বৃহস্পতিবার , ২৭ অক্টোবর ২০২২ | ১৭ই মাঘ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

শিক্ষকদের হাত ধরেই শিক্ষা রূপান্তর শুরু’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গোদাগাড়ীতে শিক্ষক দিবস উদযাপন

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
অক্টোবর ২৭, ২০২২ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

মোঃ হায়দার আলী গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
আজ ২৭ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সারাদেশের মত রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে  শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে।  সকাল সাড়ে ৯ টার সময় গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের শাপলা চত্তর থেকে র‍্যালি, ব্যান্ডের তালে তালে যাত্রা শুরু করে। উপজেল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষক কর্মচারীগণ নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে
র‍্যালিতে অংশ গ্রহন করেন। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদে এসে শেষ হয়।
পরে উপজেলা অডিটারিয়ামে আলোচনা করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ দুলাল আলমের সভাপতিত্বে  আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইমরুল হোসেন, গোদাগাড়ী স্কুল এন্ড কলেজের কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মইনুল হক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিষ্ট মোঃ হায়দার আলী, বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান, পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহাফুজুল আলম তোতা প্রমূখ।
 বক্তাগণ বলেন,  প্রথমবারের মত সরকারিভাবে শিক্ষক দিবস পালন করতে পেরে শিক্ষকগণ আনন্দিত। দিবসটি উপলক্ষে  এ উপজেলায় র‍্যালি, আলোচনা সভা, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে।
গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো ঘোষিত ‘শিক্ষকদের হাত ধরেই শিক্ষা রূপান্তর শুরু’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এসব কর্মসূচি উদযাপিত হয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, কারিগরি, মাদরাসাসহ সব পর্যায়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে।
কিছু অসৎ শিক্ষক নেতা, আমলাদের কারণে শিক্ষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় নি। শিক্ষকদের বৈষম্য দূর হচ্ছে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষকদের বেতনভাতা বেশী হলেও বাংলাদেশে শুধু ব্যতিক্রম, শিক্ষকদের ২৫ ভাগ ঈদ বোনাস দেয়া এটা সত্যি লজ্জার ব্যপার। সুপার, সহঃসুপার, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রদান থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। বাড়ী ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা সরকারীদের চেয়ে অনেক কম দেয়া হয়। সব বৈষম্য দূর করার জন্য একটি পথ সেটা হলো সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ করা।
সকল শিক্ষকগণ ১৬ বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর স্কেল পেলেও প্রধান শিক্ষক,  সহকারি প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহঃসুপারগণ দ্বিতীয় উচ্চতর স্কেল পাচ্ছেন না। একদেশে দুই নিয়ম এ যেন  একচোখে তেল অন্য চোখে লবন দেয়ারমত অবস্থা। শিক্ষা মন্ত্রী,  প্রধান মন্ত্রী পারেন এ বৈষম্য দূর করতে শিক্ষা প্রধান, সহঃ প্রধানদের মাঝে হতাশা কাটিয়ে সুদিন ফিরিয়ে আন্তে। শিক্ষকগণ  নানামূখি সমস্যায় মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তাদের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা। বেসরকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবী, শিক্ষক দিবসে বেসরকারী শিক্ষকদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষনা  হউক, এ কাজ টি করতে পারেন প্রধান মন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর সুযৌগ্য কন্যা  শেখ হাসিনা।
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলে শিক্ষকরা শিক্ষার মেরুদন্ড। কিন্তু আজ শিক্ষক সমাজ অবহেলিত ও বিভিন্নভাবে হয়রানি-নির্যাতনের শিকার। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছলতা, সামাজিক মর্যাদা নেই বলে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চান না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষকরা রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নেই বলেই আজ শিক্ষার বেহাল অবস্থা।
শিক্ষাক্ষেত্রে আজ পর্বতসম বৈষম্য বিদ্যমান। সরকারি বেসরকারি স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষক-কর্মচারীদের সমযোগ্যতা ও সমঅভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি স্কুল ও বেসকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের যে সিলেবাস বেসরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ও একই সিলেবাসে পড়ানো হয়। কিন্তু তাদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়। আমাদের বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ২৫% ও কর্মচারীদের ৫০% উৎসব ভাতা দেওয়া হয়। বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে ইহা বিমাতাসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ১/১/১৯৮০ থেকে জাতীয় বেতনর স্কেলের অন্তুর্ভূক্ত করেন এবং ৫০% বেতন স্কেল প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ১০%+১০% = ২০% প্রদান করেন। ১৯৯৪ সালের শিক্ষক আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০%, ২০০০ সনে আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০% এবং সর্বশেষ ২০০৬ সনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০% বেতন প্রদান করে ১০০% এ উন্নীত করেন। এখন চাকুরী জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। চাকুরী জাতীয়করণের জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই।
বর্তমানে শিক্ষক কর্মচারীরা সরকার থেকে ১০০% বেতন পান। এজন্য সরকারকে প্রদান করতে হয় প্রতি মাসে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা মাত্র। ১২ মাসে সরকারকে দিতে হয় ১২০০০ কোটি টাকা মাত্র।
প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলে সরকারকে প্রদান করতে হবে মোট প্রায় ১৭৮২০ কোটি টাকা প্রায়। বর্তমান সরকার বেতন বাবদ প্রদান করছে ১২০০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত প্রদান করতে হবে প্রায় ৫৮২০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের আয় হবে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
শিক্ষকগণ হচ্ছেন জাতির বিবেক ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের ধারক ও বাহক। শিক্ষার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও মান উন্নয়নে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিবেন বলে শিক্ষক সমাজ প্রত্যাশা করে। মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন, শাহসুলতান কামিল মাদ্রাসার আরবী বিভাগের প্রভাষক মাওঃ দুরুল হোদা।
পরবর্তীতে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ