আজ- রবিবার, ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

বাঘাইড় মাছে লাখপতি জেলে ওয়ালিউর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নুরুজ্জামান, বাঘা (রাজশাহী) ০
নদী মাতৃক বাংলাদেশে মাছের রাজা বলা হয় ইলিশকে। প্রবাদ রয়েছে, মাছে-ভাতে বাঙ্গালি। তবে এসব কথা এখন তেমন একটা শোনা যায় না। এখন শোনা যায়, এ বছর ইলিশ বেশি, না কম হলো। এবার রপ্তানি হবে, না আমদানি হবে। এদিক থেকে বাঘাইড় মাছের গল্প নেই বললেই চলে। অথচ গত পাঁচ দিনে নদী থেকে বাঘাইড় মাছ ধরে লাখপতি হয়েছেন এক জেলে।

 

লাখপতি এই জেলের নাম ওয়ালিউর রহমান (৩৩)। তার বাড়ি বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাশখালি গ্রামে। তার পিতার নাম ইউসুফ আলী দেওয়ান। তিনি প্রতিদিন চকরাজাপুর পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন। গত রবিবার ৪০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ পান তিনি। এর পরদিন সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ফের ৯ কেজি ওজনের রুই মাছ ও সাড়ে তিন কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ উঠে তার জালে। ৯০০ টাকা কেজি দরে রুই মাছটি বিক্রি করেন আট হাজার ১০০ টাকা। আর ৩৫০ টাকা দরে বাঘাইড়টি বিক্রি করেন ১ হাজার ২২৫ টাকা। এর আগে পাওয়া ৪০ কেজি বাঘাইড়টি ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার টাকা।

 

এর তিন দিন আগে ওয়ালিউরের জালে এক সঙ্গে পাঁচটি বাঘাইড় উঠেছিল বলে নিশ্চিত করেন চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম। যার ওজন হয়েছিল ৭৪ কেজি। এর মধ্যে দু’টি ১৭ কেজি, একটি ১৪ কেজি ও অন্য দু’টি ২৬ কেজি। মাছগুলো ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা। এখানেই শেষ নয়, এক সাথে পাঁচটি মাছ পাওয়ার আগের দিনও একটি ২৪ কেজি ওজনের বাঘাইড় ধরা পড়ে ওয়ালিউরের জালে। আর সেটা তিনি বিক্রি করেছেন ২০ হাজার টাকায়।

 

ওয়ালিউর রহমানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনে তার জালে ধরা পড়েছে ১৫০ কেজির বেশি মাছ। সেগুলো বিক্রি করে তিনি আয় করেছেন প্রায় সোয়া লাখ টাকা। আবেড় আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, এ বছর নদীতে তেমন একটা ইলিশ ধরা পড়েনি। তবে পাঁচ দিনের ব্যবধানে লাখ টাকার উপরে বাঘাইড় বিক্রি করে তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। গ্রামের সবাই তাকে ‘মাছ কপালী; বলে আখ্যায়িত করছেন।

 

ওয়ালিউর রহমান বলেন, নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন তিনি। তাদের সংসারে নেই আর্থিক দৈন্যতা। বাবা-মা চেয়েছিলেন লেখাপড়া করাতে। কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি নিজ ইচ্ছায় বিদ্যালয় ছাড়েন। তারপর থেকে পদ্মায় ফাঁস জাল দিয়ে মাছ শিকার এবং কখনো কখনো উপজেলার সড়কঘাট থেকে দুর্গম চরাঞ্চলে নিজ মোটরসাইকেল যোগে যাত্রী বহন করেন তিনি।

 

বাঘার বিশিষ্ট মাছ ব্যবসায়ী সুজন আলী বলেন, ওয়ালিউর পদ্মা থেকে লাগাতার বড় বড় বাঘাইড় তুলছে শুনে আমি ৪০ কেজি ওজনের মাছটি দেখতে গিয়েছিলাম। অনেক মানুষই এক পলক ওই মাছটি দেখতে ভিড় করেছিল সেখানে। তার মতে, মাছ পাওয়াটা সম্পূর্ণ ভাগ্যের ব্যাপার।

 

বাঘা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীতে মোটামুটি বছরজুড়েই বাঘাইড় মাছ পাওয়া যায়। তবে শীতকালে একটু কমই ধরা পড়ে। এদিক থেকে ওয়ালিউর রহমানকে ভাগ্যবান বলতে হয়।

 

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn