মান্দায় ১২টি দোকানঘরসহ জমি দখল

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর মান্দায় দোকানঘর বন্ধ করে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার কুসুম্বা ইউপির কুসুম্বা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুসুম্বা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। দখলকারীরা হলেন,কুসুম্বা গ্রামের মৃত খুশবর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), রুবেল হোসেন (২২), উজ্জল হোসেন (২৫) এবং কুসুম্বা গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে ইসরাফিল (২৬)। অপর দিকে ভুক্তভোগীরা হলেন, কুসুম্বা উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত জারজিজ আলী বিশ্বাসের ছেলে মাসুদ রানা, ইসরাঈল হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও কামরুল হাসান।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগীরা জানান, এই বিবাদমান জমি প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেদের ক্রয়কৃত জমি বলে জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন। দীর্ঘদিন থেকে বিবাদমান জমি নিয়ে দফায় দফায় থানায় সালিশ বৈঠক হলেও সুরাহা মিলছেনা তাদের ভাগ্যে। জোরপূর্বক দখলের পর ভুক্তভোগী ইসরাঈল গংরা বার বার  মান্দা থানায় দারস্থ হলেও এই জমি ও দোকানঘর খোলার ব্যবস্থা করতে পারছেন না। পক্ষান্তরে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। বিবাদমান জমিতে মালামালসহ ১২টি দোকান ঘর বন্ধ থাকায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন দোকানদাররা। ১২টি দোকানে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মালামালসহ বন্ধ রেখেছেন দখলকারীরা। দোকান বন্ধ থাকায় তারা ঋণ মহাজন ও পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের ইসরাঈল ও আনোয়ার জানান, ২০ সনের রেকর্ড মূলে মূল মালিক রামনাথ ঘোষ। এর মৃত্যুর পর ৬২ সনের রেকর্ডে মালিক হন তার দুই ছেলে কিশোরী মোহন ঘোষ ও মোহনী মোহন ঘোষ। এদের দুই ভাইয়ের মধ্যে কিশোরী মোহন ঘোষ মারা যাবার পর তার তিন ছেলে বিকাশ, বিধান ও অশীত এবং মোহনী মোহন ঘোষ ৭২ সনে রেকর্ড মূলে মালিক হন। এর পর ১৯৬৫ সনের বিনিময় সূত্রে ওই জমির মালিক হন খোশমোহাম্মদ, শের মোহাম্মদ  ও মোনাই বিবি গংরা। এই তিনজনের নিকট থেকে গত ১২/০৭/৭২ সনে  কুসুম্বা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেন বিশ্বাসের ছেলে জারজিজ আলী বিশ্বাস ও এর স্ত্রী ছালেহা বিবি ২.৯৫ একর জমি ক্রয় করেন। জারজিজ ও সালেহার মৃত্যুর পরে তার চার ছেলেরা ভোগ দখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে অভিযুক্তরা তাদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তির উপর নির্মিত দোকান ঘরসহ পৌনে ৮ শতাংশ জমি বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে দখল নেন। দখলের পর অভিযুক্ত ইসরাফিল ও রফিকুল গংরা ওই সম্পত্তির ক্রয়সূত্রে মালিক বলে দাবি করে গত ০৭/১০/৭২ সনের ৩৫৩৯৫ নং দলিল বাহির করেন। উক্ত দলিলটি সন্দেহ হলে মহাদেবপুর সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসে ০৭/১০/৭২ তারিখে রেজিষ্ট্রীকৃত উক্ত নাম্বার দলিলের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি মর্মে সদর রেকর্ড রুম রাজশাহী জেলা সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয় থেকে ১৭/০৮/২১ ইং তারিখে একটি প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেন। যার সনদ নং ২৯২। এর পর ইসরাঈল গংরা গত ২২/০৬/২১ ইং তারিখে মান্দা সিনিয়র সহকারি জজ নওগাঁ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ভুক্তভোগীর বড় মা ছালেহা বিবি ঈমান আলীর নিকট উক্ত জমি বিক্রি করেন। এর পর ঈমান আলীর ছেলেদের নিকট থেকে গত ০৬/০৭/২১ ইং তারিখে পৌনে ৮ শতাংশ জমি ক্রয় করি। এই জন্য আমরা দখল করে নিয়েছি।
এ বিষয়ে মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক হাসান জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় মিমাংসা করা সম্ভব নয়। তবে দোকান ঘর বন্ধ রাখা ফজিদারি মামলার আওয়াত পড়ে।এজন্য দোকান ঘর খুলে দেওয়ার জন্য ওসি স্যার চেষ্টা করছেন।
বাংলার কথা/সাজ্জাদুল তুহিন/২৬ সেপ্টেম্বর/২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn