বাঘায় কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে ঝরে পড়া আম কিনলেন ইউএনও


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী) ০
আম্পানের প্রভাবে রাজশাহীর বাঘায় বুধবার রাতভর বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পোষাতে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষকদের কাছ থেকে ১ টাকা দরের আম কিনেছেন ৪ টাকা কেজি হিসেবে। আর এই আম বিতরণ করা হচ্ছে করোনা সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ এতিমখানা, গুচ্ছগ্রাম এবং তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মাঝে।

সরেজমিন ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে, বুধবার রাতের ঝড়-বৃষ্টিতে বাঘা উপজেলায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকের গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। আবার কারো কারো ঘরের টিন উড়ে গেছে। সেই সাথে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা, সহকারি কমিশনার (ভূমি) আল্পনা ইয়াসমিন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমি কৃষকদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি এক সপ্তাহ আগে বাতাসে ঝরে পড়া আম বাঘায় বিক্রি হয়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি। অথচ বুধবার রাতে প্রবল গতিতে বয়ে যাওয়া আম্পানের প্রভাবে বাঘায় রাতভর ঝড় বৃষ্টি হয়েছে। আর এতে ঝরে পড়া আম বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে মাত্র ১ টাকা কেজি দরে। এ কথা শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছে। তাই কৃষকদের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে দিতে নিজ উদ্যোগে আমি ৪ টাকা দরে ২০০ মন আম কিনে স্টক করছি। একদিন পর উপজেলার দুটি গুচ্ছগ্রাম, এতিমখানা এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্তসহ তৃণমুল জনগোষ্ঠির মাঝে বিনামূল্যে এই আম বিতরণ করবো।

সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ১ টাকা দরের আম ৪ টাকা দরে কেনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আমোদপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও মনিগ্রামের জিল্লুর রহমান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতানও ইউএনও’র এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আগের যে কোন বছরের চেয়ে এবার দেশে আম কম হয়েছে। তার উপর বুধবার রাতে বয়ে যাওয়া প্রবল ঝড়ে বাঘায় প্রায ২০ শতাংশ আম ঝরে গেছে। এতে কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি জানান, বাঘা উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। প্রতি মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষকরা আম বিক্রি করে আয় করেন ২০০ কোটি টাকা।

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/মে ২১, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email