বাগমারায় সিলিন্ডার গ্যাসের দাম নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা (রাজশাহী) ০
সরকার দুই দফা মূল্য কমালেও রাজশাহীর বাগমারায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ইচ্ছামতো আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ অধিকাংশ গ্রাহকদের। তাদের অভিযোগ, আগের দামের চেয়ে এলপিজি প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য দুই দফায় কমে ছয়শ’ থেকে সাড়ে ছয়শ’ টাকা নির্ধারন করা হলেও এই দামে কোথাও গ্যাস মিলছে না। উপজেলার অধিকাংশ দোকানী যমুনা, বসুন্ধরা সহ বিভিন্ন গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এখনও আগের মত সাড়ে আটশ’ থেকে সাড়ে নয়শ’ টাকা হারে আদায় করছে। অনেক দোকানী এর চেয়েও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে বলে বিভিন্ন এলাকার গ্যাস ব্যবহারকারীদের সূত্রে জানা গেছে।

সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীরা বলছেন, করোনার অজুহাত তুলে এক শ্রেণির অতি মুনাফালোভী দোকানী পূর্বের লকডাউনের ক্ষতি পোষাতে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করছে।

ভবানীগঞ্জ গোডাউন মোড়ের গ্যাস বিক্রেতা হাজী আব্দুল মালেক জানান, তার দোকানে বিভিন্ন দাম ও মানের গ্যাস রয়েছে। তিনি বসুন্ধরা সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি করছেন ৭৮০ টাকা এবং একই ওজনের যমুনা গ্যাস ৭৫০ টাকা ও বেক্সিমকো গ্যাস ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তিনি জানান, এসব গ্যাস তিনি সামান্য লাভে বিক্রি করে থাকেন।

তবে সরকার যে গ্যাসের দাম কমিয়েছে, সে সংক্রান্ত কোন নির্দেশ তারা এখনও পাননি বলে জানান হাজী আব্দুল মালেক। পেলে সেই মতো ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভবানীগঞ্জ বাজারে একই গ্যাসের বাড়তি মূল্য নিতে দেখা গেছে বেশ কিছু দোকানীকে। বসুন্ধরা সাড়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার হাজী আব্দুল মালেকের দোকানে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হলেও একই গ্যাসের সিলিন্ডার ভবানীগঞ্জ লতিফ মার্কেটের বাশার ইলেকট্রনিক্সে বিক্রি করতে দেখা গেছে ৮২০ টাকা দরে।

দোকানদার সাইফুল ইসলাম দুলাল জানান, এই গ্যাস তারা আরো বেশি দামে বিক্রি করতেন। এখন সরকার দাম কমানোর ফলে ৮২০ টাকায় বিক্রি করছেন। তবে সরকার আরো দাম কমিয়ে থাকলে এর চেয়ে কম দামে তিনি গ্যাস বিক্রি করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।

এই্ বাজারের আরো বেশ কিছু গ্যাসের দোকানে ঘুরে একই নাম ও ওজনের গ্যাসের সিলিন্ডারের দামের মধ্যে দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ টাকার দামের ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাজারে প্রশাসনের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই যে যার মতো দাম আদায় করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবানীগঞ্জ বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার এলাকার কোথাও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে না। সর্বত্রই বিপিসি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে দোকানীরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গ্যাস নিয়ে দোকানীরা একটি অলিখিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তাদের মতে, এখানে রাজনৈতিক ইন্ধন থাকায় প্রশাসনও এই সিন্ডিকেট ভাংতে মাঠে নামার সাহস পাচ্ছে না। তারা জানান, এর আগে উপজেলাব্যাপি লবনের দাম কেজিতে দুইশ’ টাকা ছাড়িয়ে যায়। গড়ে উঠে লবন সিন্ডিকেট। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ ব্যাপক অভিযান ও জেল জরিমানা করে লবন সিন্ডিকেট দমন করলে তখন বেকে বসেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান। সে সময় তার এক আত্মীয় লবন মজুত করায় তার জরিমানা হলে ভাইস চেয়ারম্যান এমপির দারস্থ হয়ে ইউএনওকে বদলির তৎপরতা চালালে ইউএনও পরবর্তী অভিযানগুলো দায়সারাভাবে চালিয়ে শেষ করেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগি মহলের মতে, এবারো গ্যাসের বেলায় একই সিন্ডিকেটের কারসাজি শুরু করেছে। তা না হলে প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে দ্বিগুন মূল্যে গ্যাস বিক্রি করার সাহস পেতো না দোকানীরা। স্থানীয়দের মতে, শুধু গ্যাসই নয়, বাগমারার বিভিন্ন হাট-বাজারে এখন প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম অনেক বেশি হারে আদায় করা হচ্ছে।

তাদের মতে, এখানে ভোক্তা অধিকার আইন থাকলেও এটা শুধু কাগজে কলমে রয়েছে। এর বিন্দুমাত্র বাস্তবায়ন নেই। যেখানে যে যার মতো পারছে, বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছে।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ জানান, অচিরেই গ্যাস সহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য যাচাই বাছাই করতে বাজার মরিটরিং শুরু করা হবে। কোথাও কোন অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোন শিথিলতা বা ছাড় দেয়া হবে না।

বাংলার কথা/আগস্ট ১৪, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: