মঙ্গলবার , ১১ অক্টোবর ২০২২ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

বাদাম চাষে বদলে গেছে আকলিমার জীবন

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
অক্টোবর ১১, ২০২২ ৩:০৮ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক :
আকলিমার বয়স এখন চল্লিশ বছর। বিয়ে হয় ২০ বছর আগে। তিন সন্তানের জননী তিনি। আকলিমা বেগমের বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চরপেচাই গ্রামে। স্বামী তহিদুল দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালালেও অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। অভাবের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। তিন সন্তানসহ ৫ জনের পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সংকট আরও বাড়তে থাকে। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট স্বীকার করে নেয় আকলিমা। কিন্তু স্ত্রী-সন্তানকে ফেলে নতুন সংসার পাতেন স্বামী তহিদুল।

টানা ৬ মাস স্বামী তহিদুলের পথ চেয়ে অপেক্ষা করে স্ত্রী আকলিমা। কিন্তু ৫ বছর অতিক্রম করলেও একটিবারের জন্য স্ত্রী আকলিমা ও তিন সন্তানের খোঁজ রাখেনি স্বামী তহিদুল। এরপর আকলিমা স্বামীর ভিটা ছেড়ে জীবন-জীবিকার তাগিদে তিন সন্তানকে নিয়ে একই এলাকায় ভাই শহিদুলের বাড়ীতে আসেন।
স্বামী তহিদুলের আশা ছেড়ে তিন সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে জীবন যুদ্ধে নেমে পড়েন আকলিমা। কিছুদিন ভাইয়ের বাড়ীতে থেকে তিন সন্তানকে মানুষ করার লক্ষ্যে আকলিমা বেগম কৃষি কাজে মনোযোগ দেন।

এভাবেই আকলিমা বেগম ভাইয়ের সহযোগীতায় চরাঞ্চলে চরপেচাই এলাকায় মানুষের জমি লিজ (কন্ট্রাক) নিয়ে বাদাম, ভুট্টা ও ধানের চাষাবাদ শুরু করেন। এবং তিন সন্তানকে নিয়ে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভাবের সংসারে আকলিমার বড় ছেলে রায়হানের (১৮) ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেই সমপ্তি ঘটে। বড় ছেলেও মায়ের সঙ্গে ক্ষেতে কাজে সহযোগী হয়। দ্বিতীয় ছেলে রাকিবুল হাসান ৫ম শ্রেণি ও ছোট মেয়ে শিশু ক্লাসে লেখাপড়া করছে।

আকলিমা বেগম এ বছর তিন বিঘা জমিতে বাদাম ও ধান চাষ করেছেন। এভাবে তিনি মানুষের জমি লিজ নিয়ে গত ৫ বছর ধরে সন্তানের ভরণপোষণ ও পড়ালেখার খরচ চালিয়ে অনেকটা স্বচ্ছলভাবে সংসার চালিয়ে আসছেন।

পুরুষ চাষিদের সাথে পাল্লা দিয়ে একজন নারী হয়ে তিনি গত ৫ বছর ধরে বাদাম, ভুট্টা ও ধানের চাষাবাদ করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন আকলিমা। জীবন-যুদ্ধে তিনি একজন সংগ্রামী নারী। এ বছর আবহাওয়া অনুকুল থাকায় আকলিমা বেগমের বাদাম ও ধানের ফলন ভালোই দেখা যাচ্ছে।

আকলিমা বেগমের বাদাম খেত দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। আমন ধানের খেত দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে শতশত বিঘায় বাদাম চাষ করেছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকুল থাকায় এ বছর বাদামের ভালো ফলন আসবে বলে চাষিরা আশা করছেন।

আকলিমা বেগম জানান, আমার স্বামী ৫ বছর ধরে কোন খোঁজখবর রাখেনি। আমার তিন সন্তান। বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে লড়াই-সংগ্রাম করেই দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ কিছু জমাতে না পারলেও স্বচ্ছলভাবে জীবন চালাচ্ছি। একদিকে স্বামী থেকেও নেই। অন্যদিকে অভাবের কারণে বড় ছেলের লেখাপড়া বন্ধ হয়েছে। তাই বড় ছেলেসহ আমি ক্ষেতে কাজ করছি আর ছোট ছেলে ও মেয়ের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছি।

আলকিমা আরও বলেন, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন দুই সন্তানের পড়াশুনা করে মানুষের মত মানুষ করতে পারি। এখন আমার স্বামী না আসলেও কোন সমস্যা নেই। জায়গা জমি না থাকলেও ভাইয়েরা আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সব সময় ভাইয়েরা খোঁজ খবর নেন। কৃষি কাজেও ভাইয়েরা অনেক সহযোগিতা করেন। আমি এভাবেই আজীবন কৃষি কাজ করে তিন সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষি কাজের সব ধরণের সহযোগিতার জন্য সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

আকলিমার ভাই ফজর আলী জানান, আমার ছোট বোন আকলিমা খুবই পরিশ্রমী। তিন-চার বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলান। কোন প্রকার মজুরী নেন না। সব কাজই সে নিজেই করে। মাঝে মধ্যে তার বড় ছেলে একটু সহযোগিতা করে। কৃষি কাজের উপর তিন সন্তানকে নিয়ে তার জীবন এখন ভালোই চলছে।

কৃষি কাজের পাশাপাশি হাস, মুরগী ও ছাগল লালন পালন করেন আকলিমা। এভাবেই মাঠে ময়দানে লড়াই সংগ্রাম করেই যাচ্ছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, আকলিমার মতো নারীরা কৃষি কাজে এগিয়ে আসলে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। সেই সাথে কৃষি প্রধান দেশ হিসাবে নারীদের যেমন কৃষির উপর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে বাড়বে কৃষি উৎপাদনশীলতাও। কৃষি বিভাগ থেকে আকলিমাকে প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহায়তা দেয়া হবে।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ