বাগমারায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা (রাজশাহী) o
বাগমারার সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সানশাইনের বাগমারা প্রতিনিধি বাগমারা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাগমারার কো-অর্ডিনেটর মাহফুজুর রহমান প্রিন্স এবং দৈনিক সানশাইন সম্পাদক তসিকুল ইসলাম বুকুলের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে রাজশাহীর আদালতে।

মামলাটি দায়ের করেছেন এক সময়ের বাগমারা তথা বাংলাদেশে ত্রাস সৃষ্টিকারী বাংলাভাইয়ের অন্যতম সহযোগি হিসাবে পরিচিত একাধিক হত্যা ও নির্যাতন মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেএমবি আব্দুল হালিম ওরফে সুদারু হালিম।

এদিকে, এই মামলাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক দাবি করে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও বাগমারার পিচ ফ্যাসিলেটেটর গ্রুপ (পিএফজি}’র সদস্যরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, পিচ অ্যাম্বাসেডর ও ভবানীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, পিচ অ্যাম্বাসেডর ও ভবানীগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাদিরুজ্জামান মিলন, আব্দুল মজিদ ও ছাত্রলীগে নেতা বাবু সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও ভবানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীবৃন্দ।

স্মারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে জামায়াত বিএনপি’র মদতপুষ্ট জামায়াতুল মুজাহেদীন (জেএমবি) তথা বাংলাবাহিনীর শীর্ষ কিলার বাংলাভাই বাগমারা ও আশেপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করে। তারা এক মাসে ২২ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে অনেককে গাছের সাথে টাঙ্গিয়ে রাখে এবং নির্যাতনে চিরতরে পঙ্গু করে ফেলে অন্তত আরো পাঁচশতাধিক লোকজনকে। পঙ্গুদের অনেককেই ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। এই বাংলাবাহিনী একসাথে ৬৬ জেলার আদালত চত্তরে বোমা হামলা চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা ঝালকাঠিতে দুই বিচারকের গাড়িতে বোমা হামলা করে হত্যা করেছিল। আজো তাদের আন্ডারগ্রাউন্ড নাশকতামূলক কর্মকান্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘এই বাংলাভাইয়ের অন্যতম ক্যাডার বাগমারার ত্রাস রাজশাহী জেলা ছাত্রশিবিরের নেতা পরবর্তীতে জামায়াত নেতা আব্দুল হালিম যার বিরুদ্ধে জেএমবি’র একাধিক হত্যা ও নির্যাতন মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় আব্দুল হালিম, বিএনপি নেতা ব্যারিষ্টার আমিনুল হক, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাদিম মোস্তাফা, মিজানুর রহমান মিনু সহ অনেকের সাথে যাবজ্জীবন দণ্ডে দন্ডিত হন। এই সেই জেএমবি ক্যাডার আব্দুল হালিম, যিনি বাংলাভাইয়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ব্যাপক নির্যাতন ও চাঁদাবাজি করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। পরবর্তীতে তিনি এসব লুটপাটের টাকা দিয়ে বাগমারার ভবানীগঞ্জে চড়া সুদ ভিত্তিক ‘আত তিজারা’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান খুলে সুদের ব্যবসা চালাতে থাকেন। এসব অঢেল অর্থ বিত্তের সুবাদে তিনি বিভিন্ন দপ্তর সহ আওয়ামী লীগের অনেককেই ম্যানেজ করে ফেলেন। এরই ধারাবাহিকতায় আব্দুল হালিমের আত তিজারা প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী প্রতিষ্ঠান করে পুরস্কৃত করে উপজেলা সমবায় দপ্তর। একই সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসে একটি বিশাল এলইডি টেলিভিশন উপহার দিয়ে আওয়ামী লীগের আশির্বাদ ও ছত্রছায়া পাওয়ায় ধান্দা করেন।’

এসব নিয়ে রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সানশাইন ও জাতীয় পত্রিকা জনকন্ঠ সহ কয়েকটি প্রত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে আব্দুল হালিম ক্ষিপ্ত হয়ে রাজশাহীর বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় এর আদালতে (মামলা নং ৩/২০২০) বাগমারার সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, সানশাইনের সম্পাদক তসিকুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন।

বাগমারা পিএফজির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল নিবেদন করে বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সদয় অবগতির জন্য জানাতে চাই, জনাব মাহফুজুর রহমান প্রিন্স ও তসিকুল ইসলাম বকুল সৎ ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক। তাদের বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন মানহানি মামলায় সাংবাদিক সমাজ তথা সমাজের সচেতন মহলের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বাগমারার সচেতন সমাজ জঙ্গি মতাদর্শে বিশ্বাসী জামায়াত-শিবিরের অনুসারী বাদির দ্বারা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় হয়রানির সুযোগ পেলে দেশে আবারও জঙ্গির রাজত্ব কায়েম ও জামায়াত শিবিরের পূনরুত্থানের আশংকা রয়েছে।’

স্মারকলিপিতে বিষয়টি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ জানান,‘আমরা স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অতিদ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা করব। পরবর্তিতে সেখান থেকে কোন নির্দেশনা আসলে সে মোতাবেক প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

বাংলার কথা/মাহফুজুর রহমান প্রিন্স/অক্টোবর ১৪, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: