বাগমারায় হাট-বাজারে সবজির দাম চড়া


বাগামারা প্রতিনিধি o

বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় সেই জমিতে কৃষক সবজি আবাদ করেছিল। ফুলকপি, পাতাকপি, মূলা, গাজর, পালং শাক সহ নানান জাতের আগাম শীতেরর সবজি। কিন্তু গত কয়েকদিনে উজানের পাহাড়ের পানি সেই সাথে কয়েক দিনের প্রবল বর্ষনের পানি যোগ হয়ে বাগমারার ফকিরানি ও বারনই নদীর পানি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়ে সেই পানি বিলে প্রবেশ করেছে। আর এই পানিতে ডুবে গেছে কৃষক স্বপ্নের সবজি ক্ষেত। শুধু সবজির ক্ষেতই তলিয়ে যায়নি সেই সাথে তলিয়ে গেছে কৃষকের আমন ধান, পানবরজ সহ অনেক পুকুরের মাছ। এতে এলাকার কৃষক সর্বঃশান্ত হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ফুলে ফেপে ওঠে নদী নালা খাল বিল। সেই সাথে গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণের নদীর পানি আরো বেড়ে যায়। এই পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের সবজি ক্ষেত। এসব কারণে বাজারে এখন তেমন কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। যেটুকু সবজি পাওয়া যাচ্ছে তার দাম আকাশ ছোয়া। আগে যে মূলা বিশ টাকা কেজিতে বিক্রি হত এখন তার দাম পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা। এছাড়া পটল বেগুন আলুর কেজিও এখন পঞ্চাশ টাকার উপরে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার দফায় দফায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগমারা সহ আশে পাশের এলাকার কৃষকরা তেমন সবজি করতে পারেনি। বার বার তাদের সবজি ক্ষেত তলিয়ে যায়। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় কৃষক আবার আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে। তারা নতুন উদ্যোমে সবজি আবাদে নেমে পড়েছে। উপজেলার কাচারীকোয়ালীপাড়া, দ্বীপপুর, বিহানালী, গোয়ালকান্দি, হামিরকুৎসা সহ বেশ কিছু ইউনিয়নের কৃষকরা আগাম সবজি চাষে নেমে পড়ে। এসব এলাকার কৃষকরা বাড়ির আশে পাশে অপেক্ষাকৃত উচু জমিতে শুরু করে সবজির আবাদ। মূলা ফুলকপি পাতাকপি, গাজর বেগুন সহ বিভিন্ন সবজি চাষে তারা আগাম জমি প্রস্তুত করে এবং জমিতে সবজি রোপন করে। এখন সবজি গুলো সবে বেড়ে ওঠা শুরু করেছে। এই অবস্থায় বন্যার পানি ওঠে সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেছে।

কাচারীকোয়ালীপাড়ার কৃষক হজরত আলী জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে এবার শীতকালীন আগাম মূলা চাষ করেছেন। গাছ গুলো বেশ বেড়ে ওঠেছে। এরি মধ্যে বন্যার পানিতে তার মূলা ক্ষেত তলিয়ে গেছে। উপায়অন্তর না পেয়ে সেই মূলা গাছ ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে এনে শাক হিসাবে বিক্রি করছেন। একই আক্ষেপ করে হামিরকুৎসার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনিও আগাম ফুল কপি চাষ করেছেন এক বিঘা জমিতে। গাছগুলো বেষ বড় হয়েছে। হটাৎ বন্যার পানি তার জমিতে প্রবেশ করায় তার ফুল কপির গাছ গুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে বাগমারায় কৃষকরা বারবার সবজির ক্ষেত করে তা মার খাওয়ায় বাজারে এখন সবজির আকাশচুম্বি দাম ওঠে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে এবার শীত মৌসুমে সবজির দাম আরো বেড়ে যাওয়ার আশংঙ্কা করেছেন এলাকার সবজি ব্যবসায়ীরা।

ভবানীগঞ্জ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সাইদুর, আফজাল, জালাল সহ ৫/৬ জন সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, আগে সকালে দোকান খুললেই সবজি চাষীরা নানান জাতের সবজি নিয়ে এসে বসে থাকতো। তবে এবারের বন্যার পর থেকে সবজি চাষিদের আর দেখা মিলছে না। তার পরও আমরা দোকান খুলে বসে আছি সামান্য কিছু সবজি নিয়ে ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান,‘ দ্বিতীয় দফা বন্যার কারণে বাগমারা ও আশেপাশের এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু সবজি ক্ষেতই নয় অনেকে বাড়িঘরও ভেঙ্গে গেছে। তার মতে যেহেতু নদীতে ব্যাপক স্রোত রয়েছে। পানি দ্রুতই নেমে যাচ্ছে। এখানকার কৃষক সবজি আবাদ বার বার করে মার খাচ্ছে। এটা বিবেচনা নিয়েই আমার কৃষকের পাশে দাড়িয়েছি। তাদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন সবজি বীজ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি।’

বাংলার কথা/মাহফুজুর রহমান প্রিন্স/অক্টোবর ০৫, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: