নওগাঁয় অভিজ্ঞতা ছাড়াই অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক (নওগাঁ) o 
নওগাঁর নিয়ামতপুরে সরকারী বিধি মোতাবেক অভিজ্ঞতা ছাড়াই অবৈধভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলার চৌরাপাড়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ নিয়োগে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক চিঠি অত্র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও অভিযোগকারী বরাবর প্রেরণ করেন। বিষয়টি চিঠি প্রাপ্তির ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন জেলা শিক্ষা অফিসারকে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চৌরাপাড়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. নিয়ামত উল্লাহ ১৯৯৭ সালের ৫ অক্টোবর  তারিখে চৌরাপাড়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ১৫ জুলাই দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অভিজ্ঞতা হিসাবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অথবা প্রভাষক পদে ৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু নিয়ামত উল্লাহকে আলিম পর্যায়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয় ২০০৩ সালের ১ ডিসেম্বর। এত নিয়ামত উল্লাহ’র অভিজ্ঞতা তখন হয়েছিল ৬ বছর ১ মাস ২৬ দিন। সরকারী বিধি মোতাবেক অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তৎকালিন পরিচালনা কমিটি নিয়ামত উল্লাহকে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে অত্র মাদ্রাসার বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূরে আলম জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বররের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালকের একটি চিঠি পেয়েছি। সেখানেই উল্লেখ রয়েছে অধ্যক্ষ নিয়ামত উল্লাহ সরকারী বিধি মোতাবেক নিয়োগ নেন নাই। এছাড়া তিনি মাদ্রাসাকে পরিবার বানিয়ে ফেলেছেন। মাদ্রাসায় নিজে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ নেওয়ার পর ভাই, বোন, ভগ্নিপতি, ভাগ্নি জামাইকে নিয়োগ দিয়েছেন। ২০০৫ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাদ্রাসার সভাপতি থাকাকালিন নিজের চাচাকে সভাপতি বানিয়ে মাদ্রাসার জমি বিক্রয় করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া তিনি নিয়োগ বাণিজ্যসহ সব রকমের অনিয়ম করে মাদ্রাসা পরিচালনা করে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়ামত উসল্লাহ বলেন,‘ আমি যখন নিয়োগ নেই তখন আমার অভিজ্ঞতা ছিল প্রায় ৯ বছর। ৬ বছর ১ মাস ২৬ দিন এই মাদ্রাসায় এবং আগে আমি রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার সারাংপুর দাখিল মাদ্রাসায় প্রায় ৩ বছর সুপারিনটেনডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি।’
তিনি আরো জানান,‘ ১ জানুয়ারী ১৯৮২ সালে জনবল কাঠামোর এক প্রজ্ঞাপনে ৭ বছরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ ছিল। পরে ২৪ অক্টোবর ১৯৯৫ সালে তা ৮ বছর করে। আবার ১৬ জানুয়ারী ১৯৯৬ সালে ১০০৬ সালের প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে পুনরায় ১৯৮২ সালের প্রজ্ঞাপন বহাল করে। আমার কোন অবৈধভাবে নিয়োগ নেওয়া নাই।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মোবারুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, আমি তদন্তের চিঠি পেয়েছি। এমপিও এর কাজের জটিলতার কারণে তদন্ত করতে পারি নাই। খুব শীঘ্রই নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবো।
বাংলার কথা/সাজ্জাদুল তুহিন/অক্টোবর ১৩, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: