রোনালদোদের কাছ থেকে ইউরো শিরোপা ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য ফ্রান্সের

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিউজ ডেস্ক : আগামীকাল শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ইউরো ২০২০ ফুটবল টুর্নামেন্ট। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা, আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স শিরোপাটি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করেছে। করোনাভাইরাসের কারণে এক বছর বিলম্বে শুরু হতে যাচ্ছে ইউরো সেরার এই লড়াই।

 

অসাধারণ আক্রমণভাগের কারণে তৃতীয় ইউরো শিরোপার জন্য ফ্রান্সকে ফেভারিট মনে করা হচ্ছে। তবে এই তালিকায় আছে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা বেলজিয়াম ও তারুণ্যনির্ভর ইংল্যান্ডও। এই প্রথম এক বা দুই দেশের পরিবর্তে ইউরোপের ১১টি শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই টুর্নামেন্ট। যদিও কভিড-১৯ সংকট এখনো চোখ রাঙাচ্ছে এই টুর্নামেন্টকে।

 

উয়েফার চাহিদা অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইন বিষয়ে ছাড় দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং মাঠে দর্শকদের আসন সংখ্যা বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাগতিক শহরের নাম থেকে বাদ পড়েছে ডাবলিন ও বিলবাও। তবে বিলবাওয়ের পরিবর্তে সেভিয়া এবং ডাবলিনের ম্যাচ স্থানান্তর করা হয়েছে লন্ডন ও সেন্ট পিটার্সবার্গে।

শুক্রবার রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ইতালি বনাম তুরস্কের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের ইউরো। ম্যাচটি সরাসরি উপভোগ করতে মাঠে প্রবেশ করতে পারবে ১৬ হাজার দর্শক। আগামী মঙ্গলবারের আগে মাঠে নামছে না ফেভারিট ফ্রান্স। একই দিন মিউনিখে স্বাগতিক জার্মানির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে লেস ব্লুসরা।

 

সম্প্রতি প্রথম পাতায় কিলিয়ান এমবাপ্পে, করিম বেনজেমা ও আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের ছবি ছাপিয়ে ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক এল’ইকুইপ লিখেছে ‘অন্য দেশগুলো আমাদের ঈর্ষা করে’। আসরে সবার নজর থাকবে ৩৩ বছর বয়সী ফরাসি স্ট্রাইকার বেনজেমার দিকে। রিয়াল মাদ্রিদে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক নির্বাসন থেকে জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি।

 

‘গ্রুপ অব ডেথ’ খ্যাত ‘এফ’ গ্রুপে জার্মানি ও ফ্রান্স ছাড়াও ঠাঁই পেয়েছে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল ও হাঙ্গেরি। ৩৬ বছর বয়সে পা রেখেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তারপরও ময়দানি লড়াইয়ে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী তিনি। ৫ বছর আগের দলের তুলনায় এবার আরো বেশি সামর্থ্যবান-সহযোগী স্কোয়াডে পাচ্ছেন তিনি। এদের মধ্যে আছেন দারুণ ফর্মে থাকা হোয়াও ফেলিক্স, ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্ডো সিলভা ও রুবেন দিয়াস।

 

এবারের আসরে দুটি সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে। সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টে কোয়ালিফাই হতে ব্যর্থ হওয়া ইতালি ও হল্যান্ড এবার দক্ষাতা প্রমাণের জন্য মরিয়া। ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন মনে করেন, অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে থেকে এবারের ইউরো ২০২০ মিশন শুরু করবে ইংল্যান্ড। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলা এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন আমরা অনেক বেশি অভিজ্ঞ। খেলোয়াড়রাও নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে বড় ম্যাচে খেলছে।’

 

বর্তমানে করোনা মহামারি কাটিয়ে ওঠার পথে রয়েছে ইউরোপ। সেখানে সংক্রমণের হার পড়তির দিকে। জোরালো হয়েছে টিকাকার্যক্রম। তবে ভাইরাস ক্লাস্টার নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। যে কারণে উয়েফা ২৬ সদস্যের জাতীয় স্কোয়াড গঠনের অনুমতি দিয়েছে। স্পেনের ফুটবল কর্তারা এই সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ১৭ সদস্যের বিকল্প স্কোয়াডও গঠন করে রেখেছে। কারণ মুল স্কেয়াডের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে কভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন ডিফেন্ডার দিয়েগো লরেন্তে।

 

 

সুইডেনের দুই তারকা ফরোয়ার্ড ডেজান কুলুসেভস্কি ও মিডফিল্ডার মাত্তিয়াস সিয়ানবেরা ও কভিড পজিটিভ হয়েছেন। এমন হুমকির মুখেও উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার ক্যাফেরিন বলেছেন, ‘২০২০ ইউরো হবে নিরাপদ’। তিনি বলেন, ‘মাহামারিতে থমকে যাওয়ার পর এটি হবে বিশ্বের মধ্যে সর্বপ্রথম টুর্নামেন্ট। যেটি বিশ্বব্যাপী নবজাগরণের সৃষ্টি করবে। এটি হবে ইউরোপীয় জাগরণকে বিশ্ব দরবারে জানিয়ে দেওয়ার সেরা সুযোগ। ইউরোপ এখনো বেঁচে আছে এবং জীবনকে উপভোগ করছে। ইউরোপ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

বাংলার কথা/ ১০জুন, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn