লেবুর কিছু গুনাগুন

বাংলার কথা ডেস্ক ০

রসে ভরা লেবুর সুগন্ধেই হতে হয় মোহিত। ঘ্রানেই যেন খাবারের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। পুষ্টিগুনে ভরপুর লেবুর রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। জ্বর, কাশি, ক্ষুধামন্দা ও বমি নাশক। কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা পান করলে মেদ কাটে। লেবু-মধু-পানি খুব জনপ্রিয়। ফ্যাট কাটাতে এর জুড়ি নেই। লেবু রুচি বাড়ায়, কৃমি নাশক। গরমভাতে বা ডালের সাথে কাগজি লেবুর রস রীতিমত অমৃত স্বাদ। কাগজি লেবুর আচারও খেতে সুস্বাদু।

১০০ গ্রাম লেবুতে ভিটামিন সি আছে ৬৩ মিলিগ্রাম, যা আপেলের চেয়ে ৩২ গুন এবং আঙ্গুরের দ্বিগুন। ক্যালসিয়াম আছে ৯০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ১৫ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামি বি .১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২০ মিলিগ্রাম, লৌহ .৩ মিলিগ্রাম।

কার্ডিওভাসকুলার সুরক্ষার পাশাপাশি ওজন হ্রাস করতে লেবু খুবই উপযোগী বলে জানা যায়।

লেবুর রসেই যে সব উপকার তা কিন্তু নয়। লেবুর খোসায় প্রচুর উপকারী উপাদান আছে। যেমন ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, পেকটিন, ফাইবার, মিনারেলস। লেবুর খোসা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায় খাবার ভালো হজম হয়। অন্ত্র পরিস্কার থাকে। এর পেকটিন অন্ত্রের শর্করা শোষন করে। যা ওজন কমাতে সহায়ক। লেবুর খোসা খেলে শর্করা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিপাক ভালো হয়। যা ডায়াবেটিস রোগীরদের উপকারে আসে। লেবুর খোসায় ক্যালসিয়াম থাকে। যা হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুবই দরকারী। দৈনিক অল্প একটু সামান্য লেবু খেয়ে ভিটামিন সি এর চাহিদার ৩০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব।

পাতিলেবুর স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. ওজন কমাতে

কিছু গবেষণা দেখা গেছে  যে লেবুতে থাকা পলিফেনল  স্থূলত্ব বা ওবিসিটি কমাতে সহায়তা করে । এই পলিফেনলগুলি শরীরের ওজন বৃদ্ধি এবং দেহের চর্বি জমে দেয় না বলে জানা যায়।

অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে লেবু সাহায্যে তৈরী ডেটক্স ডায়েট (প্লাম সিরাপ ও লেবুর রস) শরীরের চর্বি হ্রাস করতে সহায়তা করে , যার ফলে শরীরের ওজন হ্রাস হয় এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমে যায় ।

এছাড়াও বলা হয় যে সকালে গরম লেবু জল পান করা ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে।

২. কিডনি স্টোন সারাতে

লেবুতে সাইট্রেট থাকে, যা কিডনিতে পাথর বা স্টোন হতে বাধা দেয় । তাছাড়া সাইট্রেট বড় পাথরগুলিও ভেঙ্গে দেয় এবং এটি মূত্র রূপে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই লিটার জলে চার আউন্স পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করলে কিডনিতে পাথর গঠনের হার হ্রাস পেতে পারে। সাইট্রেট ক্যালসিয়ামের সাথে আবদ্ধ হয়ে এবং পাথর গঠন করতে বাধা দেয়।

৩. ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে লেবু জাতীয় সাইট্রাস ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের ঝুঁকি কম হয়। পেটের ক্যান্সারের ও ঝুঁকি কমাতে উপযোগী এই পাতিলেবু।

৪. হজম ক্ষমতা বাড়ায়

বলা হয় সকালে উঠে লেবুর জল খেলে নাকি তা হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পারে এবং পাচনতন্ত্রকে সচল রাখতে সাহায্য করে । যদিও এ নিয়ে আরও গবেষণা দরকার। আবার অনেকে দাবি করেন যে লেবুর ডেটক্সিফায়িং গুণ হজমশক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৫. হার্টকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে

লেবু সহ সাইট্রাস ফলগুলিতে প্রয়োজনীয় ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে যা এথেরোস্ক্লেরোসিসের চিকিৎসায় সহায়তা করে। এই উপাদানগুলি দেহে প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়াগুলি কমিয়ে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমায় (8)।

৬. রক্তাল্পতা কমাতে

লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শাক সবজিতে থাকা আয়রন শোষণ করতে পারে। এর ফলে রক্তাল্পতার সমস্যা কমতে পারে । লেবুতে থাকা ভিটামিন সি সামগ্রিকভাবে আয়রন শোষণকে উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে  ।

কীভাবে অনেকদিন লেবু স্টোর করবেন ?

লেবুগুলিকে একটি এয়ার টাইট প্যাকেটে ফ্রিজে রেখে দিলেই অনেকদিন লেবু সতেজ থাকবে।

পাতিলেবুর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সব জিনিসের মতো পাতিলেবুও যদি আপনি বেশি খান তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এটি বেশি খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

লেবুর সাইট্রিক এসিড দাতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে। লেবু পানি খেয়ে দাঁত মাজা ভালো তবে অন্তত দিনে দু’বার দাত ব্রাশ করতে হবে। অতিরিক্ত লেবু খেলে বমি বমি ভাব হতে পারে। এমনকি বমি হতেও পারে। ভিটামিন সি প্রয়োজনে প্রতিদিন ১২০ মিলি লিটার লেবুর রস খাওয়া যাবে। চিকিৎসকরা ১২০ মিলি লিটারের বেশি খাওয়া সমর্থন করেন না। তবে নিয়মিত খাওয়া শুরু করার আগে ডাক্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেবেন।

সূত্র:স্টাইল ক্রেইজি।

বাংলার কথা/ অক্টোবর ০২, ২০২০

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: