সন্ত্রাসী ঘটনার ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে আমাদের অবস্থান থাকবে কঠোর: এসপি মাসুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
রাজশাহীর নতুন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, যে কোন সন্ত্রাসী ঘটনার ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে একদম কঠোর।

রাজশাহীতে যোগ দেয়ার পর বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে জেলা পুলিশ লাইনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন তিনি।

কক্সবাজারের আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহীর এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মতবিনিময়কালে একজন সাংবাদিক কক্সবাজারে মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের ঘটনাটি দুঃখজনক কি না, এমন প্রশ্ন করলে এসপি মাসুদ হোসেন বলেন, এটি কক্সবাজারের ঘটনা। এটা রাজশাহীর ঘটনা। আর এ বিষয়ে একটি মামলা তদন্তাধীন আছে। এমতাবস্থায় এটা নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যেহেতু এটি তদন্তাধীন আছে, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না।

আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, কক্সবাজারে মাদকের কারণে প্রচুর ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহীও একটি মাদকের জোন। এখানেও সেই ধরনের ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা ঘটবে কি না। প্রশ্নের উত্তরে এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন হিসাবে বছরে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার মাদক আসে। এর মধ্যে ৮০ ভাগ অর্থাৎ ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি টাকার মাদক আসে কক্সবাজার হয়ে। মাদকের যেসব চক্র আছে, তারা দেশে-বিদেশে অবস্থান করে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে আমরা মাদক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি। রাজশাহীতে মাদক ব্যবসা আছে। আমরা পেশাদারিত্বের সাথে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করব। আমাদের সকল কাজ হবে পেশাদারিত্বের সাথে, আইনের মাধ্যমে। আইনের মাধ্যমে যেটা করা দরকার, আমরা সেটা করব।

পুলিশ সুপার বলেন, আমাদের যে কোন কাজ হবে পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম এবং অবশ্যই দক্ষতার সাথে। আমরা রাজশাহীর আট থানার আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সাংবাদিকদের সহায়তা চাই। আমরা দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত রাজশাহী গড়তে চাই। সন্ত্রাসী যেই হোক না কেন, তার পরিচয় সন্ত্রাসী। কোন দল, কোন মত আমরা তা চিনি না। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। আর মাদকের ব্যাপারে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আছে। সেটার পরিবর্তন হয়নি। আমরাও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করব।

এসপি বলেন, রাজশাহীর একটা সমস্যা আছে। এতদিন দূর থেকে জেনে এসেছি যে, এখানে একসময় জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল। সেটা যদিও এখন নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে এদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। এরা যে কোন সময় আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এখানে যে সর্বহারা নামে একটা গ্রুপ ছিল, তাদেরও প্রভাব অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যে কোন সন্ত্রাসী ঘটনার ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে একদম কঠোর।

মতবিনিময়কালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকী, সুমন দে ও ইফতেখায়ের আলম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলার কথা/অক্টোবর ০৭, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: