বাঘায় ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে স্কুল ভবন উন্মুক্ত টেন্ডারে নিলাম

নুরুজ্জামান, বাঘা (রাজশাহী) o

গত বছর বন্যার সময় নদীগর্ভের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছিল বাঘা উপজেলার পদ্মা চরের চরকালিদাসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এবার পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার শুরুতেই ভাঙ্গন আশঙ্কায় উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে স্কুলটি নিলাম দেয়া হয়েছে।

প্রথম ও দ্বিতীয়বার সরকারি মূল্য বেশি হওয়ায় কেউ সাড়া দেয়নি নিলামে। তবে তৃতীয়বার সরকারি মূল্য কম করে দেয়ায় অবশেষে বিদ্যালয়টি কিনেছেন স্থানীয় এক ঠিকাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী চকরাজাপুর ইউনিয়নে ১৯৮৩ সালে চরকালিদাসখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯৯৮ সালে স্কুলটি প্রথমে একতলা এবং ২০১১ সালে দ্বিতীয়তল ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে প্রতিবছর বন্যায় পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে নদী থেকে স্কুলের ভবন ৩০ মিটার দূরে অবস্থান করছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম জানান, বর্তমানে স্কুলটি নদীর কিনার ঘেঁষে হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই এটি স্থানান্তরের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিত সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, শিক্ষা কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে স্কুলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে স্কুলটি স্থানান্তরের নির্দেশ দেন এবং স্কুল ভবন বিক্রি করতে উম্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

প্রথমবার ১৫ জুন এবং দ্বিতীয়বার ১৯ জুন স্কুল ভবনের সরকারি ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে উম্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু সরকারি এই মূল্য বেশি দাবি করে কোন ঠিকাদার টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেননি। পরে তৃতীয়বার ১ জুলাই উম্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করায় ভবনটি ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় নিলাম হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবিএম সানোয়ার হোসেন জানান, আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করে নতুন মূল্য দেখে পুরাতন মূল্য নির্ধারণ করে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু সেখানে স্কুল ভবনটি কেনার জন্য কেউ নিলামে অংশ নেননি। ফলে তৃতীয়বার সরকারি মূল্য কম করে পুনরায় তারিখ নির্ধারণ করে টেন্ডার আহ্বান করায় সেটি নিলাম হয়েছে।

তারা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকার কারণে এমন অবস্থা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলে আরো বেশি দামে স্কুল ভবনটি বিক্রি করা যেতো।

চরকালিদাসখালী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিনা পারভীন বলেন, এই স্কুলে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ২০৯ জন। পদ্মা নদী ভাঙতে ভাঙতে স্কুল ভবনের নিকট চলে এসেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পর স্কুলটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সাথে স্কুল ভবনট টেন্ডারে বিক্রি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, নদী ভাঙন ও বন্যার পরিস্থিতি বুঝে স্কুল নিলাম দেয়ার সিন্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথমবার ও দ্বিতীয়বার কেউ এগিয়ে আসেনি। তৃতীয়বার উন্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে স্থানীয় এক ঠিকাদার এটি ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন।

বাংলার কথা/জুলাই ০২, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email