মেহেদীর রং না শুকাতেই লাশ হলেন সাবিনা

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা (রাজশাহী) ০
ফুটফুটে মেয়ে সাবিনা ইয়াসমীন। তার হাতের মেহেদীর রং এখনো শুকায়নি। কে জানে মেহেদীর রং না শুকাতেই লাশ হয়ে যাবেন তিনি। স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতনে উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া মহল্লায় গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়।

 

সাবিনা হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আরো তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেন স্বামী সোহাগ হোসেনের নানা ইনাছিন ওরফে ভসা (৫০), তার স্ত্রী ময়না বিবি(৪০) ও পুত্র ইমরান (২৫)। এনিয়ে এই মামলায় পাঁচ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

জানা গেছে, বাগমারা থানা পুলিশ বুধবার (১২ মে) দিনগত রাতে গাইবান্ধা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানে অংশ নেন বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) তারিক হোসেন সহ পুলিশের আরো দুই কর্মকর্তা।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তারিক হোসেন জানান, গ্রেপ্তার তিনজনও মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। গত ২৯ এপ্রিল স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন করে হত্যা করে গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিনকে। এ ঘটনায় সাবিনা ইয়াসমিনের মা ছামেনা বিবি বাদী হয়ে সাবিনার স্বামী সোহাগ হোসেন সহ তার পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

হত্যাকান্ডের পরদিন পুলিশ স্বামী সোহাগ হোসেন ও তার মা রুপালী বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকান্ডর কথা স্বীকার করেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই তিন আসামীও জড়িত আছে বলে তারা পুলিশকে জানায়। ঘটনার পর তিন আসামী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তারা একাধিক জায়গায় অবস্থান করে বার বার স্থান পরিবর্তন করায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে বেকায়দায় পড়ে। সর্বশেষ পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে গাইবান্ধা উপজেলা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

 

এলাকাবাসী জানানয় ভালবেসে বিয়ে করার মাত্র দেড় মাসের মাথায় গত ২৯ এপ্রিল যৌতুকের দাবিতে স্বামীর হাতে খুন হন গৃহবধূ সাবিনা খাতুন (২৩)। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর পর হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী সোহাগ হোসেন (১৮) ও শাশুড়ি রুপালী বেগমকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চানপাড়া গ্রামের কলেজ পড়ুয়া সোহাগ হোসেনের (১৮) সাথে মাঝগ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা নারী সাবিনা ইয়াসমীনের মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দেড় মাস আগে তারা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়। প্রতিবেশিরা জানান, সাবিনার আগের স্বামীর ঘরে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

 

স্বামী সোহাগ হোসেনের চেয়ে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের বয়স অনেক বেশি। এই অসম বিয়ে মেনে নিতে পারেনি সোহাগের পরিবার। এছাড়া সাবিনা ইয়াসমিনের পরিবার অনেক গরীব হওয়ায় সোহাগের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সোহাগ ও তার পরিবারের লোকজন।

 

সাবিনা ইয়াসমিনের মা ছামেনা বিবি জানান, মেয়েকে টাকার জন্য প্রায়ই নির্যাতন করত স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। হত্যাকান্ডের সাতদিন আগে তিনি একটি এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা লোন করে জামাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাতেও তাদের মন গলেনি।

 

ছামেনা বিবি অভিযোগ করেন, সাবিনাকে তার স্বামী, শাশুড়ী ও পরিবারের লোকজন ব্যাপক নির্যাতন করে ও সর্বশেষ মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করেছে। বিয়ের পর থেকে তারা তাকে মেনে নিতে পারেনি। তিনি এই হত্যাকন্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

 

বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ জানান, আমরা সঠিকভাবে তদন্ত করে দ্রুততার সাথে প্রতিবেদন দিতে চেষ্টা করছি।

 

বাংলার কথা/মে ১৩, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn