দিন বদলের নার্সারীর সফল কারিগর আব্দুল মজিদ


মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট o

নিজের মন থেকে চাইলে পরিবর্তন হওয়া সম্ভব তাঁর একমাত্র উদাহরণ লালমনিরহাটে এখন উৎকৃষ্ট নাম আব্দুল  মজিদ। তার হাতে একে একে ধরা দিয়ে চলছে নার্সারী পেশার যতসব ইতিবাচক পরিবর্তন। একজন নার্সারী ব্যবসায়ী থেকে হয়ে উঠেছেন নার্সারী গড়ার কারিগরও। শুধু কি দিন বদল কিংবা ভাগ্য পরিবর্তনই নয়, হয়েছে নার্সারী ও নার্সারীর নামটির পরিবর্তনও। আব্দুল মজিদ লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ জাওরানী গ্রামের একজন বাসিন্দা। দুই ভাই বৃক্ষ নার্সারীর প্রোপ্রাইটরও তিনি। ২ছেলে, ১মেয়ে তার। দুই ছেলের জন্যই নার্সারীর এমন নাম দিয়েছেন আব্দুল মজিদ।

অভাবের সংসারে লেখাপড়া না জানা আব্দুল মজিদ এক সময় কাপড়ের ফেরি করে বেড়াতেন। এমন এক সময় একটি আমগাছের চারা ৩শত টাকায় বিক্রি হতে দেখে খুবই ভাবনায় পড়ে যান তিনি। ভাবনার এক ফাঁকে কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনায় নার্সারী আর রংপুরে হর্টিকালচার সরেজমিনে ঘুরে আসেন আব্দুল মজিদ। এরপর বিগত ১৯৯৫ সালের দিকে নিজের অতি সামান্য জমিতে আমের চারা দিয়েই শুরু করেন নার্সারীর কার্যক্রম। এবার কাপড় ফেরির সাথে সাথেই কাস্টমারদের জানান দেন তার নার্সারীর কথা। ৩শত নয় ১শত ৫০ টাকা থেকে ২শ টাকাতেই পাওয়া যাবে একেকটি আমগাছের চারা এমনটিও জানান দেন তিনি। ফলে নার্সারীটির পরিচিতি ও আর্থিক সফলতা লাভ হয় তার।

এরপর নার্সারী সম্প্রসারণে মেয়াদের পর মেয়াদে জমি লিজ নেন আর ক্রমেই বাড়তে থাকে তার সফলতা, দুর হয় অভাব ও বেকারত্ব। তখন কাপড় ফেরির কাজকে বিদায় জানিয়ে ছুটে চলেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিত্য নতুন প্রজাতির চারা আনা-নেয়া ও বিক্রির কাজে। পরিবারটিই হয়ে উঠে বৃক্ষপ্রেমী নার্সারী পরিবার। এবার নিজের ২১শতক জমি আর বাড়ি সংলগ্ন লিজের ৭বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন ফলজ, বনজ আর ঔষধিসহ দেশি-বিদেশী নিত্য নতুন ফুল ও ফলের অসংখ্য চারা গাছের বিশাল নার্সারী। আছে মসলা জাতীয় গাছের চারাও যার আনুমানিক আর্থিকমূল্য ২০লক্ষ টাকা হবে বলেন আব্দুল মজিদ। সেটির দেখাশোনা করছে ছোট ছেলে মোশারফসহ পরিবারের নারী সদস্যরা। অন্যদিকে নার্সারী সম্প্রসারণ আর ব্যবস্থাপনার কারিগর হয়ে উঠেছেন আব্দুল মজিদ। এরই মধ্যে বড় ছেলে গোলাম মোস্তফাকে দিয়ে বড় আকারে জেলা শহরে এবং পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতেও নার্সারীর কাজ শুরু করেছেন আব্দুর মজিদ। সুযোগ সৃষ্টি করেছেন শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানেরও।

সম্প্রতি আব্দুল মজিদের নার্সারী পরিদর্শনে আসেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাও। তখন দুইভাই বৃক্ষ নার্সারীর নামটি পরিবর্তন করে রাখা হয় গ্রীণ নেটওয়ার্ক নার্সারী। নার্সারী জীবনে বেশকিছু সনদ ও পুরস্কারও লাভ হয়েছে মজিদের। তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উপকরণ ও সহায়তা এবং আর্থিক বিনিয়োগের অভাব অন্তরায় হয়ে দেখা দিয়েছে তার। অপরদিকে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে জেলা ও জেলার বাইরে চারা বিক্রিতে ভাটা পড়ায় নিজেকে ক্ষতিগ্রস্থ মনে করছেন আব্দুল মজিদ ও তার পরিবারটি।

এ অবস্থায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রয়োজনীয় তৎপরতা ও উদ্যোগ পেলে আব্দুল মজিদের গ্রীন নেটওয়ার্ক নার্সারীসহ অন্যরাও এ কার্যক্রমকে সামনে এগিয়ে নিয়ে দেশ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন নাগরিকগণ।

বাংলার কথা/ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Follow by Email
%d bloggers like this: