মঙ্গলবার , ২৯ নভেম্বর ২০২২ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদকের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
নভেম্বর ২৯, ২০২২ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে শ্রমিক নির্যাতন, বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ তুলে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মিজানুর রহমান মেরাজ। এই সময় শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য নাজিমুদ্দীন, সালাম শেখ, নজরুল ইসলাম ও হারুন অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

মিজানুর রহমান মেরাজ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া বেআইনীভাবে আনুমানিক ৭০০ কার্ড বিক্রি করেন। বর্তমান কার্ডের মূল্য দাঁড়ায় ২১ লাখ টাকা, যা সম্পূর্ণ আত্যসাৎ করা হয়েছে। রাজশাহী বাইপাস সংলগ্ন ললিতাহার মৌজা ১৯ কাঠা জমির (দলিল নম্বর-৯৪১৭) মধ্যে ১৬ কাঠা বিক্রি করেছেন পানির দামে। মাত্র ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে বাকি অন্তত ১০ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন মাহাতাব হোসেন।

রাজশাহী শিরোইল বাস টার্মিনালের পাশে মেইন রোড সংলগ্ন শিরোইল মৌজা এক তলা আরসিসি পাকা বিল্ডিং করা ও জমির পরিমাণ .০৯৭৭ শতাংশ। (দলিল নম্বর- ৬২৪২) রাজশহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনয়নের নামে। এটি হাশেম আলীর কাছে ১ কোটি টাকায় বিক্রয় করেন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। কিন্তু বর্তমানে বিল্ডিং ও জমির মূল্য ৮ কোটি টাকা। তা একক ভাবে আত্যসাৎ করেন। তার কাছে শেয়ার হোল্ডার মূলে জমির মালিক সদস্যগণ হিসাব চাইতে গেলে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। কার্ডের মাসিক চাঁদা বন্ধ করে দেন। তার নামে শ্রমিকরা একাধিক মামলা করেছেন।

মাহাতাব হোসেন ২ হাজার ৪৪০ জনের শেয়ার হোল্ডার মাঝে খগখড়ি ললিতহার মৌজার জমি বিক্রির মাত্র ৩ হাজার টাকা করে দেন। গত ৭ জুন মাহাতাব হোসেন চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলন করে বক্তব্যে বলেন, জমি বিক্রি করেছি। ২ হাজার ৪৪০ জনকে ৩ হাজার টাকা করে দিয়েছি। বাকী টাকা আমার কাছে আছে সে টাকা দিয়ে শ্রমিকদেরকে ১০ কোটি টাকার সম্পদ কিনে দিব। কিন্তু তিনি দেননি। রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সড়ক ফেডারশনের নামে প্রতিদিন গাড়ী প্রতি চাঁদা গ্রহণ করে ২০ টাকা। সেই টাকার ও কোনো হিসেবে নাই।

কমপক্ষে প্রতিদিন গাড়ী চলে ৩০০টি। তাতে প্রতিদিন চাঁদায় উঠে ৬ হাজার টাকা। এছাড়াও রাজশাহী হতে স্থানীয় গাড়ী ছাড়া হয় কমপক্ষে ১৫০টি। ¯িøপ ছাড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন চাঁদা গ্রহণ করে গাড়ী ১১০ টাকা। যার চাঁদা উঠে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। আন্তঃ জেলা ঢাকা বাস গাড়ী থেকে চাঁদা গ্রহণ হয় প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা । আন্তঃ জেলা গাড়ী রাজশাহীতে প্রবেশ করে তা প্রতিদিন চাঁদা গ্রহণ করে ২০ হাজার টাকা। রাজশাহীতে এভাবে প্রতিদিন চাঁদা উঠে অন্তত ৫০ হাজার টাকা । যা এক বছরে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তিন বছরে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবুও শ্রমিকরা শিক্ষা, ভাতা কন্যাদায় মৃত্যু কালীন টাকার অধিকার থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বঞ্চিত। সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী নিজস্ব শ্রমিক সদস্যদের মাঝে স্বজনপ্রীতি করেন।

শ্রমিকরা দাবি করেন, আত্মসাতকৃত টাকা দিয়ে মাহাতাক হোসেন নিজে সাত তলা বাড়ি করেছেন, গাড়ি করেছেন ৭-৮টি। এছাড়াও নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

এবিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের শ্রশ্নই আসে না। বরং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি নিরলস। জমি বিক্রি করা হয়েছে নির্বাহী পরিষদের অনুমতি নিয়ে। সেই টাকাও শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আমি কোনো টাকা আত্মসাত করিনি।’ বরং আমি নেতৃত্বে আসার পর শ্রমিকদের সুখে দু:খে পাশে থেকে প্রত্যেক শ্রমিকের উপকার করে এসেছি।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ

আপনার জন্য নির্বাচিত