বাঘায় আম্পানে ঝরে গেছে প্রচুর আম, ট্রেনে আম পরিবহণের আশ্বাস

আম্পানের প্রভাবে ঝরে পড়া আম ঢাকায় পাঠাতে ট্রাকে তোলা হচ্ছে

 

নুরুজ্জামান, বাঘা (রাজশাহী) ০
আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত রাজশাহীর বাঘায় এ বছর আমের উৎপাদন এমনিতেই কম। তার উপর বুধবার রাতে আঘাত হানা আম্পানের প্রভাবে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর এ ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায়।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বাঘা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের সময় আমের অপূরণীয় ক্ষতি লক্ষ্য করে কৃষকদের সাথে কথা বলেন অতিরিক্ত পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায়। এ বছর কৃষকদের আমের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রেনে আম পরিবহণ করার আশ্বাস দেন তিনি। তার এ কথা শুনে খুশি স্থানীয় আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত পরিচালকের সাথে ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি রাজশাহীর উপ-পরিচালক শামসুল হক এবং বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান।

আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান

এদিকে, বুধবার রাতে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া ঝড় এবং বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে নানা ক্ষয়-ক্ষতি। একটানা বৃষ্টির কারণে বাঘা উপজেলা পরিষদ চত্বরের কিছু অংশ এবং শাহদৌল্লা সরকারি কলেজের মাঠ সহ নিম্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেই সাথে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের। ঝড়ে পড়া আম বিক্রি হচ্ছে এক টাকা কেজি দরে। আম্পানের প্রভাবে ভেঙ্গে গেছে অনেক গাছপালা এবং উড়ে গেছে ঘরের টিন। বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল বাঘা উপজেলা। কোন-কোন এলাকায় পুকুরের ধারে পৌরসভা থেকে নির্মিত ওয়াল ধসে রাস্তা ভেঙ্গে একাকার হয়েছে। যারা বোরো আবাদে পিছিয়ে ছিলেন, এক রাতের বৃষ্টিতে তাদের ধান এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। এ নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়েছেন তারা।

বাঘার লিড ফার্মার কলিগ্রামের আশরাফউদৌল্লা, মনিগ্রামের জিল্লুর রহমান ও আড়পাড়া গ্রামের মহসিন আলী জানান, রাজশাহীকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও আম প্রধান অঞ্চল মূলত জেলার চারঘাট, বাঘা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। বাঘায় খাদ্যশস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে আমই প্রধান। এর মধ্যে মাটিগত কারণে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঘার আমের সুখ্যাতি সবচেয়ে বেশি।

আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত আম বাগান দেখতে এসে কৃষকদের সাথে কথা বলেন কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক সুধেন্দ্রনাথ রায় ও উপ-পরিচালক শামসুল হক

কৃষকরা বলেন, বিগত দুই বছর কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে সরকারিভাবে সময় বেধে আম পাড়া শুরু এবং বাজার মূল্য ভালো না পাওয়ায় আমের সাথে সম্পৃক্তরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ দিক থেকে এ বছর ভালো কিছু আশা করেছিলাম। কিন্তু চলমান করোনা সংকটের কারণেএকদিকে যখন আম চাষী এবং ব্যবসায়ীরা হতাশায় ভুগছেন, তার মধ্যে আকষ্মিক আম্পানের আঘাতে আমরা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছি। এখন যেটুকু আম আছে, আমরা সরকারের কাছে তার ন্যায্য মূল্য চাই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান জানান, বুধবার রাতে আম্পান ঝড়ে প্রায় ২০ শতাংশ আম ঝরে গেছে। পরপর দুই বছর দেশে প্রচুর পরিমাণ আম উৎপাদন হওয়ায়, এবার আমের উৎপাদন তুলনামলূক কম হয়েছে। আর উৎপাদন কম হওয়ায় দাম ভাল পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো দাম পেলে ঝড়ের ক্ষতি অনেকটাই পুষে যাবে।

বাংলার কথা/মে ২১, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email