বইপড়া কর্মসূচিতে রাজশাহীতে ১০৮২ জন পুরস্কৃত

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচিতে নিজের উৎকর্ষতার পরিচয় দেয়ার জন্য রাজশাহীতে এক হাজার ৮২ জন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কার প্রদান করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন। আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকালে নগরীর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে উৎসব মুখর পরিবেশে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় গত বছর নগরীর ৩৪টি স্কুলের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে মূল্যায়নপর্বে যারা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে, তাদেরকে পুরস্কার প্রদানের জন্য গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় এই পুরস্কার বিতরণী উৎসবের আয়োজন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক বলেন, বাংলাদেশ ভাষাভিত্তিক একটি দেশ। বিভিন্ন দেশের ভাষা, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি শেখার প্রয়োজন আছে। শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা কথার কথা নয়। এটাই বাস্তব। এই বয়সে বহু রকমের পথের হাত ছানি দেবে। কিন্তু মানবিকতার প্রকাশ যেন ঘটে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বই সবসময়ই মানবিকতার কথা বলে। আমরা সবাই যদি মানবিক হই, দেখবো বাংলাদেশ একদিন পরিবর্তন হয়ে গেছে।

উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, রাজশাহী  বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ মনির হোসেন, নাট্যব্যক্তিত্ব খায়রুল আলম সবুজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান সরকার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নাটোর শাখার সংগঠক অধ্যাপক অলক মৈত্র, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ তাইফুর রহমান, গ্রামীণফোনের রাজশাহী হেড  অব সার্কেল  মার্কেটিং সোহেল মাহমুদ এবং বাংলাদেশ সরকারের উপসচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মোঃ মাসুদ।

Book-3

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মোঃ মাসুদ স্বাগত বক্তব্যে পুরো বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই পথ চলায় সকলের সহযোগিতা উত্তরোত্তর আরো প্রসারিত হবে এবং আগামী বছর বইপড়া কর্মসূচির সদস্য সংখ্যা আরো উন্নিত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান সরকার বলেন, মানুষের জন্য তিনটি জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হলো-বই, বই আর বই। শিক্ষার্থীদের বই পড়া কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ ব্যস্ততার মধ্যে থাকলে ভালো থাকে।

নাট্যব্যক্তিত্ব খায়রুল আলম সবুজ বলেন, বাংলাদেশে একসময় ভাল মানুষের বসবাস হবে, জ্ঞানী মানুষের বসবাস হবে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সেই কাজগুলো করে যাচ্ছে। সমৃদ্ধ দেশের জন্য সমৃদ্ধ মানুষ দরকার। তোমরাই সেই সমৃদ্ধ মানুষ। তোমরা যখন দেশের হাল ধরবে, দেখবে সত্যি সত্যিই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছে।

book-1

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নাটোর শাখার সংগঠক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অলক মৈত্র বলেন, এই দেশ মাতৃকার সেবা করে সোনার বাংলা গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি এখনো বইপড়া কার্যক্রমের সাথে যুক্ত আছি। আমরা বিশ্ব দরবারে শির উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। শির উঁচু করে দাঁড়াতে হলে বই পড়তে হবে। বই পড়লে আমাদেরকে কেউ অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারবে না।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ তাইফুর রহমান ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বই মানুষকে ধৈর্ষ্য ধরতে শিক্ষা দেয়, সৃজনশীল হতে শিক্ষা দেয়।  তিনি ছাত্রছাত্রীদের আরো বেশি বই পড়ার আহ্বান জানান।

গ্রামীণফোনের রাজশাহী অঞ্চলের হেড অব সার্কেল মার্কেটিং সোহেল মাহমুদ বলেন, সারাদেশে বইপড়া কর্মসূচি এভাবে বাড়তে থাকলে দেশ আর অন্ধকারে থাকবে না, আলোকিত হয়ে যাবে। জ্ঞান মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের চলার পথ কখনোও মসৃণ নয়। তবে এই জ্ঞান আমাদের চলার পথকে মসৃণ করে দেয়। ছাত্র-ছাত্রীদের তিনি বেশি বেশি করে বই পড়ার উপদেশ দেন।

বাংলার কথা/ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email