দিন হাজারী বলেন,‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে। এই বাণীকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করি। সেই সাথে আমাদের পুলিশ সুপার মহোদয়ও  বল্লেন, তোমাদের কোনো জায়গা থাকলে সেই জায়গায় সবজি চাষ করো। কৃষি কাজ করতে আমার ছোট থেকেই ভালো লাগে, আগেও আমার সবজি ছিল।পুলিশের চাকরি জন্য বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে কৃষি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলাম। দুর্গাপুর থানায় বদলি হয়ে আসার পর দেখলাম কিছু জমি পতিত পড়ে আছে। আমি ও সাইফুল  জঙ্গল  পরিষ্কার করে, চারিদিকে নেট দিয়ে বেড়া দিয়ে সবজি চাষের উপযোগী করে তুলী। এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করি। আমি ফজরে ও  বিকালে  সবজি ক্ষেতের  পরিচর্যা করি। আমার সাথে সাথে  থানার সকল  স্টাফের সবজি চাহিদা  কিছুটা হলেও  মেটায়। আমার খুবই ভালো লাগে যখন কেউ আমার কাছ থেকে সবজি  চাই। সকলের প্রতি আমার একটাই আহ্বান,জমি ফেলে না রেখে তাতে অন্তত সবজি চাষ করুন আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। ’
এই বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানু কণা বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যাতে পড়ে না থাকে। তবে আমাদের থানার জমি কেন পড়ে থাকবে? সেটাকে কাজে লাগানোর ছোট্ট এই উদ্যোগ। সরকারি কাজের পাশাপাশি সবজি খেতে নিয়মিত পরিচর্যা করেন এসআই রয়েছে উদ্দিন হাজারী, তার যত্নে যথেষ্ট ফলন হচ্ছে।
আমাদের সকলের উচিত জমি ফেলে না রেখে তাকে কোন না কোন কাজে লাগানো।’
দুর্গাপুর থানায় কাজে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কৃষিক্ষেত দেখে নিজেরা উৎসাহিত হচ্ছেন। এমনই একজন  বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমার বাসার সামনে অল্প একটু জায়গা পড়েছিল। আমি দুর্গাপুর থানায় এই সবজি খেত দেখে আমার  খুবই ভালো লাগে। আমার মনে চিন্তা আসে আমিও এমন কিছু একটা করতে পারি যাতে করে আমার পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ হয়।’
বাংলার কথা/মো.হো.শি/ অক্টোবর ০৭, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: