আজ- রবিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

রাজীবপুরে ৬ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সমবায় কর্মকর্তা!

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp


সহিজল ইসলাম, রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম) ০
কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জেসমিন আখতার কর্মস্থলে না থেকে ঢাকায় বসে মোবাইল ফোনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাও আবার একদিন দুইদিন নয়। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ওই কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
অবাক করার বিষয় হচ্ছে, ওই কর্মকর্তা একদিনের জন্যেও নিজের কর্মস্থল রাজীবপুর উপজেলায় আসেননি। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব চিত্র।
ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে নিজ অধিদপ্তরের উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনের পর দিন তার উপর অর্পিত দায়িত্ব ফাকি দিয়ে নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলা সমবায় অফিসে খোঁজখবর নিয়ে এবং উপজেলায় কর্মরত অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলো এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজীবপুর উপজেলা সমবায় অফিসের দরজায় তালা লাগানো থাকলেও জানালা খোলা পাওয়া যায় প্রায়ই। জানালা খোলা রেখে বছরের পর বছর ওই কার্যালয়ে লাইট ও ফ্যান চালু রাখা হয়। তবে অফিসের কাউকে পাওয়া যায় না কখনও।
এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মকর্তা, অফিস সহকারি ও সহকারি পরিদর্শক কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) রেজাউল করিমের দেখা পাওয়া গেছে।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ম্যাডাম ঢাকায় থাকেন। তিনি অফিসে আসেন না। কর্মরত অফিস সহকারি ও সহকারি পরিদর্শক দুইজন মাসে একবার করে অফিসে আসেন। আমি মাঝে-মধ্যে অফিসের দরজা খুলি, আর বন্ধ করি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, জেসমিন আখতার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসাবে গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে রাজীবপুর উপজেলায় যোগদান করেন। জেলা সমবায় অফিসে যোগদান করেই তিনি ঢাকায় ফিরে যান এবং দীর্ঘ সময়ে একদিনেরও জন্যও কর্মস্থল রাজীবপুরে আসেননি।
তবে প্রতিমাসের সরকারি বেতনভাতা ও আনুষাঙ্গিক খরচের বিল ঠিকই ভোগ করছেন তিনি। কার্যালয়ের অফিস সহকারি জামিউল ইসলাম বেতনভাতা তুলে ওই কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে থাকেন। অফিসের কাগজপত্রে ও বেতনভাতায় কর্মকর্তার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে ওইসব কাগজপত্র কুরিয়ারের মাধ্যমে তা আদান প্রদান করা হয় বলে জানিয়েছেন অফিস সহকারি জামিউল ইসলাম।
এদিকে অফিসের কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকার কারণে কার্যালয়ের অফিস সহকারি ও সহকারি পরিদর্শক পদে কর্মরতরাও তাদের স্যারের মত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তবে এ দু’জন মাসে একবার করে অফিসে আসেন বেতনভাতা নেয়ার জন্য।
কার্যালয়ের একমাত্র সঙ্গী অফিস সহায়ক রেজাউল করিম। তিনি সকাল ১০টার দিকে অফিসের জানালা খুলে দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যান। আবার বিকালে এসে তা বন্ধ করেন। এ কার্যক্রমও বেশি দিনের নয়। অফিস সহায়ক গত মাসে যোগদান করেছেন।
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চরম উদাসীনতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সমবায় অফিসের মাধ্যমে সাধারণ জনগনকে সরকারি যে সেবা পৌঁছে দেয়ার কথা, তার ছিঁটেফোটাও পায় না উপজেলাবাসি। কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে সমবায় অফিসের কার্যক্রম সম্পূর্নরূপে ভেঙ্গে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক কর্মচারী বলেন, ‘আ’লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এক নেতা ম্যাডামের আত্মীয়। এর প্রভাব বিস্তার করেন সমবায় অধিদপ্তরে। ফলে উপরের কর্মকর্তারাও কেউ কিছু বলেন না। ৬ বছরের মধ্যে একদিনও কর্মস্থলে আসেননি, তারপরও তার কিছুই হয় না। সরকারি বেতনভাতা নিয়মিতই তুলছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘শুনেছি ম্যাডামের স্বামী গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রধান কার্যালয়ের বড় কর্মকর্তা। ঢাকায় বাড়ি আছে কয়েকটা। অর্থের কোনো অভাব নাই। মোবাইল ফোনে আমাদের নির্দেশনা দেন তিনি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীরুল ইসলাম জানান, ‘আমি যোগদানের চার মাসের মধ্যে একদিনও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে দেখতে পাইনি। উপজেলা মাসিক সভায়ও অনুপস্থিত তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে আমি জেলা সমবায় অফিসকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনা সাড়া পাইনি। সরকারি চাকরি করে বছরের পর বছরের অফিস ফাঁকি দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।’
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় রাজীবপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জেসমিন আখতারের সাথে। তিনি চড়া মেজাজে বলেন, ‘আমি রাজীবপুরের কর্মকর্তা ঠিকই, কিন্তু ডেপুটিশনে (প্রেষণে) ঢাকায় আছি। তাছাড়া আমি তো সব সময় খোঁজখবর নিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’ তবে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে তার প্রেষণে থাকার বিষয়টি সত্য নয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা সমবায় কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন, এমনটি হতে পারে না। তাহলে কীভাবে রাজীবপুর অফিসের কার্যক্রম চলে? আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।.
বাংলার কথা/সেপ্টেম্বর ১০, ২০২০

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn