মান্দায় মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি পাইয়ে দিতে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ


সাজ্জাদুল তুহিন, নওগাঁ ০
নওগাঁর মান্দায় এক মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারি বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মান্দা উপজেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার আফছার আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কালিপদ সরদার নামের এক মুক্তিযোদ্ধা সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা কালিপদ সরদার উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অসচ্ছল ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধার জন্য সরকারি অর্থায়নে ‘বীর নিবাস’ নামের বাড়ির বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধা কালিপদ সরদারের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মান্দা উপজেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার আফছার আলী।

টাকা দেওয়ার কিছু দিন পর তিনি জানতে পারেন, মুক্তিযোদ্ধার জন্য সরকারি বাড়ি বরাদ্দ পেতে কোনো টাকা লাগে না। এরপর মুক্তিযোদ্ধা কালিপদ সরদার ওই এক লাখ টাকা ফেরত চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও আফছার আলী তাকে টাকা ফেরত দেননি।

উপজেলার অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারস্থ হন কালিপদ সরদার। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের একাধিকবার বৈঠকের পরেও কোনো কাজ হয়নি। বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে গত ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মুক্তিযোদ্ধা কালিপদ সরদার।

ভুক্তভোগী কালিপদ সরদার বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধার যাবতীয় কাগজপত্র দাখিল করে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সোনালী ব্যাংক মান্দা শাখা থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করি। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা শাখার সাবেক কমান্ডার আফছার আলী আমার সঙ্গে থেকে ঋণ উত্তোলন কাজে সহযোগিতা করেন।

ঋণ উত্তোলনের পর আফছার আলী তার ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেকে নিয়ে সরকারি একটি বাড়ি পাইয়ে দিতে খরচের কথা বলে আমার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু পরে জানতে পারি, সরকারি বাড়ি পেতে কোন টাকা-পয়সা ঘুষ দিতে হয় না। এরপর সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফছার আলীর সঙ্গে দফায় দফায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি টাকাগুলো আর ফেরত দেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো জমিজমা নেই। বসতভিটার সামান্যটুকু জমিই আমার সম্বল। ছেলে সন্তান না থাকায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছোট মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হলেও অর্থের অভাবে তাঁকে পাত্রস্থ করতে পারছি না। এ অবস্থায় ঋণের টাকা নিয়ে আমি চরম বিপাকে পড়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে আফছার আলী দাবি করেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং বানোয়াট। সরকারি বরাদ্দের বাড়ি পাওয়ার জন্য যেসব মুক্তিযোদ্ধা আবেদন করেছেন, তাদের বিষয়ে ইউএনও মহোদয় তদন্ত করে দেখবেন। এদের মধ্যে যারা অসচ্ছল ও ভূমিহীন কেবল তারাই সরকারি বাড়ি বরাদ্দ পাবেন। এখানে আমার কিছু করার নেই।’

এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল হালিম বলেন, ‘সরকারি বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগের ঘটনাটি এক বছর আগের। তবে সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওই মুক্তিযোদ্ধা আমার কাছে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে ডেকে প্রাথমিক একটা শুনানি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আবারও উভয়পক্ষকে ডেকে একটা সমাধানের চেষ্টা করব।’

বাংলার কথা/অক্টোবর ০৮, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: