আজ- রবিবার, ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
বাংলার কথা
Header Banner

সংঘর্ষের পর ফের সংঘর্ষ, থমথমে আড়ানীতে কাল ভোট

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা (রাজশাহী) ০
আগামিকাল শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৩ জানুয়ারি বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায়-দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল নিক্ষেপ ও গুলি বিনিময়ের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রার্থীদের নিয়ে সেমিনার করেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। তার পরও বৃহস্পতিবার রাতে ফের সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

 

সংঘাতে আহত ৪ নম্বর আড়ানী নুরনগর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান (৪৫) ও তার ভাগ্নে আরিফকে (৩৫) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক দুটি ঘটনার পর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে আড়ানী পৌর এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বাজার এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। চলছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের টহল। রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল দল।

 

আড়ানী নুরনগর গ্রামের লোকজন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আকষ্মিকভাবে বজলুর বাড়ির সামনে শোরগোল শুনতে পাই। সেখানে গিয়ে দেখি বজলুর রহমান ও তার ভাগ্নে আরিফ আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ সময় বজলুর রহমানের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে আশিক সহ তার লোকজন ‘টাকা দিবি না, যাবি কই’ বলে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

 

 

আশিক বলেন, ‘আমরা সবাই নৌকার ভোট করছি। বজলু ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সে এবং তার ভাগ্নের প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা এনে সেই টাকার ভাগ না দেয়ায় তাকে মারপিট করা হয়েছে।’ তবে বজলু দাবি করেছেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাদের মামা-ভাগ্নে গনাকে মারধর করেছে আশিক, শাকিল, সজল, হাফেজ ও রাজিত।

 

 

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আড়ানী বাজারের তালতলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মেয়র প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদের নির্বাচনী পথসভায় কাটাখালি পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলীর উস্কানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহীদ ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তারের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ঘটনার রাতেই বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

 

 

আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী শহীদুজ্জামান শাহীদ জানান, বুধবার রাতের সংঘর্ষে তাঁর কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত তুষার আলী ও লাল্টকে পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়ার পর রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মুক্তার আলী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত পাশ করবো জেনে শহীদুজ্জামান শাহীদ তাঁর লোকজন দিয়ে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় আমি নিজে সহ আমার কর্মী নাজমুল হক, রানা, বকুল, মজনু, খোকন, ফারুক, জিসান, হৃদয়, জাহিদ, রাজু ও আরিফুলসহ ১৩ জন আহত হই। এদের মধ্যে নাজমুলের অবস্থা গুরুতর। তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

 

স্থানীয় লোকজন বলেন, দুই পক্ষের দফায়-দফায় সংঘর্ষে রাস্তার পাশের বেশ কিছু সবজির দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রাতের ঘটনার পর থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আতঙ্কে কোনো ব্যবসায়ী তাদের দোকান খোলেনি।

 

 

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, বুধবার রাতে উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশ এবং র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বজলু ও তার ভাগ্নেকে মারপিটের ঘটনায় কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আড়ানী পৌর বাজার এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারকে নিয়ে বৃহস্পতিবার আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদে সকল প্রার্থীদের নিয়ে সেমিনার করা হয়েছে।

 

 

উপজেলা নির্বাচন অফিসার মজিবুল আলম জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সফল করার লক্ষে ইতোমধ্যে সকল ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আড়ানী পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহিৃত করা হয়েছে।

 

 

আড়ানী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে সরকারি হিসেবে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সংবাদ সম্মেলন করে একজন মেয়র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে মেয়র পদে রয়েছেন ৩ জন। এরা হলেন আওয়ামী লীগের শহীদুজ্জামান শাহীদ, দলের বিদ্রোহী মুক্তার আলী ও বিএনপির তোজাম্মেল হোসেন। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ পৌরসভায় মোট ভোটার ১৩ হাজার ৮৮৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ হাজার ৮৭৮ ও নারী ভোটার ৭ হাজার ১০৬।

 

 

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/জানুয়ারি ১৫, ২০২১

এই রকম আরও খবর

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn