নাচোলে সরকারি ওয়েবসাইটে নেই প্রকল্পের তথ্য, ডিজিটাল সেবা প্রশ্নবিদ্ধ!

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

মোঃ জোহরুল ইসলাম জোহির, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ০
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিটি সরকারি অফিসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল ওয়েবসাইট। উদ্দেশ্য ছিলো সরকারি সব কার্যক্রম সম্পর্কে সার্বক্ষণিক হালনাগাদ থাকা ও জনসাধারণকে কাঙ্খিত তথ্য দেয়া। অথচ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার সকল সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসসহ চারটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ওয়েবসাইটে বাজেটসহ উন্নয়ন প্রকল্পের কোনো তথ্যই হালনাগাদ করা হচ্ছে না বছরের পর বছর। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

 

তথ্যের অবাধ প্রবাহ না থাকায় দুর্নীতির অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল। চার মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ নাচোলে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রতিটি দপ্তরের ওয়েবসাইটে সরকারি প্রকল্প ও সেবার তালিকা আপলোড দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি নজরে আনেননি।

 

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নাচোল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অফিসসমূহের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, প্রাণীসম্পদ অফিস, পিআইও অফিস, উপজলা মৎস্য অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসসহ সরকারি বেশ কয়েকটি কার্যলয়ের ওয়েবসাইটসহ নাচোল উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের অফিসের ওয়েবসাইটে নেই কোন প্রকল্পের তথ্য। সর্বশেষ তথ্য সংযোজন না থাকায় জনসাধারণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পড়তে হচ্ছে বিভ্রান্তিতে। নাগরিকরা সঠিক তথ্যের পরিবর্তে পাচ্ছে ভুল তথ্য। ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এতে পূর্ণতা পাচ্ছে না ডিজিটাল বাংলাদেশ।

 

নাচোল উপজেলা সমাজসেবা অফিস, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ অফিসের ওয়েবসাইটেও নেই কোন প্রকল্পের তথ্য। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ওয়েবসাইটে নেই ভিজিডি, প্রতিবন্ধীদের সেবার তালিকাসহ অন্যান্য সেবা সমূহের তালিকা। সরকারি দপ্তরের কিছু ওয়েবসাইট আপডেট করা হলেও সেসব সাইটে সেবার তালিকা কিংবা প্রকল্পের তথ্য নেই।

 

নাচোল সদর, কসবা, ফতেপুর ও নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে “প্রকল্পসমূহ” ক্যাটাগরিতে প্রবেশ করে দেখা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের কাবিখা, কাবিটা, টিআর, জিআর, এলজিএসপি ও এলজিইডির প্রকল্পের তথ্য সন্নিবেশন করা আছে মাত্র ২/৩টি। এসব প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে কোথায় কী হচ্ছে, এর কোন তথ্য নেই। ফলে বাস্তবতার সাথে মিলছে না ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য। অভিযোগ রয়েছে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে।

 

সচেতন মহলের অভিযোগ, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী যে তথ্যগুলো স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রকাশ করার কথা, সেগুলোও ওয়েবসাইটে নেই। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ নোটিশসহ বিভিন্ন সভার কার্যবিবরণী, উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা নেই। এছাড়া বাজেট, আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা না থাকায় সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে তথ্যপ্রাপ্তির ন্যায্য অধিকার থেকে। ফলে মাঠপর্যায়ে দুর্নীতি ও প্রকল্পের অর্থ লুটপাট বাড়ছে। ওয়েবসাইটে সকল তথ্য সংযোজনের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। তবে এর জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ, এটি কার্যকর হলে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লোপাট হবে না এবং ফাইল গায়েব করা যাবে না। ফলে এটি ঠেকানোর জন্য একটি চক্র তৈরি হয়েছে, সে জন্য তারা কাজ করছে।

 

এ বিষয়ে নাচোল সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রেজাউল করিম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খুব শ্রীঘ্রই ওয়েবসাইটে প্রকল্পের তথ্য সহ ইউনিয়ন পরিষদের কার্যবলী সম্পর্কিত তালিকা আপলোড করা হবে।

 

নাচোল উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সহকারী প্রোগ্রামার সোহেল রানা বলেন, ‘সকল দফতরকে নিজ নিজ ওয়েবসাইট হালনাগাদ কারার জন্য সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগেও চিঠি দেয়া হয়েছিলো প্রতিটি দপ্তরকে। কিন্তু কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না।’ ওয়েবসাইট হালনাগাদ করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

 

এ ব্যাপারে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সহকারি কমিশনার ( ভূমি) খাদিজা খাতুন বলেন, প্রত্যেক ওয়েবসাইট আপডেটের দায়িত্ব স্ব-স্ব দফতরের। সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা করানো হয়েছিল। ওয়েবসাইটে প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্যসহ সকল তথ্য হালনাগাদ করার জন্য প্রতিটি দফতরে চিঠিও দেয়া হয়েছে অনেক আগে।

 

বাংলার কথা/মে ১৯, ২০২১

 

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn