বুধবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৩ | ২০শে মাঘ, ১৪২৯
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খুলনা বিভাগ
  4. খেলাধুলা
  5. চট্টগ্রাম বিভাগ
  6. জাতীয়
  7. ঢাকা বিভাগ
  8. প্রচ্ছদ
  9. ফিচার
  10. বরিশাল বিভাগ
  11. বিনোদন
  12. মতামত
  13. ময়মনসিংহ বিভাগ
  14. রংপুর বিভাগ
  15. রাজনীতি

দলে দলে বিশ্ব ইজতেমায় আসতে শুরু করেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লি

প্রতিবেদক
BanglarKotha-বাংলারকথা
জানুয়ারি ১১, ২০২৩ ২:৩২ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক :
রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে টঙ্গীর কহর দরিয়াখ্যাত সোনাবানের শহর তুরাগ নদের তীরে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে আলমি শূরার তত্ত্বাবধানে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ইজতেমাকে সামনে রেখে এখন লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে তুরাগ নদের পূর্বতীর।

দুই বছর পর টঙ্গীর ময়দানে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেক মুসল্লির মুখে স্বস্তির হাসি লক্ষ্য করা গেছে। এ উপলক্ষে শিল্পনগরী টঙ্গী সেজেছে নতুন সাজে। এরই মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও বিদেশ থেকে তাবলিগ অনুসারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইস্তেমায়ি সামানা নিয়ে ময়দানে জড়ো হচ্ছেন।

১৩ জানুয়ারি ইজতেমা শুরু হলেও বুধবার থেকেই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিরা দলে দলে আসতে শুরু করেছেন এবং নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন।

শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যদিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি দুপুরে অর্থাৎ জোহরের নামাজের আগে যেকোনো এক সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে।

মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২২ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয় পর্ব তথা এবারের বিশ্ব ইজতেমা। এরই মধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদে ৫টি ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণ করেছেন। ১৬০ একর ময়দানের ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেলের কাজ, খুঁটিতে নম্বর প্লেট, খিত্তা নম্বর, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, মুকাব্বির মঞ্চ, বয়ান মঞ্চ, তাশকিল কামরা, বধির সাথিদের জন্য বিশেষ কামরা, পাহারা ও এস্তেকবালের জামাত তৈরি, হালকা নম্বর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।

তবে ইসলামি সম্মেলনে নারী-পুরুষের সহাবস্থান ইসলামি শরিয়ত বিধিসম্মত না হওয়ায় এ দফার ইজতেমার ময়দানে মাস্তুরাত (মহিলাদের) কামরা রাখা হয়নি। আগত নারী মুসল্লিরা ময়দানের চারপাশের বাসাবাড়িতে বসে মুরব্বিদের বয়ান শুনতে পারবেন।

আগত মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো ময়দানে শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক প্রায় ৩২০টি বিশেষ ছাতা মাইক, ২শ ইউনিসেফ (প্রতিধ্বনি প্রতিরোধক) মাইকসহ প্রায় সাড়ে পাচঁশ মাইক স্থাপন করা হয়েছে।

ইজতেমা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা জোরদার

বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে। পুরো ময়দানকে তিনটি সেক্টরে ভাগ করে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে ৫ হাজার ৩০ জন পুলিশসহ র্যা ব, সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। এছাড়া মুসল্লিদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরাও প্রস্তুত থাকবেন।

নিরাপত্তা জোরদার করতে র্যা বের কমিউনিকেশন উইং, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ১৯টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, নাইটভিশন গগল্স, বাইনোকুলার, বোম ডিসপোজাল টিম, এন্টিটেরোরিজম ইউনিট, হেলিকপ্টার-নৌ টহল, কুইক রেসপন্স টিম-কিউআরটি, ফরেনসিক টিম, সাইবার পেট্রোলিং, ডুবুরি দল, স্ট্রাইকিং ফোর্স, এলআইসি, পিএইচকিউ, এপিসি, জলকামান। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যা বের ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা ময়দানজুড়ে কড়া নজরদারি রাখবেন।

প্রতিটি খিত্তায় বিশেষ টুপি পরিহিত ও সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান করবেন। তারা কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতার ইঙ্গিত পেলে বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক অবহিত করবেন। এছাড়াও তারা ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের কোথায় কী হচ্ছে না হচ্ছে প্রত্যক্ষ করার জন্য ল্যাপটপ কম্পিউটারের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে বসানো ১৪টি পর্যবেক্ষণ ও ৯টি রুফটপ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক বিশ্ব ইজতেমা ময়দান পর্যবেক্ষণ করবেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বুধবার সকালে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেন। ময়দান পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা প্রদানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। আমরা আইনশৃঙ্খলাজনিত যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম। আমরা জানি না কোন দিন কী হবে। তাই সবধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন করে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। সেই আস্থাটুকু ধরে রাখার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

তিনি ইজতেমা উপলক্ষে বলেন, আমরা ইজতেমা আয়োজক কমিটির উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের মধ্যে যে মতবিরোধ সেটা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছি। তারা আমাদের কথা দিয়েছেন, ইজতেমায় একপক্ষ অপরপক্ষকে সহযোগিতা করবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে উভয়পক্ষ আমাদের সহযোগিতা করবেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (টুরিস্ট) হাবিবুর রহমান, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন জানান, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ময়দান ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারলেস ফ্রিকোয়েন্সির আওতায় আনা হয়েছে। অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবেলায় ময়দানের প্রতিটি খিত্তায় ফায়ার এক্সটিংগুইসার, ফায়ার হুক, ফায়ার বিটারসহ দুইজন করে ফায়ার ফাইটার দায়িত্ব পালন করবেন। তুরাগ নদীসহ ময়দানের চারপাশে ১৪টি পোর্টেবল পাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও ময়দানের বিভিন্ন স্থানে ৪টি পানিবাহী গাড়ি, রোগী পরিবহণে ৫টি অ্যাম্বুলেন্স, সহজে বহনযোগ্য স্পিডবোট, পিকআপে ডুবুরি দল, বেশ কয়েকটি টু হইলার, ১৩টি জেনারেটর এবং লাইটিং ইউনিট মোতায়েন থাকবে। পুরো ময়দানে ফায়ার সার্ভিসের ৩৬১ জন কর্মকর্তা ও ফায়ার ফাইটার মোতায়েন থাকবেন। ময়দানে ফায়ার কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও টঙ্গী, উত্তরা ও জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনগুলো স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।

মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে প্রথম পর্বে ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম। আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবায় ময়দানের হোন্ডা কারখানা গেট, বাটা সু গেট, মুন্নু গেট, বিদেশি তাবু ও রেলওয়ে জংশনে স্থাপিত ৫টি মেডিকেল ক্যাম্প থেকে ২৪ ঘণ্টা মুসল্লিদের বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য হাসপাতালে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, বক্ষব্যাধি/অ্যাজমা ইউনিট, হৃদরোগ ইউনিট, ট্রমা (অর্থোপেডিক) ইউনিট, বার্ন ইউনিট, ডায়রিয়া ইউনিট, স্যানিটেশন টিম এবং ১৪টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও ইজতেমা উপলক্ষে ৭টি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে।

বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ

ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পূর্ব কোণে নিউ মন্নু ফাইন কটন মিলস স্কুলে স্থাপিত বিনামূল্যে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো প্রতিবারের মতো এবারো ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা দেবে। ১২ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয়পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আসা অসুস্থ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিতরণ করবে।

এছাড়াও টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ, ইবনে সিনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, র্যা ব, ইমাম সমিতিসহ অর্ধশতাধিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তাদের তৈরিকৃত স্টলে বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করবে।

বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজ হান্নান জানান, ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমপর্বে অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ময়দানে স্ব-স্ব খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিপুল পরিমাণ মেহমান ময়দানে হাজির হয়েছেন।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ

আপনার জন্য নির্বাচিত