বাঘায় অনলাইনে আম কেনা-বেচা করছে শিক্ষার্থীরা

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী ) ০
মহামারি করোনা সংকটের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এবারও অনলাইনে জমে উঠেছে আম কেনা-বেচা। গ্রাহকদের উপস্থিতি না থাকলেও ফোনকল, ইমো, ভাইভার, হোয়াটস্যাপ আর ফেসবুক ম্যাসেনজারে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কর্মতৎপরতা। এদিক থেকে ধস নেমেছে লকনা আমের। আর কদর বেড়েছে সুস্বাদু- হিমসাগর, গোপাল ভোগ ও ল্যাংড়া আমের। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে, ততই বাড়ছে এ সব আমের চাহিদা ও দাম।

 

 

স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা জানান, বিগত সময়ে অনলাইনে আমের বেচা-বিক্রি ছিল না। গত বছর থেকে বাঘা সদরসহ আশপাশের যুব সম্প্রদায় ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা মহামারি করোনা সংকটের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এলাকার বাগান মালিকদের কাছ থেকে ভালোজাতের আম কিনে অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা করছে। এতে করে ভিড় বেড়েছে কুরিয়ার সার্ভিস ও রেল স্টেশনসহ ঢাকাগামী বাস টার্মিনালে। আর অর্ডার নেয়া আমের অধিকাংশ কার্টুন চলে  যাচ্ছে ঢাকা,  চট্টগ্রাম, সিলেট, নরসিংদী ও ভৈরবে।

 

 

বাঘার আমোদপুর গ্রামের তরুণ তানজিম হাসান স্বদেশ “রাজশাহী ম্যাংগো প্রোডাক্টস ’’ নামে পেইজ খুলে তার তিন বন্ধুর সাথে গতবারের ন্যায় এবার অনলাইনে আম বিক্রি শুরু করেছেন। তার ছাপনো স্টিাকারে শ্লোগান রয়েছে, ‘আম খাবেন ? সেরাটাই খান, বাঘা-রাজশাহীর সুস্বাদু আম। আসল আমের আসল স্বাধ পেতে যোগাযোগ করুন “রাজশাহী ম্যাংগো প্রোডাক্টস এর ফেসবুক পেইজে ’’। এতে করে তার অনেক অর্ডার আসছে এবং ভোক্তারা অল্প সময়ের মধ্যে পেয়ে যাচ্ছেন চাহিদা অনুযায়ী ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু ও পরিচ্ছন্ন আম।

 

শুধু স্বদেশ নয়, তার মতো আরো অনেক তরুণ উদ্যোক্তা আম ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে তারা বাগান থেকে আম পেড়ে সেখানেই প্যাকিং করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভোক্তার নিকটস্থ কুরিয়ার সেন্টারে পৌঁছে দিচ্ছেন। আবার অনেকেই হোম ডেলিভারি নিচ্ছেন।

 

 

ঢাকা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আম ক্রেতা কলেজ শিক্ষার্থী তিন্নি , গৃহিনী রুনা আক্তার ও শাকিলা এবং ঢাবি শিক্ষার্থী অর্কসহ অনেকেই জানান, এর আগে বাজার থেকে আম কিনে খেয়েছি। এ সব আম বাসায় নিয়ে এলে এক দ ‘দিন পর পঁচন ধরে। আমরা গত বছর থেকে অনলাইনে আম কিনে লাভবান হয়েছি। এখানে টাকার পরিমাণ কিছুটা বেশি লাগলেও এই আমগুলো অনেকদিন রেখে খাওয়া যায়। কারণ এই আমে কোন ক্যামিকেল থাকে না। এর স্বাদ ও গুণগত মান বাজারে কেনা আমের চেয়ে অনেক ভালো। তারা বলেন, আমরা গত বছর ফেসবুকে “রাজশাহী ম্যাংগো প্রোডাক্টস’’ নামে পেইজ দেখে মোবাইলে যোগাযোগ করি। এরপর তারা আম পাঠায়। এখন আমাদের পাশের বাড়ি সহ অন্যান্য বন্ধুরাও আমের অর্ডার দিচ্ছে “রাজশাহী ম্যাংগো প্রোডাক্টসে’’।

 

 

অনলাইনে আম পাঠানো প্রসঙ্গে বাঘার আমোদপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী তানজিম হাসান স্বদেশ জানান, শখের বসে চার বন্ধু মিলে গত বছর অনলাইনে আম ডেলিভারি দেয়া শুরু করি। ভেবেছিলাম এবার পড়ালেখার চাপে হয়তো ব্যবসা করার সুযোগ পাব না। কিন্তু করোনা মহামারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ফের আম চালান দিচ্ছি। এতে করে গতবার যারা আম নিয়েছেন, তাদের দেখাদেখি আরো অনেকেই প্রতিদিন আমের অর্ডার দিচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি গ্রাহকদের কেমিক্যালমুক্ত ভালো আম দেয়ার মাধ্যমে নিজেদের সুনাম ধরে রাখতে।

 

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/৩০ মে, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn