আজ- সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

বাঘায় অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ করলেন ইউএনও 

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিজস্ব প্রতিবেদক,বাঘা (রাজশাহী) o

স্থানীয় কৃষক এবং এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মায় অবশেষে বালি উত্তোলন বন্ধ করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা।

 

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাঘা থানা পুলিশের সহযোগিতায় নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মায় অভিযানে নামেন এবং বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেন। একই সাথে আগামী এক দিনের মধ্যে ইজারাদারকে পাইপ তুলে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

 

সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মা নদী। এক সময় এই নদীটি উত্তর প্রান্ত দিয়ে বয়ে চলা পাকা-রাস্তা তথা বাধ সংলগ্ন থাকলেও গত ১৫ বছরে নদীটি প্রায় ২ কিরো মিটার দক্ষিণ দিকদিয়ে প্রবাহমান। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ফসলের মাঠ সহ আম বাগান।

 

স্থানীয় কৃষক আশরাফুদৌলা, নাবেক ইউপি সদস্য সানিউল মালিতা, আব্দুর রাজ্জাক, শফিকুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম ,আমির আলী ও নাশির উদ্দিন সহ অনেকেই জানান, এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীকে সাথে নিয়ে পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরজাজুল ইসলাম (মেরাজ) সম্প্রতি কৃষি জমি ক্ষতি করে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করে আসছিল। এ ভাবে বালি উত্তোলনের ফলে এক দিকে নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ অপর দিকে কৃষকরা ধারনা করছেন, সামনের বর্ষা মৌসুমে সমস্ত ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার। একই সাথে এলাকার ঘর-বাড়ি ও গাছপালা ভাঙ্গার ও আশঙ্কা করছেন তারা।

 

এ জন্য প্রতিকার চেয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-সহ স্থানীয় সাংসদ সদস্যের নিকট একটি অভিযোগ অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন বাঘা থানা পুলিশকে সাথে করে ঘটনাস্থলে যান এবং বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেন। একই সাথে আগামি এক দিনের মধ্যে ড্রেজার সহ পাইপ সরিয়ে ফেলারও নির্দেশ প্রদান করেন।

 

বাঘা পৌর কাউন্সিলর আলতাব হোসেন জানান, পাকুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষী নগর পদ্মা নদী এবং কিশোরপুর নদী থেকে বালি উত্তোলনের ইজারা নিলেও বর্তমানে তিনি অবৈধ ভাবে পাকুড়িয়া এলাকার কামাল দিয়ার মৌজা থেকে বালি তুলছিলেন। এতে করে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেন।

 

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, বাঘার পদ্মায়- জেলা প্রশাসক ও খনিজ মন্ত্রণালয় থেকে যে স্থানে বালি উত্তোলনের নির্দেশ রয়েছে সেই স্থানটির নাম রাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষী নগর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর। অথচ বালি উত্তোলন করা হচ্ছিল কালিদাসখালি এলাকার কামাল দিয়ার মৌজায়। এ কারণে বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সাথে পাইপ-সহ ড্রেজার সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহ ঘর-বাড়ী নির্মাণের ক্ষেত্রে বালির প্রয়োজন আছে। এলাকার সার্থে ইজারাকৃত স্থানে এই মুহূর্তে ভালো বালি না পাওয়ায় অন্য স্থানে তুলছিলাম। বাধা এসেছে এখন থেকে বন্ধ রাখবো।

 

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/জানুয়ারি ২৮, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn