আজ- বৃহস্পতিবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে ভাবনা বিএনপিতে

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp


বাংলার কথা ডেস্ক ০
করোনা মহামারির কারণে গত কয়েক মাস স্থবির ছিল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। মহামারির মধ্যেই জীবন-জীবিকার তাগিদে স্বাভাবিক হচ্ছে জীবনযাত্রা। স্থবির হয়ে থাকা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও সচল হচ্ছে ধীরে ধীরে।
এ অবস্থায় রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। দলীয় কার্যালয়ে বাড়ছে নেতাকর্মীদের ভিড়। এরইমধ্যে গত ১লা সেপ্টেম্বর ৪৩ বছরে পা দিয়েছে দলটি।
গত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময় পার করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই সংকট কাটিয়ে সামনে কীভাবে মাঠের কর্মসূচিতে দলটি সক্রিয় হবে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
যদিও দলটির নেতাদের দাবি, এই মুহূর্তে দলীয় কোনো সংকট নেই। দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে, এটি সরকারের সৃষ্ট। সরকারি দমনপীড়নের কারণে দল হিসেবে বিএনপি কোণঠাসা অবস্থায় আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়েও নিজেদের কৌশল নির্ধারণ এখন বিএনপি’র জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জোটগুলো সক্রিয় রাখলে সামনে কি করণীয়, জোটের কৌশল এবং কর্মসূচি নির্ধারণ করাকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনের পর থেকে এই জোট অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।
এ ছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক নিয়েও নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জোটগত বা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো কর্মসূচিও নেই বিএনপি’র। এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ উপনির্বাচনগুলোতে বিএনপি গেলেও অংশ নেয়নি জামায়াত। সম্প্রতি বিএনপি জামায়াত ছেড়ে দিচ্ছে এমন খবরও চাউর হয়েছে।
বিএনপির তৃণমূল নেতাদের দাবি, বিএনপি তাদের আগের জৌলুসে ফিরে আসতে হলে নিজেদের বলয়েই ফিরে আসতে হবে। এজন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কঠোর এবং গঠনমূলক কর্মসূচি দেয়ার দাবি আসছে তৃণমূল থেকে।
বিএনপি’র নেতাদের দাবি, শর্ত সাপেক্ষে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন না। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও রয়েছেন দেশের বাইরে। সরকারের দমন-পীড়নের কারণে যেখানে তারা রাস্তায় নামতে পারছেন না, সেখানে আন্দোলন গড়ে তুলবেন কীভাবে?
তবে তারা বিশ্বাস করেন জেল-জুলুমের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই বিরোধী দলকে আন্দোলন করতে হবে। তারা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপিকে একইসঙ্গে কয়েকটি সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এই সমস্যাগুলোকে বাস্তবসম্মত উপায়ে সমাধান করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া দলের গতানুগতিক রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন করেই তাদের এগিয়ে যেতে হবে বলে মনে করছেন দলের সিনিয়র নেতারা।
দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কেমন হবে, এমন প্রশ্নে দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, অবশ্যই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দলীয় কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। দল হিসেবে বিএনপি অবশ্যই সামনে এমন চিন্তা করবে। করোনার কারণে স্থবির হয়ে পড়া দলীয় কর্মসূচিতে গতি আনতে পরিকল্পনা হচ্ছে জানিয়ে নেতারা বলেছেন, করোনা পরবর্তী রাজনীতি আগের সময়ের মতো হবে না এটাই তারা মনে করছেন।
সম্প্রতি এক ভার্চ্যুয়াল আলাচনায় বিএনপি’র রাজনীতি নতুন করে সাজানোর কথা বলেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিএনপি’র রাজনীতিকে নতুন করে সাজাতে হবে। বিশ্ব রাজনীতি এখন চেঞ্জ হয়েছে। এগুলো এড্রেস করেই আমাদের এগোতে হবে।
রাজনীতির ইতিহাসে বিএনপি তিন দফায় ক্ষমতায় ছিল। প্রথম দফায় ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল। দ্বিতীয় দফায় ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল। তৃতীয় দফায় ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল।
অনেকেই মনে করেন, আশির দশকে বিরোধী দলে থাকতেই বিএনপি সুবর্ণ সময় পার করেছে। এমনকি ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদেও বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের পর দলটি সেই ভূমিকা পালন করতে পারছে না কৌশলগত কারণে।
দলটির শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলছেন, দলীয় সমর্থন, কর্মী সমর্থকদের দিক দিয়ে বিএনপি আগের চেয়েও এখন সুসংহত অবস্থায়ই আছে। তবে দলীয় কৌশল, নীতি নির্ধারণের দুর্বলতার কারণে তারা বার বার পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে।
এদিকে, দলের ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির বেশ কয়েকটি পদই অনেক দিন ধরে শূন্য রয়েছে। অধিকাংশ জেলা এবং মহানগরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সব সহযোগী সংগঠন অনেকটাই অগোছালো। বর্তমানে দলের কার্যক্রম সীমিত রয়েছে নেতাদের টুকটাক বক্তৃতা আর রোজকার প্রেস ব্রিফিংয়ের মধ্যে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা বলেন, বিএনপি দলগতভাবে অনেকটাই শক্তিশালী। তবে যখন কোনো আন্দোলনের কর্মসূচির বিষয় আসে, তখনই আমরা একমত হতে পারি না। আর একমত না হলে আন্দোলন কীভাবে হবে? তৃণমূলের নেতারা সব সময় বলে কেন্দ্র থেকে কর্মসূচি দেয়ার জন্য। কিন্তু আমরা সেটা দিতে পারছি না।
দলের সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বড় একটি দল। গত এক দশক ধরে বিভিন্নভাবে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সরকারের রোষানলের শিকার। সারা দেশে আমাদের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের নামে রয়েছে অংসখ্য মামলা। তারপরেও আমরা আমাদের লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম সংগঠক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপি’র রাজনৈতিক কৌশল মূল্যায়ন করে বলেন, বিএনপি কোনো রাজনীতিই করছে না। বিএনপি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে। খালেদা জিয়াকেও লুকিয়ে রেখেছে। খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না, শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছে এই জন্য। কিন্তু তিনি ঘরোয়া মিটিং তো করতে পারবেন। উনি দলের নেতাদের তো পরামর্শ দিতে পারেন। এখনো যদি বিএনপি কিছু না করে তাহলে এই দলের সামনে বড় দুর্যোগের সময় অপেক্ষা করছে।
তিনি বলেন, বিএনপি’র গতানুগতিক রাজনীতি থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। বিএনপি’র রাজনৈতিক পলিসি পরিবর্তন করতে হবে। সংসদে বিএনপি’র এমপিদের জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের ভুল ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিতে হবে। বিএনপি’র উচিত দলের কাউন্সিল করা। তরুণ নেতাদের দলে পদায়ন করা। বুড়োরা তো অনেকদিন রাজনীতি করেছে। যদিও আমি তাদের বাদ দিতে বলছি না।
সূত্র: মানবজমিন
বাংলার কথা/সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn