পুরনো নিয়োগ বিতর্কে ভারতীয় সেনাবাহিনী !

ছবি:দি প্রিন্ট।

বাংলার কথা ডেস্ক ০ 

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৫০৯ পৃষ্ঠার একটি  অভ্যন্তরীণ অধ্যয়ন নথি থেকে ফাঁস হওয়া অংশগুলির থেকে জানা যায় যে, ২০১৫ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে দেশটির শর্ট সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) আকর্ষণীয় ও বাস্তবমুখী করে তোলার জন্য যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, সেটি এখনও ঝুলে আছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ দল সেই সময় ওই প্রস্তাবটি তৈরি করেছিল।

তবে ট্যুর অব ডিউটির আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রত্যেকের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে কারণ তিন বছর প্রশিক্ষণের পরে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। ২০১৫ সালের রিপোর্টে ভারতীয় মন্ত্রণালয় শর্ট সার্ভিস কমিশনকে বর্তমানের ১০ বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে তিন বছরের জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিক ‘ট্যুর অব ডিউটি’ বাস্তবায়নে কাজ করবে যেখানে এক বছরের প্রশিক্ষণ লাগবে। ট্যুর অব ডিউটি হবে কাশ্মীরে এবং দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলে।

ভারতীয় গণমাধ্যম দি প্রিন্ট তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ট্যুর অব ডিউটির মেয়াদ হলো তিন-চার বছর, এর মধ্যে আবার প্রশিক্ষণের সময় রয়েছে। সেনাবাহিনী যদিও গভীরভাবে এটা যাচাই করে দেখছে, তবে সিডিএস এসএসসিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

১৪ মে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেছিলেন যে, ট্যুর অব ডিউটি’র ধারণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সেটা এখন সেনাবাহিনী প্রধানের বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, এটা যদি কাজ করে, তাহলে ভালো, কিন্তু এর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘এতে এক বছরের প্রশিক্ষণ লাগবে। ট্যুর অব ডিউটি হবে কাশ্মীরে এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলে। এক বছরের প্রশিক্ষণের খরচ… একজন ব্যক্তিকে সুসজ্জিত করতে, এবং তার জন্য সবকিছু করে এবং চার বছর পরে তাকে ছেড়ে দিতে হবে। এটা কি হিসেবে মিলবে? এটা হিসেব করে দেখতে হবে।’

২০১৫ সালে বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের রিপোর্টে সার্ভিস এবং পেনশান, শৃঙ্খলা ও নজরদারি ইস্যু, পদোন্নতি এবং গোপনীয় রিপোর্ট, সামরিক বিচার প্রক্রিয়া, বেসামরিক চাকুরে এবং অন্যান্য বিতর্কের সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে ৭৫টি সুপারিশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে যে, যারা প্রতিরক্ষা সার্ভিসকে তাদের স্থায়ী পেশা হিসেবে নিতে চান না, তাদের জন্য এসএসসি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হতে পারে। একই সাথে তিন বাহিনীতে কর্মকর্তা পদে যে ঘাটতি রয়েছে, এর মাধ্যমে সে ঘাটতিও পুরণ হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, একজন বেসামরিক ব্যক্তি তার এসএসসি’র মেয়াদ শেষ করার পর বেসামরিক জগতে কাজ শুরু করাটা তার জন্য যথেষ্ট কঠিন। এটা মনে রাখতে হবে যে, সামরিক বাহিনীতে ১০ বছর কাজ করার পর যখন কোন ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়, তখন সে তার বয়স ত্রিশ আর চল্লিশের মাঝামাঝি এবং এ বয়সটাতে নতুন ইনিংস শুরু করাটা খুবই কঠিন।

সূত্র:দি প্রিন্ট।

বাংলার কথা/অ.পা/মে ২২, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email