আজ- শুক্রবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

নাচোলে মেঘ ডাকলেই বিদ্যুৎ থাকেনা !

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp


নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি o
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অদক্ষতার কারণে নাচোল উপজেলার প্রায় ৫৮ হাজার গ্রাহক পদে পদে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মেঘ চমকালে বা গুড়–ম গুড়–ম মেঘের শব্দ হলেই বিদ্যুৎ থাকেনা। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি একটু বজ্রপাত হলেই সরবরাহ লাইনের ইনস্যুলেটর পুড়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে জেলার অন্য কোথাও এ ধরনের ঘটনা না ঘটলেও নাচোলে বার বার একই ঘটনা ঘটছে কেন।
সূত্র জানায়,নাচোল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীন এলাকার বিদ্যুৎ লাইনগুলো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব এলাকার ঝড়-বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
খেসবা গ্রামের কৃষক ফারুক আলী জানায়,বৃষ্টি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চলে যায়। তা ছাড়া একটু দমকা বাতাস বইলে চার-পাঁচ ঘণ্টা এমনি কি কোন কোন সময় ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকালে আকাশে মেঘ ডাকার কারনে বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ ৭/৮ বার বিদ্যুৎ টেনেছে। এ যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ।
মুন্সি হয়রত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সারমিন খাতুন নামের এক শিক্ষার্থী জানান,ঝড়-বৃষ্টির অজুহাতে প্রায় সময় আমাদের খেসবা গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এ কারণে আমাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। গতকাল সোমবার রাতে ও একাধিকবার বিদ্যুৎ টানা হয়েছে।
কসবা ইউপির কাজলা গ্রামের রিতা নামের এক গ্রহিণী জানান,গত শনিবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং বৃহস্পতিবার বিকাল ২ টা থেকে রাত ৩ টা পর্যন্ত কোন পল্লী বিদ্যুৎ ছিলনা। গত কয়েকমাস ধরে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ আমরা।
পশ্চিম মির্জাপুর বাজারের ব্যবসায়ী মিঠুন জানান,বৃষ্টি শুরুর আগেই বিদ্যুৎ বন্ধ করার কারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। এ জন্য জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে আমাদের কে। আকাশে মেঘ ডাকলেই বিদ্যুৎ চলে যায়,একবার বিদ্যুৎ চলে গেল প্রায় ৪/৫ ঘন্টা বিদ্যুতের খবর নাই।
বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগ,বাড়িঘর,গাছ ও বাঁশবাগানের ওপর এলোমেলোভাবে অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপন করায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য লোকসানের মুখে পড়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির কারণে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন গ্রাহকরা। একটু জোরে বাতাস শুরু হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়।দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে বিভিন্ন এলাকা।
কাজলা বাজারের ব্যবসায়ী নিয়াজ জানান, সামান্য বৃষ্টি কিংবা বাতাস হলেই বিদ্যুৎ চলে যায় আর আসার খবর থাকে না। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিলেই বলে লাইনের সমস্যা। এ অবস্থায় কিভাবে ব্যবসা বাণিজ্য চলতে পারে।বিদ্যুৎ বন্ধ হলে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায়ও আসে না।
নাচোল পবিস এর গ্রাহকরা এখন আকাশে মেঘ দেখলেই বুঝেন বিদ্যুৎ চলে যাবে, কখন আসবে কেউ জানে না। এমনকি বিদ্যুৎ গেলে কখন আসবে সেই তথ্যও গ্রাহকদের জানাতে পারে না বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ চলে গেলে নাচোল বিদ্যুৎ বিভাগের মুঠোফোনে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ কবে আসবে তা জানার জন্য ফোন দিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত নাম্বারটি ব্যস্ত দেখায়।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন জনপ্রতিনিধি বলেন,মানুষের দুর্ভোগ আমলে নেয়না নাচোল পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ গেলে আসবে কখন,এটি জিজ্ঞেস করার জন্য মানুষও পাওয়া যায় না, ফোন দিলেও ধরে না।
বিদ্যুৎ গ্রাহক মনিরুল ইসলাম বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অদক্ষতার কারণে গ্রাহকদের প্রায়ই পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হয়। গত কয়েক মাস যাবৎ পল্লী বিদ্যুতের এই সমস্যা বিরাজমান রয়েছে।
এ বিষয়ে নাচোল পল্লী বিদ্যুৎ এর এজিএম আরব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গ্রাহককে বিদ্যুতের নিরবিচ্ছন্ন সেবা প্রদান করাই আমাদের কাজ।কিন্তু বর্তমানে কিছুদিন যাবৎ আকাশে বজ্রপাতের কারণে সরবরাহ লাইনের ইনস্যুলেটর পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে,তাই বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ কিছুক্ষণের জন্য হয়ত বন্ধ থাকে। আর আমাদের ব্যবহৃত নম্বরটিতে গ্রাহক একই সময়ে ফোন দেওয়ার কারণে কিছু গ্রাহকের ফোন রিসিভ করা সম্ভব হয় না বলে জানান।
বাংলার কথা/জোহরুল ইসলাম জহির/ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০
 

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn