সোমবার , ৩১ অক্টোবর ২০২২ | ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

লক্ষ্মীপুরে হাজার হাজার মানবেতর জীবনযাপন

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
অক্টোবর ৩১, ২০২২ ৪:২৩ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরে বাস্তচ্যুতদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান জানে না কেউ। স্থানীয় তথ্যমতে, গত তিন দশক ধরে মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। এসব মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে বহুস্থানে স্থানান্তরিত হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যত্র। দেশের নাগরিক হওয়া স্বত্বেও সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভিটে-মাটি হারা বহুমানুষ। সহায় সম্বলহীন এসব মানুষের পূনর্বাসনসহ তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, ৯০ এর দশকের আগ থেকে শুরু হয়েছে মেঘনা নদী এলাকার রামগতি-কমলনগর, সদর ও রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকর ভাঙন। বর্তমানেও ভাঙনের ভয়াবহতা রয়েছে। অব্যাহত নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। প্রতিনিয়ত ঘর-বাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছেন নতুন কেউ না কেউ। বার বার আশ্রয়স্থল পরিবর্তন করেও রক্ষা হয়নি অনেক মানুষের। নি:স্ব হওয়া এসব মানুষদের অনেকের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগও নেই এখন। এদের অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন রামগতি সড়কের দু’পাশে। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন মজু চৌধুরীর হাট, মতিরহাটসহ বেড়ী বাঁধে। সব হারিয়ে এখন কোনমতে ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করছেন হাজার হাজার মানুষ। অনেকে অন্য জেলায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। স্থানীয় তথ্যমতে গত তিন দশকে কমলনগর ও রামগতি উপজেলার সাহেবের হাট, নাসিরগঞ্জ, লুধুয়া, মাতাব্বরহাট, কাদের পন্ডিতের হাট, রাঘনাথপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। সদর ও রায়পুরেও ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটে-মাটি হারিয়েছেন অনেক পরিবার। অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহুস্থাপনা নদীর পেটে চলে গেছে। এসব এলাকার এক লাখেরও বেশী মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান। আশ্রয় স্থানান্তর আর নদী ভাঙনের বড় একটা প্রভার পড়েছে শিক্ষাখাতেও।

এমন প্রেক্ষাপটে ছিন্নমুল পরিবারের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, কয়েক বছরে একেক জন মানুষ নদীর ভাঙ্গণের শিকার হয়েছেন একাধিকবার। এসব মানুষের অভিযোগ তারা সরকারি-বেসরকারি কোন সহায়তা পান না। প্রত্যেকেরই ভোটার আইডি কার্ড রয়েছে তারা ভোট আসলে ভোট দেন। কিন্তু এরপর আর তাদের কোন খোঁজ খবর রাখেনা কেউ। দেশের নাগরিক হওয়া স্বত্তের তারা সকল সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। সরকারিভাবে পূণর্বাসনের দাবী তোলেন ঘরহারা মানুষ। একই দাবী জানান সচেতন মহলও।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার ফলোয়ান ও স্থানীয় নদী গবেষক সানাউল্লাহ সানু জানান, ৩ দশকে ১ লাখেরও বেশী মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছেন। এরা বিভিন্ন এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখনো জীর্ণশীর্ণ ঘরে বাস করছেন। খোলা আকাশের নিচেও থাকছেন কেউ কেউ। অনেকে আবার আশে পাশের মানুষদের বাড়ীতেও আশ্রীত আছেন। এসব ঘরহারা মানুষের খবর রাখেনা কেউ। এদের পরিসংখ্যানও জানেনা কেউ। তাদের রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবী জানান তারা।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহ্মেদ জানান, প্রতি বছর দেড়শ’ থেকে ২০০ মিটার এলাকা ভাঙ্গে। গত ৫ বছরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে। তবে সঠিক পরিসংখ্যান সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, নদী ভাঙ্গা গৃহহীন ৩ হাজার ২শ’ পরিবারকে ঘর ও জমি দিয়ে পূণর্বাসন করা হয়েছে। এখনো কেউ গৃহহীন থাকলে সরকারিভাবে ঘর করে দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ