নওগাঁয় পানিবন্দী ২২ হাজার পরিবার, ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি o
নওগাঁয় তৃতীয় দফায় বন্যায় শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় ১৫টি ইউনিয়নের সাড়ে ২১ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন, বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। এদিকে সরকারিভাবে বন্যা কবলিত মানুষদের মধ্যে ১২০ মেট্রিকটন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। তবে বন্যা কবলিত মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা প্রভাব খাটিয়ে স্বজদের এসব সরকারি ত্রাণ পাইয়ে দিচ্ছেন। বঞ্চিত হচ্ছে অনেকেই।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, জেলায় দ্বিতীয়বারের মতো রোপণ করা ছয় হাজার ৬১৬ হেক্টর আমন ধান এবং ১১১ হেক্টর সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া জেলায় শত শত পুকুরের মাছ বন্যায় ভেসে গেছে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় আত্রাই নদের পানি মহাদেবপুর উপজেলায় মহাদেবপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫০ সেন্টিমিটার, ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী পয়েন্টে বিপদসীমার ২২৬ সেন্টিমিটার, মান্দা উপজেলার জোতবাজার পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদের আত্রাই উপজেলার আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পয়েন্টে এখনও বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে নওগাঁয় ছোট যমুনা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ সেন্টিমিটার কমে গিয়ে বর্তমানে বিদসীমার সমান্তরালে প্রবাহিত হচ্ছে।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, চলতি বন্যায় পাঁচটি পয়েন্টে বাঁধ মেরামতের জন্যে জরুরিভাবে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছে। কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আবারও বন্যা আসায় বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
বন্যা কবলিত এলাকা হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিম, সুরেশ, রহিমা বিবিসহ অন্যরা জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানগণ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকারি ত্রাণ না দিয়ে তাদের পরিবারের লোকজন ও স্বজনদের ত্রাণসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। ফলে এলাকার বেশির ভাগ ক্ষতিগ্রস্তরা কোনো ত্রাণ পায়নি। তারা সরকারিভাবে তালিকা তৈরি করে ত্রাণ বন্টনের দাবি জানান।
এমন অভিযোগ অস্বীকার করে হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জমির উদ্দিন ও চেয়ারম্যান আব্দুর শুকুর সরদার জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের চাহিদার তুলনায় ত্রাণ কম পাওয়ায় তারা ত্রাণ বিতরণে হিমশিম খাচ্ছেন।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হালিম জানান, উপজেলায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার মানুষ গৃহপালিত গবাদি পশু এবং হাঁস মুরগী নিয়ে এখনও বন্যা কবলিত হয়ে কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। বন্যা কবলিত এক হাজার পরিবারের মধ্যে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে চাল, ডাল, তেল, লবণ, নুডলস ইত্যাদি শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে প্রায় ২ লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী বন্যা দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
আত্রাই উপজেলার নির্বাহী অফিসার সানাউল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ১৪ হাজার পরিবারের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে দেড় হাজার পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার হিসেবে চাল, ডাল, তেল, লবন, চিনি, নুডলস ইত্যাািদ শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বেশ কিছু পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল এবং উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে আরও দুই লাখ টাকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, জেলায় এখনো ৯৫ হাজার মেট্রিকটন খাদ্য, এক হাজার ২৭৭ মেট্রিকটন শুকাে খাবার ও নগদ তিন লাখ ৪৭ হাজার পাঁচশ টাকা মজুদ রয়েছে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ওয়াদুদ জানান, জেলার মধ্যে আত্রাইয়ে দুই হাজার ১৮০ হেক্টর, মান্দায় এক হাজার ৭২৫ হেক্টর, রাণীনগরে ৯২৭ হেক্টর ও সদরে ৭৩২ হেক্টরসহ জেলায় ছয় হাজার ৬১৬ হেক্টর দ্বিতীয় দফায় লাগানো আমন ধান তলিয়ে গেছে। তবে পানি বিভিন্ন এলাকা বিস্তৃত হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
বাংলার কথা/সাজ্জাদুল তুহিন/অক্টোবর ০৩, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: