আজ- রবিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

লালমনিরহাটে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ সামান্যই

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp


মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট o
বিভাগীয় শহর রংপুরের গা-ঘেঁষা জেলা লালমনিরহাট। তবে জেলার সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রগতির চিত্র সেই সাক্ষ্য বহন করে না।
গড়ে ওঠেনি তেমন শিল্প-কারখানা। প্রসার ঘটেনি ব্যবসা-বাণিজ্যের। কর্মসংস্থান হয়নি বিশাল জনগোষ্ঠীর। বরং নদীভাঙনে প্রতিনিয়তই বাড়ছে গৃহহীন বেকারদের সংখ্যা।
আলোর নিচে অন্ধকার-এই অপবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি লালমনিরহাট। অথচ ১১বছর লালমনিরহাট জেলার ৩টি আসনই ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দখলে। প্রতিটি নির্বাচনের আগেই জনপ্রতিনিধিরা ব্যাপক উন্নয়নে লালমনিরহাট বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে সামান্যই। যেটুকুও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়নের গতি খুবই ধীর। পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা উপজেলা নিয়ে লালমনিরহাট-১ আসন গঠিত। এই উপজেলাগুলোর অন্যতম সমস্যা নদীভাঙন। তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙন বরাবরের। বিশেষ করে তিস্তার ভাঙনে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলার মানচিত্র। ভাঙ্গন রোধে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক কিছু উদ্যোগ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই আসনের তিন দফায় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন। তিনি প্রতিবারই স্থায়ীভাবে নদীভাঙ্গন রোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর। এর বাস্তবায়ন নেই। তবে এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও এমপিও হয়েছে।
কালীগঞ্জ-আদিতমারী উপজেলা নিয়ে লালমনিরহাট- ২ আসন গঠিত। গত দুই টার্মে এই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহম্মেদ। এখন তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। তারও আগে তিনি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যান। এলাকার মানুষজনের অন্যতম চাহিদা যোগাযোগ স্থাপন। এমপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও বিষয়টি ছিল প্রথম স্থানে। কিন্তু তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেই। ফলে কালীগঞ্জের ব্যাপক হারে রাস্তা-ঘাট গড়ে উঠলেও প্রতিবেশী আদিতমারী অবহেলিতই থেকে গেছে।
তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে কালীগঞ্জ-আদিতমারী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন এখন খন্ড-বিখন্ড। বাড়ি-ঘর ও আবাদি জমি হারিয়ে এলাকা ছেড়েছে অনেকে। এই উপজেলার মানুষের অন্যতম দাবি নদীভাঙন রোধ। নুরুজ্জামান আহম্মেদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে ঢাকায় যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে তিস্তা নদীর ওপর গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু। প্রতিদিন এলাকার হাজার হাজার মানুষ ও উৎপাদিত শাক-সবজি নিয়ে ব্যবসায়ীরা এই সেতু হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারছেন না। এলাকাবাসীর দাবি সেতুর বাস-ট্রাক বন্ধ না করার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে এমপি নুরুজ্জামান আহম্মেদও বহুবার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সেই প্রতিশ্রুতিও বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে। তবে এমপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কালীগঞ্জ-আদিতমারীর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শুরু হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নিয়ে লালমনিরহাট-৩ আসন গঠিত। তিন মেয়াদের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের। বর্তমান সরকারের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান;জেলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তিনি। তার কাছে জনগণের প্রত্যাশাও বেশি। তবে গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেননি। শুরু করতে পারেননি তিস্তা ও ধরলার নদীর খননকাজ। লালমনিরহাটের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীদুটিতে প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে নদী খনন জরুরি। লালমনিরহাট বিমানবন্দর, মোগলহাট স্থলবন্দর এ নিয়েও আন্দোলন চলছে ‘লালমনিরহাট উন্নয়ন আন্দোলন পরিষদ’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে। গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও একাত্মতা জানিয়েছেন এ দাবির সঙ্গে। কাগজ-কলমে পরিকল্পনা নিলেও বাস্তবে এর কোনোই অগ্রগতি নেই।
লালমনিরহাটবাসীর একটি দাবি হলো লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের তেলীপাড়া মৌজায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের। লালমনিরহাট অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যানকে জাপা চেয়ারম্যান চিঠি দিয়েছেন মর্মে জানা গেছে।
বাংলার কথা/ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০
 

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn