আজ- শনিবার, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

বাগমারায় ভ্রাম্যমান দুধ ডিম মাংস বিক্রি, স্বস্তিতে মানুষ

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

শামীম রেজা, বাগমারা (রাজশাহী) ০
নিজের খামারের ডিম বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন রাজশাহীর বাগমারার পোল্ট্রি খামারি সাগর আহম্মেদ (৩০)। গত বছর করোনাকালে ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন তিনি। সে আশংকা করেছিলেন এবারো।

 

তবে সেটা কেটে গেছে এবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয়কেন্দ্রের কারণে। তারা ন্যায্য দামে কিনে নিচ্ছেন ডিম। শুধু সাগর আহম্মেদ নন, তার মতো অনেক দুধ বিক্রেতাও এবার করোনাকালে চিন্তামুক্ত হয়েছেন। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভ্রাম্যমান দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রিকেন্দ্রের কারণে ক্রেতারাও রক্ষা পাচ্ছেন বাড়তি দাম থেকে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এই কার্যক্রম সাড়া ফেলেছে।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, করোনাকালে লোকজনের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য ভ্রাম্যমান দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়। গত ১১ এপ্রিল উপজেলায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

 

এরপর থেকে ট্রাক ও ইজিবাইকে করে শুরু হয় ন্যায্য দামে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, হাটবাজার ও এলাকায় গিয়ে এসব বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিহালি লাল ডিম বিক্রি করা হচ্ছে ২৬ টাকায়। প্রতিলিটার দুধ ৬০ টাকায় এবং গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে ৫০০টাকা কেজি দরে। সকাল থেকে চলছে ভ্রাম্যমান বিক্রির কার্যক্রম।

 

সরেজমিনে ভবানীগঞ্জ, তাহেরপুর ও মচমইল এলাকা ঘুরে ভ্রাম্যমান দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করতে দেখা যায়। ট্রাক ও ইজিবাইকে করে বিক্রি করা হচ্ছে এসব। ক্রেতাদের ভীড় ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। রবিবার (২ মে) দুপুরে ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেট এলাকায় ভ্রাম্যমান বিক্রিয়কেন্দ্রে ক্রেতাদের যথেষ্ট ভীড় চোখে পড়ে। স্বয়ং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ট্রাকে থেকে বিক্রি কার্যক্রম তদারকি ও সহায়তা করতে দেখা যায়।

 

মমেনা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূ জানান, তিনি ৬০ টাকায় এক লিটার দুধ কিনেছেন। ভালো ও দাম কম হওয়ার কারণে তিনি এখানে ছুটে এসেছেন বলে জানান। তার যুক্তি বাজারে ভেজাল দুধ বিক্রি হতে পারে এবং দামও ১০-২০ টাকা বেশি। তাই এখানে ছুটে এসেছেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন এনজিও নারীকর্মী বলেন, তিনি কম দামে ডিম কিনেছেন। ভ্যানচালক আবদুর রহমান (৫৫) বলেন, রমজান মাসে দুধ ও ডিমের চাহিদা থাকায় বাজারে দাম বেশি। এ কারণে ভ্রাম্যমান বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কিনেছেন।

 

ডেইরি খামারি মকছেদ আলী জানান, খামার থেকে প্রতিদিন দেড় মণ দুধ পাওয়া যায়। আগে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে কম দামে বিক্রি করতে হতো। তবে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভ্রাম্যমান বিক্রিয়কেন্দ্র চালু হওয়াতে দুধ বিক্রি নিয়ে আর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে না। বাড়ি থেকেই বিক্রয়কেন্দ্রের লোকজন এসে নিয়ে যাচ্ছেন।

 

উপজেলা পোল্ট্রি ফার্মার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, তারা সরকারের এই কার্যক্রমকে সহায়তা করছেন। করোনাকালে তারা ডিমের ভালো দাম পাচ্ছেন। গত বছর যে আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়েছে, এবার তা হচ্ছে না। বিক্রি নিয়েও কোনো চিন্তা করছেন না এবার।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মাহাবুর রহমান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন পোল্ট্রি ও দুগ্ধ খামারিদের কাছ থেকে ন্যায্যদামে ডিম ও দুধ কিনে সেগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও বাজার দরের চেয়ে কমদামে এসব বিক্রি করা হচ্ছে লোকজনের মধ্যে। এর ফলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি লোকজনও সঠিক দামে কিনতে পারছেন। এছাড়াও এসব প্রাণিজ পুষ্টি মেটাতে পারছে। তাদের এই কার্যক্রম সাড়া ফেলেছে বলে দাবি করেন তিনি।

 

বাংলার কথা/মে ০২, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn