লালমনিরহাটে কিশোরী গণধর্ষণ, প্রধান আসামি আটক


লালমনিরহাট প্রতিনিধি o
লালমনিরহাটের কাকিনায় এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। তিন দিন আটকিয়ে তাকে গণধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ প্রধান আসামি রকিকে আটক করেছে। বাকি ৬ আসামি রয়েছে পলাতক।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে করে পাটগ্রাম উপজেলার বাউরার এক কিশোরী আসে। ওই কিশোরীর বাড়ি জেলার পাটগ্রামের নবীনগরে। ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কাকিনা রেল স্টেশনে ওই কিশোরী চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিল। এ সময় কয়েকজন যুবক কিশোরীকে তুলে অটোরিক্সায় নিয়ে যায়।

পরে ওই কিশোরীকে প্রথমে কাকিনা সিনেমা হল মোড় এলাকায় এক পরিত্যক্ত ঘরে আটকিয়ে গণধর্ষন করে ৭ জন। পরে ওই কিশোরীকে আটকিয়ে রাখে এক বাড়িতে। সেখানে ও খাদ্য গোডাউনের পিছনে ৩ রাত আটকিয়ে পর্যায়ক্রমে ৭জন গণধর্ষণ করে। পরে এলাকার কয়েকজন ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় থানায় না গিয়ে কাকিনা এলাকায় শালিশ করে গ্রাম্য মাতব্বররা। গ্রামের মাতব্বররা শালিশ করে ৭ ধর্ষকের নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে নিজেরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।

ওই কিশোরী সেখান থেকে পালিয়ে প্রথমে কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে গেলে সেখানকার সাংবাদিকরা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে কিশোরীকে থানায় নিয়ে গিয়ে ৭ জন ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পুলিশ রকিকে রাতেই গ্রেপ্তার করে। বাকি ৬ আসামি রয়েছে পলাতক।

কালীগঞ্জের কাকিনায় গণধর্ষণ ঘটনায় আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা। গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চলছে।

কালীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকতা ফরহাদ আলম মন্ডল জানান, এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর ৬ আসিামিকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

লালমনিরহাট পুলিশের এডিশনাল পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।

বাংলার কথা/তিতাস আলম/অক্টোবর ১০, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: