বাঘায় স্বামীর গাড়ী থেকে লাফ দিয়ে স্ত্রীর মৃত্যু!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী) ০
রাজশাহীর বাঘায় স্বামীর চলন্ত প্রাইভেটকার থেকে লাফ দিয়ে মারা গেছেন স্ত্রী। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকায় শ^শুর বাড়ি থেকে ফাঁকি দিয়ে স্ত্রী জুলিয়াকে ঢাকা নেয়ার পথে তিনি প্রাইভেটকার থেকে লাফ দেন। গুরুতর আহত জুলিয়া খাতুনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। ঘটনার পর স্বামী মোহাম্মদ আলীকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় ৬ বছর আগে উপজেলার মীরগঞ্জ গ্রামের মোশারফ হোসেনের মেয়ে জুলিয়া খাতুনের (২০) বিয়ে হয় রাজবাড়ী জেলার শহিদুল মন্ডলের ছেলে মোহাম্মদ আলীর (২৭) সাথে। বর্তমানে তাদের ৫ বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মোহাম্মদ আলী গার্মেন্টস ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকায় বর্তমানে ঢাকার ভাড়া বাসায় থাকেন।

জুলিয়ার মামা মুকুল হোসেন জানান, সম্প্রতি তার ভাগ্নির সাথে জামাইয়ের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। এ কারণে গত এক মাস ধরে জুলিয়া বাঘার মীরগঞ্জে তার মা-বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিল। সে ঢাকায় যেতে চাচ্ছিল না। শুক্রবার জামাই প্রাইভেট কার নিয়ে শ^শুর বাড়ি বেড়াতে আসে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে বাঘা মাজার শরিফ দেখতে আসার কথা বলে স্ত্রী-পুত্রকে প্রাইভেটকারে নিয়ে বাড়ি থেকে শ^শুর বাড়ি থেকে বের হন মোহাম্মদ আলী। কিন্তু তিনি মাজারে না গিয়ে বাঘা বাজার অতিক্রম করে ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ী চালাতে থাকলে জুলিয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে গাড়ির দরজা খুলে মাটিতে লাফ দেয়। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।

এ সময় স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় মোহাম্মদ আলী স্ত্রী জুলিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরাত চিকিৎসক আহত জুলিয়াকে রামেক হাসপাতালে রেফার্ড করেন। খবর পেয়ে জুলিয়ার পরিবারের লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে আসে। এরপর একটি মাইক্রোবাস যোগে জুলিয়াকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বামী মোহাম্মদ আলীকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বিকেল পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/অক্টোবর ০৩, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: