বদরগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির শিক্ষার্থী হত্যায় গ্রেপ্তার ৩

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি o

রংপুরের বদরগঞ্জে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী রুখিয়া রাউৎ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার নিজ গ্রামে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের খোর্দবাগবাড় মিশনপাড়ায় আনসার সদস্য ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এসময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত) মধুসুদন রায় ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহম্মেদ। এসময় তারা ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে আজ রংপুর ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাঁওতাল পল্লীর সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক। রুখিয়া রাউৎ এর পরিবারকে তার পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। একই সময় রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ রুখিয়া রাউৎ এর বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে সমবেদনা জানিয়ে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. আমজাদ হোসেন, ইতিহাস বিভাগের প্রধান প্রফেসর মো. সফিয়ার রহমান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর আখতারুজ্জামান চৌধুরী লাবলু, সহকারি অধ্যাপক ফিরোজুল ইসলাম, প্রভাষক রিপন মিয়া, স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার, বদরগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শ্যামল টুডু, আদিবাসী নেতা লিটন সরেন উপস্থিত ছিলেন। রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন রুখিয়া রাউৎ। তাকে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পার্বতীপুর উপজেলার পাঁচপুকুরিয়া শালবাগানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কন্যা রুখিয়া রাউৎকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়। ওইদিন সকালে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পুলিশ। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায়। সে দিনেশ রাউৎ ও সুমতি রাউৎ দম্পত্তির মেয়ে। এ ঘটনায় হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী হিসাবে আনিছুর রহমান (৩০) তার সহযোগি হিসেবে অটোচালক রাজ মিয়া(২৮) ও আশিকুজ্জামানকে(২৭) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে তারা আদালতের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় পার্বতীপুর থানায় হত্যা মামলা হয়।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রুখিয়া। বান্ধবীদের সঙ্গে একরাত থেকে পরের দিন তার ফিরে আসার কথা ছিল। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন সে আর বাড়িতে ফিরে না আসলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। অবশেষে পরের দিন মঙ্গলবার ভোরের দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ঘুনুরঘাট এলাকার পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়ার শালবাগান থেকে অজ্ঞাত একটি লাশটি উদ্ধার করে মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি। উদ্ধারের সময় নিজের ওড়না দিয়ে তার হাত-পা গলায় সঙ্গে বাঁধা ছিল। দুর্বৃত্তরা নির্দয়ভাবে হত্যার পর অটোচালিত গাড়ীতে করে সেখানে লাশটি ফেলে যায়। নিখোঁজ হওয়ার দিনে রুখিয়া রাউৎ ডায়েরিতে লিখে গেছেন তাকে হত্যা করা হতে পারে। এর জন্য সে দায়ী করে গেছেন তারই প্রতিবেশী যুবক আনিছুর রহমানকে।

বাংলার কথা/আশরাফুজ্জামান বাবু/অক্টোবর ১০ ,২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: