আজ- রবিবার, ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

বাঘায় আম গাছের সুরোভিত মুকুল পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিজস্ব প্রতিবেদক,বাঘা (রাজশাহী) o

আম প্রধান এলাকা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন বাগানে এখন মৌ-মৌ গন্ধ। যে কারো প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। কোন কোন গাছ থেকে মুকুল বের হচ্ছে, আবার কোন-কোন গাছে ক্ষুদ্র পরিসরে গুটি ধরা শুরু হয়েছে। ফলে বাগান পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের ভালো ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। তাদের দেয়া তথ্য মতে, গত কয়েক বছর থেকে বাঘার আম বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে।

 

রাস্তার দুই ধারে সারি সারি আম বাগান আর সুস্বাদু-বাহারি জাতের আমের কথা উঠলেই চলে আসে রাজশাহী অঞ্চলের নাম। এই জেলাকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও মূলত আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত জেলার বাঘা-চারঘাট ও পার্শ্ববর্তী চাপাই নববঞ্জ জেলা।এ অঞ্চলের কৃষকরা জানান, গত বছর যে সব বাগানে মুকুল হয়নি, সেসব বাগানে এবার পরিপূর্ণ মুল বের হচ্ছে। আবার কিছু-কিছু গাছে গুঠির ছোট দানা লক্ষ করা গেছে।

তাদের মতে, এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে বিগত বছরের তুলনায় এবার আমের মুকুল ভাল হবে।

 

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমের রাজধানী হিসাবে খ্যাত জেলার বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। সেখানে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক জাতের আম। সব জাতের আম মিলিয়ে এবার বাঘায় দেড় লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমকে ঘিরে প্রতি মৌসুমে বাঘা এলাকায় অন্তত ২৫টি ছোট-বড় আমের বাজার (হাট) বসে। এর মধ্যে বড় বাজার বসে বাঘা সদর, মনিগ্রাম, বিনোদপুর, বাউসা,আড়ানী ও পাকুড়িয়া এলাকায়।

 

স্থানীয় লোকজন জানান, এ বছর আম পাড়ার পুর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যদি আবহাওয়া ভাল থাকে এবং করোনা সংকট নিরসন-সহ রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকে তাহলে এবার যে হারে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে তাতে করে আম বিক্রি এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এ অঞ্চলের আমের মধ্যে-ফজলি, খিরশাপাত, গোপাল ভোগ ও ল্যাংড়ার নাম শোনা যায় সবার মুখে-মুখে। এ ছাড়াও বৌ-ভুলানী, রানীপছন্দ, জামাইখুসি, বৃন্দাবন, লকনা, বোম্বাই খিরসা, মহনভোগ, সেনরি, আ¤্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি খিরসা, বৃন্দাবনী, ও কালীভোগ-সহ প্রায় দেড়’শ জাতের আম রয়েছে। প্রতিবছর আম মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়।

 

বাগান মালিকরা জানান, প্রতি বছর মাঘের শুরুতে আম গাছের ডালে ডালে মুকুল ফুটতে শুরু করে। কিন্তু এবার পৌষে মুকুল চলে এসেছ। এ দিক থেকে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা মুকুলের পরিচর্যা শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, এবার পরিপূর্ণ মুকুল ফুটে গুটি বের হতে ফাল্গুন চলে আসবে। এখানে আঞ্চলিক ভাবে প্রবাদ রয়েছে, ‘আমের আনা মাছের পাই, টিকলে পরে কে কত খাই।’আম চাষিদের মতে, গাছে-গাছে যে পরিমাণ মুকুল আসে, তার সিকিভাগ (২৫%) টিকে গেলেও আমের বাম্পার ফলন হবে।

 

বাঘার আমোদপুর গ্রামের সফল আম চাষি আলী আকবর জানান, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। তাতে হেক্টরে ৩৮ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক লাগে। সে হিসেবে বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমির আমগাছে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭২০ টাকার কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার হয়ে থাকে। যার কমতি হবেনা এবারও ।

 

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ্ সুলতান বলেন,বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে এর উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিক ভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানি-সহ বাজারজাত করলে কৃষকরা ব্যপক হারে লাভবান হবেন। তিনি উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষনা-বেক্ষণের জন্য কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়ার ফলে গত তিন বছর থেকে বাঘার আম বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

 

 

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn