আজ- সোমবার, ৮ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

রাজশাহীতে লাশ আটকে চাঁদা দাবি, গ্রেফতার ৭

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ক্লিনিকপাড়া হিসেবে পরিচিত নগরীর লক্ষীপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে লাশ বহনকারী গাড়ির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কেউ মারা গেলে সিন্ডিকেটের গাড়িতে করে লাশ বহন করতে বাধ্য করা হয় মৃত ব্যক্তির স্বজনদের। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের গুনতে হয় অতিরিক্ত টাকা। নগরীর অন্য কোথাও থেকে কম ভাড়ায় লাশ পরিবহনের গাড়ি আনলে কিংবা নিজস্ব গাড়িতে লাশ বহন করতে গেলে ওই সিন্ডিকেটকে দিতে হয় নির্ধারিত চাঁদা।

 

চাঁদা দিতে কেউ রাজি না হলে মৃতদেহ আটকে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। মৃত শোকে বিহ্বল স্বজনরা ঝামেলা এড়াতে কোথাও অভিযোগ না করে সিন্ডিকেটের দাবি মেনে নিয়ে মৃতদেহ নিয়ে চলে যায় বাড়ি। এতোদিন এভাবে চললেও এবার ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে মেহেরেপুরের মৃত এক ব্যক্তির স্বজনরা। মৃতদেহ আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আব্দুল্লাহ (৩২), রাজন (৩৫), বাদশা (৪০), এমদাদুল হক (৪০), বিপ্লব (৫০), জাহিদ হাসান (২৬) ও জানারুল ইসলাম (২৮)। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের বাড়ি।

 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস সোমবার এ তথ্য দিয়ে জানান, রোববার বিকালে নগরীর লক্ষ্মীপুরে একটি বেরসকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়নাল আবেদীন নামে মেহেরপুরের এক ব্যক্তি মারা যান। স্বজনরা তাদের নিজস্ব গাড়িতে করে মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। এসময় আব্দুল্লাহ ও রাজন নামের দুই ব্যক্তি এসে তাদের পথ আটকান। তারা মৃতদেহ আটকে চাঁদা দাবি করেন। বলেন, এখান থেকে কোন লাশ নিজ এলাকায় নিয়ে যেতে হলে তাদের গাড়িতে করেই নিয়ে যেতে হবে। তা না হলে তাদের লাশ বহনকারী মাইক্রোবাস সমিতিকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে।

 

মৃত ব্যক্তির স্বজনরা আরএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সেখানে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আব্দুল্লাহ ও রাজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির স্বজনরাও পরে লাশ নিয়ে বাড়ি গেছেন।

 

অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, গ্রেফতার সাত ব্যক্তি মৃতদেহ বহনকারী মাইক্রোবাস সিন্ডিকেট দলের সদস্য। তারা মৃত ব্যক্তির স্বজনদের জিম্মি করে বেশি ভাড়ায় লাশ বহনকারী গাড়ি ভাড়া নিতে বাধ্য করে। নিজস্ব গাড়িতে কেউ মৃতদেহ নিতে চাইলে তাদের নির্ধারিত রেটে চাঁদা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হয়। এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও চিহ্নিত করা হবে।

 

বাংলার কথা/ফেব্রুয়রি ২২, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn