পোকার অত্যাচারে অতিষ্ঠ লোকজন 


নিজস্ব প্রতিবেদক (বাগমারা) o

সর্বত্র পোকা আর পোকা। কী দোকানপাট কী বাসাবাড়ি। সন্ধ্যে বেলা বৈদ্যুতিক আলো জ্বালালেই উড়ে আসছে ঝাকে ঝাকে পোকা। এই পোকা চোকে মুখে ঢুকে পড়ছে। পোকার অত্যাচারে বেশি বিপাকে পড়েছে খাবার দোকানের মালিকরা। বাধ্য হয়ে দোকানীরা তাদের দোকানের বৈদ্যতিক বাল্ব নিভিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এটি বাগমারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জের আজ রোববার সন্ধ্যার দৃশ্য।

রোববার (১৮ অক্টোবর)  সন্ধ্যার পর ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পোকার অত্যাচারে কাহিল হয়ে পড়েছে বাজারের লোকজন। শুধু বাজারের লোকজনই নয়। বাজারের আশেপাশের বাসাবাড়ির লোকজনও পোকার অত্যাচারে তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম করতে হিমসিহ খাচ্ছে। বাচ্চারা সন্ধ্যার পর টেলিভিশন দেখতে পারছে না। পারছেনা লেখাপড়া করতে। এমন অসহনীয় পোকার হাত থেকে রেহাই পেতে ভবানীগঞ্জ বাজারের অনেক দোকানী তাদের দোকানের সামনে বৈদ্যুতিক বাল্ব পলিথিন দিয়ে ঢেকে তার মধ্যে পানি দিয়ে রেখেছেন। যদিও এভাবে পোকা দমন করা বিপদজনক। অনেকে দোকানের বৈদ্যুতিক বাল্বের সামনে বিষকাঁটল ও নিমগাছের পাতা টাঙ্গিয়ে রেখেছন। কিন্তু তারপরও পোকা দমন করা যাচ্ছেনা । ঝাক বেঁধে আসছে পোকা। রাত যতই বেশি হচ্ছে পোকার অত্যাচার ততই বেড়ে যাচ্ছে। ভবানীগঞ্জ বাজারের রৌশনী হোটেলের মালিক কাউসার আলী জানান, পোকার অত্যাচারে হোটেল চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। কাষ্টমাররা খেতে পারছে না। গ্লাসে পানি দিলে পোকা পড়ে তা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ভাত তরকারি ও মিষ্টি মিষ্টান্নতে পোকা পড়ে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভবানীগঞ্জ গোডাউন মোড়ের কনফেকশনারী দোকানী আফজাল, ডাব্লি সহ ৫/৬ জন দোকানীরা জানান, সন্ধ্যে হলেই দোকানের আলো জ্বালালেই ঝাকে ঝাকে উড়ে আসছে পোকা। বাধ্য হয়ে তারা দোকানের বাল্ব নিভিয়ে রাখছেন। ভবানীগঞ্জ মাস্টার পাড়া মহল্লার গৃহিনী আয়শা খাতুন, রুবিনা খাতুন জানান, পোকার অত্যাচারে টেলিভিশন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। সমস্ত বাড়ির লাইট বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

পোকার অত্যাচারে এলাকাবাসীর এমন দূর্বিসহ জীবন যাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, সব পোকাই ক্ষতিকারক নয়। এখন বর্ষার পানি নামতে শুরু করেছে । এ সময় এমন পোকার অর্বিভাব হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমন পোকার অত্যাচার থেকে কিছুটা পরিত্রানের জন্য তিনি কোন আলো বা বৈদ্যুতিক বাল্বের আশেপাশে কোন পাত্রে সামান্য পানি রেখে তার মধ্যে সামান্য ডিটারজেন্ট (কাপড় দোয়া পাউডার) অথবা সামান্য পরিমান কেরোসিন তেল দিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে ওই পানিতে পোকা পড়া মাত্রই তা মরে যাবে।

বাংলার কথা/মাহফুজুর রহমান প্রিন্স/অক্টোবর ১৮, ২০২০

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: