পাকড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী জালাল

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিজস্ব প্রতিবেদক o

চলতি বছরের প্রথম কোয়াটারেই শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। বিভিন্ন দিবসে ও নববর্ষে নিজের নামে পোস্টার করে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন অনেকেই।

 

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নে এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি। অনেকেই চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের দোয়া চেয়ে পোস্টার করে টাঙ্গিয়েছেন। তবে এর মধ্যে সব থেকে বেশী জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এবং পাকড়ী আওয়ামী লীগের সদস্য জালাল উদ্দিন মাস্টার।

 

তিনি এই মেয়াদে প্রথম ইউপি সদস্য হন। তিনি শুধু ইউপি সদস্যই নন, তিনি একজন একটি স্কুলের শিক্ষকও। এছাড়াও এরমধ্যে তিন মাস ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যানের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ইউপি সদস্যদের সাথে দূরত্ব থাকায় তিনিই এখন এই ইউনিয়নের মূল ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। সেইসাথে জনগণও এখন তাকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাতকার কালে এই কথাগুলো বলছিলেন পাকড়ী ইউনিয়নের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন।

 

তিনি বলেন, তার ওয়ার্ডে সকল স্থানে তার উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষা সহায়তা প্রদান করেছেন তিনি। এছাড়াও ইউনিয়নের অন্যান্য ওয়ার্ডেও উন্নয়নের জন্য তিনি সহযোগিতা করে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেন, পাকড়ী ইউনিয়নের দলমত নির্বিশেষে সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। ইউনিয়নবাসী তাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেইসাথে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের নিকট দাবীও জানান অত্র ইউনিয়নবাসী।

 

জালাল বলেন, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা। নতুন রাস্তা করণ এবং রাস্তা সংস্কার ও এইচবিবি করণসহ নানাবিধ উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন তিনি। এছাড়াও উপযুক্ত ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে নিয়ে এসেছেন। সেইসাথে অন্যান্য ওয়ার্ডের লোকজনদের এই কাজে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন বলে তিনি জানান। তার সাথে পরিষদের কোন সদস্যর দ্বন্দ্ব নাই। তারা মিলে-মিশে কাজ করছেন বলে জানান জালাল।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে এটা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকী নেতৃবৃন্দের উপর। তারা চাইলে তিনি নির্বাচন করবেন। না চাইলে যাকেই দলীয়ভাবে মনোনীত করবেন তার হয়েই কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

 

এদিকে অত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার জনগণের মধ্যে পাকড়ী ইউপি ১নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ও সদস্য আনোয়ার হোসেন সুমন, ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবক বিপ্লব হোসেন, নুরুল হুদা ও শামীম রেজাসহ অন্যান্য সুধীজন বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের সময়ে পাকড়ী ইউনিয়নের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি।চেয়ারম্যান নিজে দুর্নীতি করে অর্থ  আত্মসাৎকরেছেন। এছাড়াও ইউপি সদস্যদের সাথে সম্পর্ক ভাল না থাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এতে ইউনিয়নের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা। এর মধ্যে জালাল অন্যান্য সদস্যদের সাথে নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াবার চেষ্ঠা করেছেন। এই ধরনের শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তি এই ইউনিয়ন পরিষদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মত দেন এবং জালাল উদ্দিন মাস্টারের হাতে নৌকার বইঠা তুলে দেয়ার দাবী জানান এলাকাবাসী।

 

এদিকে ওয়ার্ডবাসী বলেন, জালাল মেম্বর হওয়ার পর থেকে এই ওয়ার্ডে নেই মাদকের ব্যবসা ও মাদকের ছোবল। সেইসাথে অত্র ওয়ার্ডসহ পুরো পাকড়ী ইউনিয়ন এলাকায় মানুষের সমস্যা তিনি সালিশের মাধ্যমে দুর করেন। যার বিনিময়ে তিনি কোন প্রকার উৎকোচ বা অর্থ লেনদেন করেন না। সম্পূর্ণ সেবার মনোভাব নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করে চলছেন বলে জানান সাধারণ জনগণ।

 

বাংলার কথা/ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn