আজ- শনিবার, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৩রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

নাচোলে যৌতুক না পেয়ে সৈনিকের দ্বিতীয় বিয়ে

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

মোঃ জোহরুল ইসলাম জোহির, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ০
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দুই লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে সেনা সদস্য কমল কর্মকারের বিরুদ্ধে। এর আগে প্রথম স্ত্রী মানতি কর্মকারকে (২৩) বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। মানতি নাচোল সদর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গুচ্ছগ্রামের গৌরাঙ্গ কর্মকারের মেয়ে।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মানতি কর্মকারের সাথে একই এলাকার কৃষ্ণ কর্মকারের ছেলে কমল কর্মকারের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে হিন্দু ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী স্থানীয় মেম্বার ও সমাজের মাধ্যমে গতবছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর উভয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে থাকলেও কমল কর্মকারের বাবা মা বিয়ের কিছুদিন পর দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য মানতির বাবা-মাকে চাপ দেন।

 

এদিকে বিয়ের কিছুদিন পর কমল কর্মকার মানতিকে বাসায় রেখে চাকরির জন্য কর্মস্থল খাগড়াছড়ি চলে যায়। এই সযযোগে মানতি কর্মকারের ওপর কমলের বাবা-মায়ের মানসিক নির্যাতন বেড়ে যায়। সব স্বীকার করে মানতি শ^শুর বাড়িতে বাস করতে থাকে। এক পর্যায়ে মানতি কর্মকারকে কমল কর্মকারের বাবা মা যৌতুকের দুই লাখ টাকা দিতে না পারায় বাড়ি থেকে বের করে দেন।

 

গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কমল কর্মকার ও তার বাবা মা মানতি কর্মকারের বাবার বাড়িতে গিয়ে বলে, দুই লাখ টাকা যৌতুক দিলে তারা মানতিকে ঘরে তুলে নেবে। মানতির বাবা মা যৌতুকের এই টাকা দিতে না পারায় মানতি কর্মকারকে বাবার বাসায় রেখে কমল কর্মকার কর্মস্থল খাগড়াছড়ি চলে যান। সেখানে তিনি সেনাসদস্য পদে কর্মরত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মানতি কর্মকার।

 

মানতি কর্মকারের পরিবার থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যৌতুকের দুই লাখ টাকা দিতে না পারায় কমল কর্মকার মানতিকে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারোঘরিয়া এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কমল কর্মকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মানতি কর্মকার আমার চাচাতো বোন। মানতির সাথে আমার বিয়ে হয়নি। যেখানে তাকে বিয়েই করিনি, সেখানে যৌতুকের জন্য কেন চাপ প্রয়োগ করবো। মানতির পরিবার ষড়যন্ত্র করে তার ক্ষতি করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন কমল কর্মকার। তবে সংবাদটি না প্রকাশ করার জন্য তিনি এ প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন।

 

মানতি কর্মকার জানান, আমি গরীব ঘরের অসহায় মেয়ে। আমি সরকারের কাছে ন্যায় বিচার দাবি করছি।

 

মানতি কর্মকারের সাথে কমল কর্মকারের বিয়ের দিন উপস্থিত থাকা নাচোল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কাসেম জানান, গ্রামবাসী ও আমার উপস্থিতিতে মানতি কর্মকারের সাথে কমল কর্মকারের হিন্দু প্রথা অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে। শুনেছি বিয়ের পর থেকে সৈনিক কমল কর্মকার মানতির পরিবারকে যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছে।

 

নাচোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, মানতি কর্মকারের সাথে কমল কর্মকারের বিয়ে হয় সালিশের মাধ্যমে। তাদের বিয়ের বিষয়ে গ্রামবাসী সকলেই জানে।

 

বাংলার কথা/এপ্রিল ১৮, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn