মঙ্গলবার , ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

পাটগ্রাম সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
অক্টোবর ২৫, ২০২২ ৫:২৭ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক :
লালমনিরহাটে পাটগ্রাম উপজেলার নবীনগর-বাউরা ও জুম্মাপার সীমান্তে দুই বাংলার মিলনমেলা বসেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কালীপূজা উপলক্ষে দুই বাংলার মানুষ তাদের স্বজনদের একটু দেখতে, কথা বলাতেই দূর দূরান্তে থেকে ছুটে এসে মিলিত হচ্ছেন কাঁটাতারের বেড়ার কাছে।

শেষবারের মতো লাঠি ভর করে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছেন বৃদ্ধ হরিমন (৭০) ও মা সুমতি রানী। মেয়ে ফুলমতি (৩৫) ভারতের জামালদহ রানী নগর এলাকায় থাকেন। গত বিশ বছর পূর্বে বিয়ে হয় ভারতের কুচবিহার জেলার জামালদা রানি নগর এলাকায়। পাঁচ বছর পর বাবা-মায়ের দেখা পেয়ে ফুলমতি আবেগ আপ্লুত হয়ে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে কাঁদতে থাকেন। বাবা মা মেয়ে দেখা হয়েছে কিন্তু মেয়েকে ছুঁতে পারেননি বৃদ্ধ হরিমন।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর ) বিকালে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়াও মুসলমানসহ শত শত মানুষ দুই বাংলার আত্মীয়-স্বজন একে অপরকে একনজর দেখা ও কথা বলার জন্য ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার দুইপাশে হাজারও মানুষ ভিড় জমান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি শীতলতার কারণে সীমান্তের সানিয়াজান নদীর হাটুজল চা বাগান পেড়িয়ে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার কাছে দুই বাংলার মিলনমেলা বসে। স্বজনদের দেখে কেউবা কুশল বিনিময় করেন। আবার কাউকে কান্না করতে দেখা গেছে।

দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিনিময় হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। কেউবা নিজের আত্মীয় স্বজনের জন্য খাবার তৈরি করে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে এনে খেতে দিতে দেখা গেছে। জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার জুম্মার পার নবীনগর-বাউরা সীমান্তের মেইন পিলার ৮৪০ এর সাব পিলার কাছে ভারতীয় কুচলিবাড়ী ৪০ বিএসএফ ক্যাম্পের নিকট সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কালীপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মানুষের মধ্যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ভারতীয় কুচলিবাড়ী ৪০ বিএসএফ ক্যাম্পের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে থেকে আসা শিশু কিশোরসহ অন্যনদের মধ্যে (প্রসাদ) খাবার পরিবেশন করা হয়। দুই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন তাদের আপনজনদের দেখে আবেগ আপ্লত হন ও কুশল বিনিময় ও উভয়ে খাবার, ফল বিনিময় করেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের বালিশের গ্রামের কল্পনা রানী বলেন, তিন বছর পর নিজের বোনের সাথে দেখা করলাম এই কাঁটাতারের বেড়ার কাছে। অনেক ভালো লাগছে প্রতিবছর যেন এভাবে সুযোগ করে দেয় আমাদের দেখা করার জন্য।

হাতীবান্ধার বড়খাতা ইউনিয়ন থেকে আসা শ্রী সুদর্শন বলেন, ভারতে আমার ভাগনী থাকেন তাদের সাথে দুই বছর পর দেখা হল। অনেক ভালো লাগছে।

এ বিষয়ে বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম মিলন জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কালীপূজায় সীমান্তে মিলনমেলা বসেছে। এতে দুই বাংলার মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকবে। অনেকেই পাসপোর্ট ভিসা করতে না পেরে প্রতিবছর আশায় থাকে কালী পূজার মিলনমেলার জন্য।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ